মালদ্বীপে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে ৫ বাংলাদেশি নিহত
মেলবোর্ন, ১৩ মার্চ- মালদ্বীপের ধীগুরা দ্বীপে একটি নির্মাণাধীন প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকদের আবাসিক কক্ষে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ঘটনায় পাঁচজন প্রবাসী বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত…
মেলবোর্ন, ১৩ মার্চ- লেখক, গবেষক ও মানবাধিকারকর্মী শাহরিয়ার কবির–এর অবিলম্বে জামিন এবং তার জন্য যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন বিভিন্ন দেশের প্রায় ৭০ জন ব্যক্তি ও ১৫টি সংগঠন। চিঠিতে তার শারীরিক অবস্থার অবনতির বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষের সদস্য লর্ড রামি রেঞ্জার এবং নিম্নকক্ষের সদস্য বব ব্ল্যাকম্যান পৃথকভাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান–কে চিঠি দিয়ে কারাবন্দি শাহরিয়ার কবিরের স্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন অঙ্গনের ৬৮ জন প্রতিনিধি এবং ১৫টি মানবাধিকার সংগঠনও আলাদা একটি চিঠিতে একই দাবি জানিয়েছে।
গত বছরের জুলাই অভ্যুত্থানের পর ১৭ সেপ্টেম্বর রাতে রাজধানীর বনানী এলাকা থেকে শাহরিয়ার কবিরকে আটক করা হয়। পরে জুলাই আন্দোলনের সময়কার একাধিক মামলায় পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার দেখায়। এরপর থেকে এই মানবাধিকারকর্মী ও চলচ্চিত্র নির্মাতা কারাগারে রয়েছেন। এসব মামলায় তাকে একাধিকবার রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তবে জামিনের আবেদন জানানো হলেও তা এখন পর্যন্ত মঞ্জুর হয়নি।
প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো চিঠিতে লর্ড রামি রেঞ্জার লিখেছেন, তার কাছে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী ২০২৪ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর শাহরিয়ার কবিরকে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি বলেন, অভিযোগগুলো বিশেষভাবে উদ্বেগজনক, কারণ ন্যায়বিচার, মানবাধিকার এবং আন্তর্জাতিক অপরাধের জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার পক্ষে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় ভূমিকা রেখে আসছেন শাহরিয়ার কবির। সারাজীবন তিনি নৃশংসতা, উগ্রবাদ এবং সব ধরনের সাম্প্রদায়িক সহিংসতার বিরুদ্ধে সোচ্চার কণ্ঠ হিসেবে পরিচিত।

চিঠিতে তিনি আরও উল্লেখ করেন, শাহরিয়ার কবিরের বর্তমান স্বাস্থ্য পরিস্থিতি এবং কারাবন্দি অবস্থার বিষয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে তিনি গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। তিনি জানান, শাহরিয়ার কবির হুইলচেয়ারের সাহায্যে চলাফেরা করেন এবং গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছেন। কারাগারে থাকার সময় তার স্বাস্থ্য পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে বলে জানা গেছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে, তিনি একাধিকবার হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছেন এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা পাননি।
লর্ড রামি রেঞ্জার বলেন, পরিস্থিতির গুরুত্ব এবং মানবিক দিক বিবেচনা করে তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছেন, যেন চিকিৎসার জন্য শাহরিয়ার কবিরকে অবিলম্বে জামিন দেওয়া হয় এবং তার যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করা হয়। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে করা মামলাগুলো পুনর্বিবেচনা করে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী ন্যায়সংগত বিচার নিশ্চিত করারও আহ্বান জানান তিনি।
হাউস অব কমন্সের সদস্য বব ব্ল্যাকম্যানও তার চিঠিতে শাহরিয়ার কবিরের স্বাস্থ্যের অবনতির খবর নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, কারাগারে কয়েকবার হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার পাশাপাশি শাহরিয়ার কবিরের ওজন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে এবং তিনি প্রায় দাঁড়াতেও পারছেন না।
তিনি বলেন, পরিস্থিতির গুরুত্ব এবং মানবিক বিবেচনায় সরকারের উচিত অবিলম্বে তাকে জামিন দেওয়া এবং তার প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলো পুনর্বিবেচনা করে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।
মানবাধিকার সংগঠন জেনোসাইট ওয়াচ–এর প্যাডে পাঠানো আরেকটি চিঠিতে সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি গ্রেগরি এইচ স্ট্যান্টন লিখেছেন, মানবাধিকার ও গণহত্যা প্রতিরোধে কাজ করা সংগঠনসমূহ, মানবাধিকারকর্মী এবং গণহত্যা গবেষকদের পক্ষ থেকে তারা এই চিঠি লিখছেন। বর্তমানে কেরানীগঞ্জে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি শাহরিয়ার কবিরের আটকাবস্থা এবং তার স্বাস্থ্য পরিস্থিতির অবনতির বিষয়ে তারা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছেন।
চিঠিতে বলা হয়, ৭৫ বছর বয়সী লেখক, সাংবাদিক, চলচ্চিত্র নির্মাতা ও মানবাধিকারকর্মী শাহরিয়ার কবির ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা, ধর্মনিরপেক্ষ মূল্যবোধের প্রসার এবং ধর্মীয় বহুত্ববাদের পক্ষে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করার জন্য আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত। মানবাধিকার, গণহত্যার জবাবদিহিতা এবং শান্তি নিয়ে তিনি বহু বই লিখেছেন এবং প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণ করেছেন।
চিঠিতে আরও বলা হয়, শাহরিয়ার কবিরের বিরুদ্ধে একাধিক হত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মহল এবং গণহত্যা গবেষকদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ২০২৫ সালের অক্টোবরে জাতিসংঘের ওয়ার্কিং গ্রুপ ও আরবিট্রারি ডিটেনশন তার আটককে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সনদের লঙ্ঘন হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
এছাড়া কারাগারে শাহরিয়ার কবিরের স্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতেও স্বাক্ষরকারীরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তার শারীরিক অবস্থা দ্রুত অবনতির দিকে যেতে পারে এবং কারাগারের পরিবেশ তার জন্য আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। তাকে হুইলচেয়ার ব্যবহারের সুযোগ না দেওয়া এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা না পাওয়ার বিষয়টিও উদ্বেগের কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে পাঠানো চিঠিতে স্বাক্ষরকারীরা বলেন, মানবিক বিবেচনায় শাহরিয়ার কবিরকে অবিলম্বে জামিন দেওয়া উচিত এবং তার জন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে তাকে হুইলচেয়ার সহায়তা দেওয়া এবং উপযুক্ত হাসপাতালে চিকিৎসার ব্যবস্থা করার আহ্বান জানানো হয়।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au