পাশাপাশি কবরে শায়িত একই পরিবারের ৯ জন
মেলবোর্ন, ১৩ মার্চ- মোংলা-খুলনা মহাসড়কে ঘটে যাওয়া ভয়ঙ্কর সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের নয়জন সদস্য একসাথে মারা যাওয়ার ঘটনা পুরো এলাকায় শোকের ছায়া ফেলেছে। বৃহস্পতিবার রাতে…
মেলনোর্ন, ১৩ মার্চ- বাংলাদেশে হিন্দু ও অন্যান্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর গত প্রায় ১৮ মাসে তিন হাজারের বেশি সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেছে ভারত সরকার। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্যের বরাত দিয়ে এই সংখ্যা ভারতের সংসদের উচ্চকক্ষ ভারতের রাজ্যসভা–য় তুলে ধরা হয়েছে।
ভারতীয় সংবাদ সংস্থা পিটিআইয়ের খবরে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার রাজ্যসভায় এক প্রশ্নের লিখিত জবাবে এ তথ্য জানান ভারতের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী পবিত্র মার্গেরিটা। তিনি বলেন, ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময়ের মধ্যে বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের বাড়িঘর, সম্পত্তি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং উপাসনালয়ে হামলার প্রায় ৩১০০টি ঘটনা মানবাধিকার সংগঠনগুলোর প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
তবে রাজ্যসভায় দেওয়া ওই জবাবে এসব ঘটনার বিস্তারিত তালিকা বা সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান তুলে ধরা হয়নি। কোন কোন এলাকায় কতগুলো ঘটনা ঘটেছে বা সেগুলোর ধরন কী ছিল, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট তথ্যও সেখানে উল্লেখ করা হয়নি।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী পবিত্র মার্গেরিটা বলেন, বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর সহিংসতার ঘটনাগুলো ভারত সরকার নিয়মিতভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। একই সঙ্গে এসব ঘটনার বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে আলোচনা করা হচ্ছে এবং সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষার বিষয়টি ঢাকার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, বিষয়টি শুধু দ্বিপক্ষীয় পর্যায়েই নয়, ভারতের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক অংশীদারের সঙ্গেও আলোচনা করা হচ্ছে। ভারত সরকারের প্রত্যাশা, বাংলাদেশ সরকার এসব ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করবে এবং সংখ্যালঘু হত্যা, অগ্নিসংযোগ ও সহিংসতার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনবে।
পবিত্র মার্গেরিটা তার বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশে বসবাসকারী সব নাগরিকের জীবন, স্বাধীনতা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রধান দায়িত্ব বাংলাদেশ সরকারের ওপরই বর্তায়। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে ভারত আশা করে।
একই জবাবে তিনি জানান, বাংলাদেশে অবস্থানরত ভারতীয় নাগরিকদের প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করার জন্য ঢাকায় অবস্থিত ভারতীয় মিশনগুলো সক্রিয় রয়েছে। কোনো জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সহায়তা দেওয়ার জন্য ২৪ ঘণ্টা চালু থাকা বিশেষ জরুরি হেল্পলাইনও চালু রাখা হয়েছে।
২০২৪ সালের আগস্টে গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকেই বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কে কিছুটা টানাপড়েন তৈরি হয়। সেই সময় থেকে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়, বিশেষ করে হিন্দুদের ওপর নিপীড়নের অভিযোগ বিভিন্ন সময়ে তুলে ধরে আসছে ভারত সরকার।
তবে বাংলাদেশের তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার বরাবরই এসব অভিযোগকে ‘ঢালাও’ বলে উল্লেখ করে তা অস্বীকার করেছে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে সহিংসতার যেসব অভিযোগ তোলা হচ্ছে তার অনেকগুলোরই সুনির্দিষ্ট প্রমাণ নেই এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অভিযোগ পাওয়া মাত্রই তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au