মেলবোর্ন, ১৪ মার্চ- বাগেরহাটের রামপালে নৌবাহিনীর স্টাফ বাস ও একটি মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে বর–কনেসহ ১৪ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন। শুক্রবার বিকেলে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ কমিটি গঠনের ঘোষণা দেওয়া হয়।
জেলা প্রশাসনের সূত্র জানায়, বাগেরহাটের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মেজবাহ উদ্দিনকে প্রধান করে গঠিত এই কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) বাগেরহাটের সহকারী পরিচালক লায়লাতুল মাওয়া এবং জেলা পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।
জেলা প্রশাসক গোলাম মোহাম্মদ বাতেন জানিয়েছেন, তদন্ত কমিটিকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান করে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে প্রয়োজনীয় সুপারিশও করতে বলা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, দুর্ঘটনায় নিহতদের প্রতিটি পরিবারকে সরকারের পক্ষ থেকে ৫০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। পাশাপাশি বর ও কনের দাফনের জন্য অতিরিক্ত ৪০ হাজার টাকা দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বিআরটিএর দুর্ঘটনা ক্ষতিপূরণ তহবিল থেকে নিয়ম অনুযায়ী নিহতদের পরিবারকে আরও আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।
প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার বিকেলে খুলনা–মোংলা মহাসড়কের বেলাই ব্রিজ এলাকায় নৌবাহিনীর স্টাফ বাস ও একটি মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। পরিবারের আবেদনের প্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই নিহতদের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
শুক্রবার জুমার নামাজের আগে ও পরে পৃথক জানাজা শেষে নিহতদের নিজ নিজ এলাকায় দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
নিহতদের মধ্যে বর আহাদুর রহমান ছাব্বির, তার বাবা আব্দুর রাজ্জাকসহ পরিবারের নয় সদস্যের জানাজা মোংলা উপজেলা পরিষদ মাঠে অনুষ্ঠিত হয়। পরে তাদের মোংলা কবরস্থানে দাফন করা হয়।
অন্যদিকে কনে মার্জিয়া আক্তার মিতুসহ তার পরিবারের চার সদস্যকে খুলনার কয়রা এলাকায় দাফন করা হয়েছে। এছাড়া মাইক্রোবাসের চালক নাঈমের দাফন সম্পন্ন হয়েছে রামপাল উপজেলার নিজ গ্রামে।
জানা গেছে, নিহত বর আহাদুর রহমান ছাব্বির মোংলায় মোবাইল ফোন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। আর কনে মার্জিয়া আক্তার মিতু স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় আলিম প্রথম বর্ষে অধ্যয়নরত ছিলেন। এই দুর্ঘটনায় দুটি পরিবারসহ পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।