কারাগার থেকে মুক্তি পেলেন সাংবাদিক আনিস আলমগীর
মেলবোর্ন, ১৪ মার্চ- জামিনে মুক্তি পেয়েছেন সাংবাদিক আনিস আলমগীর। শনিবার (১৪ মার্চ) দুপুর ২টা ৩৫ মিনিটে গাজীপুরের কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগার-২ থেকে তিনি জামিনে…
মেলবোর্ন, ১২ মার্চ- প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশে (পিআইবি) ভুয়া বিল–ভাউচার তৈরি করে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ ঘিরে নতুন করে বিতর্কে জড়িয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ। একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের পর অভিযোগ অস্বীকার করলেও নতুন নথিপত্র ও তথ্য সামনে আসায় বিষয়টি আরও জটিল আকার নিয়েছে।
অনুসন্ধানে দাবি করা হয়েছে, ২০২৫ সালের ১৮ ও ১৯ ফেব্রুয়ারি পিআইবিতে কোনো সেমিনার অনুষ্ঠিত না হলেও সেই সেমিনারের নামে ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরি করে অর্থ তোলা হয়েছে। এ নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনের পর ফারুক ওয়াসিফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে প্রতিবেদনটিকে “মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত” বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, ওই দুই দিনে পিআইবিতে কোনো সেমিনার হয়নি, ফলে অর্থ তছরুপের অভিযোগও ভিত্তিহীন।
পরবর্তীতে তিনি একটি আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদপত্র পাঠিয়ে একই দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন। তবে অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে জমা দেওয়া উৎস করের নথিতে ওই দুই দিনের সেমিনার-সংক্রান্ত ব্যয়ের স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে।
অনুসন্ধানকারী দল জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে জমা দেওয়া মোট ৫৩টি ‘অর্থ জমা নগদ স্লিপ’ সংগ্রহ করে। এসব নথিতে দেখা যায়, ২০২৫ সালের ১৮ ও ১৯ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত দুটি সেমিনারের বিভিন্ন খাতে ব্যয়ের বিপরীতে উৎস কর প্রদান করা হয়েছে। দাওয়াত কার্ড ছাপানো, খাবার, নাশতা, স্টেশনারি, গাড়িভাড়া এবং রিসোর্স পারসন সম্মানিসহ বিভিন্ন খাতের উল্লেখ রয়েছে সেখানে।
এসব কর জমা দিয়েছেন পিআইবির সিনিয়র রিসার্চ অফিসার গোলাম মুর্শেদ। তিনি সোনালী ব্যাংকের ভিকারুন্নেসা নূন স্কুল শাখার মাধ্যমে কর জমা দেন। নথিতে মোট দুই লাখ ৮২ হাজার ৬০০ টাকা উৎস কর প্রদানের তথ্য পাওয়া গেছে।
সরকারের নির্ধারিত অনলাইন চালান যাচাই ওয়েবসাইটে ট্র্যাকিং নম্বর দিয়ে যাচাই করলে এসব চালানের সত্যতা পাওয়া গেছে বলেও অনুসন্ধানে দাবি করা হয়েছে।
অনুসন্ধানে আরও বলা হয়েছে, সেমিনারের খাবারের জন্য রাজধানীর শান্তিনগরের একটি রেস্তোরাঁর নামে বিল দেখানো হলেও সংশ্লিষ্ট রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষ সেই বিলের সত্যতা নিশ্চিত করতে পারেনি। একইভাবে আলোচকদের সম্মানির জন্য যে প্রাপ্তি স্বীকারপত্র দেখানো হয়েছে, সংশ্লিষ্ট কয়েকজন আলোচক পরে জানান, তাঁরা এমন কোনো সেমিনারে অংশ নেননি।
তদন্তে আরও দাবি করা হয়েছে, সেমিনারের বিভিন্ন খাতে খরচ দেখিয়ে ১৮ ফেব্রুয়ারির জন্য ১৫টি চালান এবং ১৯ ফেব্রুয়ারির জন্য ১৩টি চালান জমা দেওয়া হয়েছে।
ফারুক ওয়াসিফের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, আলোচিত অর্থের বড় অংশ তথ্যচিত্র নির্মাণে ব্যয় করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে ‘গুপী বাঘা প্রোডাকশনস লিমিটেড’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের বিল দেখানো হয়েছে।
তবে অনুসন্ধানে বলা হয়েছে, ওই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কোনো টেন্ডার, ওয়ার্ক অর্ডার বা আনুষ্ঠানিক চুক্তির নথি পাওয়া যায়নি। প্রযোজক সৌমিত্র পার্থ জানিয়েছেন, তাঁদের প্রায় ২৪ লাখ টাকার বিল থেকে ভ্যাট-ট্যাক্স কেটে প্রায় ১৯ লাখ টাকা নগদে পরিশোধ করা হয়েছে। ব্যাংকিং চ্যানেল ব্যবহার করা হয়নি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সরকারি আর্থিক বিধি অনুযায়ী এ ধরনের অর্থ লেনদেন সাধারণত ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে হওয়ার কথা বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
অনুসন্ধানে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, কিছু নথি ও চেকের তারিখ ফেব্রুয়ারি মাসে দেখানো হলেও টাকা উত্তোলন করা হয়েছে জুন মাসে। অর্থবছর শেষ হওয়ার আগে দ্রুত টাকা তোলার জন্যই এভাবে ‘ব্যাকডেটিং’ করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।
এছাড়া একটি পুরনো ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে টাকা উত্তোলনের ঘটনাও সামনে এসেছে, যেখান থেকে দীর্ঘদিন কোনো চেক ইস্যু হয়নি বলে জানা গেছে।
এসব অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে পিআইবির মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সঠিক নয় এবং তিনি ইতিমধ্যে প্রতিবাদপত্রে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন। তিনি দাবি করেন, বোর্ড মিটিংয়ে উপস্থিত সদস্য ও অডিট টিম নথিপত্র যাচাই করেছে এবং সেখানে কোনো অনিয়ম পাওয়া যায়নি।
তবে ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরি ও উৎস কর প্রদানের বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে তিনি টেলিফোনে কথা বলতে অনীহা প্রকাশ করেন।
পিআইবির অভ্যন্তরীণ কয়েকজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, আলোচিত অনুষ্ঠানগুলোর প্রকৃত ব্যয় ছিল সর্বোচ্চ সাত থেকে আট লাখ টাকা। অথচ নথিতে প্রায় ২৪ লাখ টাকার ব্যয় দেখানো হয়েছে।
এ ঘটনায় সরকারি অর্থ ব্যবস্থাপনা, টেন্ডার প্রক্রিয়া এবং আর্থিক স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্ট মহলে মনে করা হচ্ছে, অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত হলে পুরো বিষয়টি স্পষ্ট হতে পারে।
সুত্রঃ কালের কন্ঠ
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au