অস্ট্রেলিয়া

অস্ট্রেলিয়ায় ওয়ান নেশনের উত্থান, বড় দলগুলোর প্রতি আস্থা কমছে কেন

  • 11:59 pm - March 17, 2026
  • পঠিত হয়েছে:১৮১ বার
অস্ট্রেলিয়ার পার্লামেন্ট। ছবিঃ সংগৃহীত

মেলবোর্ন, ১৭ মার্চ- অস্ট্রেলিয়ার রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে সাম্প্রতিক এক জনমত জরিপ। ‘রিজলভ’ জরিপের সর্বশেষ ফলাফলে দেখা গেছে, দেশটির দুই প্রধান রাজনৈতিক দল—লেবার পার্টি ও কোয়ালিশনের প্রতি ভোটারদের আস্থা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। উভয় দলের প্রাথমিক ভোটহার নেমে এসেছে ৩০ শতাংশের নিচে, যা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে গভীর অসন্তোষের প্রতিফলন।

জরিপ অনুযায়ী, এই অসন্তোষের বড় সুবিধাভোগী হয়ে উঠেছে ছোট দল ‘ওয়ান নেশন’। দলটির সমর্থন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৪ শতাংশে, অর্থাৎ প্রতি চারজন ভোটারের একজন এখন এই দলটির প্রতি সমর্থন জানাচ্ছেন। গত এক বছরে দলটির সমর্থন প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে, যা অস্ট্রেলিয়ার রাজনৈতিক বাস্তবতায় বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ওয়ান নেশনের এই উত্থান কোনো সাময়িক ঘটনা নয়, বরং এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক প্রবণতার প্রতিফলন। দলটির নেতা পলিন হ্যানসনের সরাসরি ও স্পষ্ট বক্তব্য ভোটারদের একটি বড় অংশকে আকৃষ্ট করছে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতিতে সক্রিয় থাকায় অনেক ভোটারের কাছে পরিচিত মুখ, যা প্রধান দলগুলোর বিরুদ্ধে প্রতিবাদী ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে একটি সহজ বিকল্প হিসেবে কাজ করছে।

অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ। ছবিঃ সংগৃহীত

জরিপে দেখা গেছে, লেবার পার্টির প্রাথমিক ভোট ২৯ শতাংশে নেমে এসেছে, যা এক মাসে তিন শতাংশ কমেছে। অন্যদিকে কোয়ালিশনের সমর্থন কমে দাঁড়িয়েছে ২২ শতাংশে, যা ওয়ান নেশনের চেয়েও কম। এই পরিস্থিতি অস্ট্রেলিয়ার দুই দলভিত্তিক রাজনৈতিক কাঠামোর জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ওয়ান নেশন এখন প্রধান দলগুলোর সমকক্ষ অবস্থানে পৌঁছে গেছে, যা অতীতে খুব কমই দেখা গেছে। যদিও কোয়ালিশন ও লেবার পার্টির মতো বড় সংগঠন ও অবকাঠামো তাদের নেই, তবুও ভোটারদের আচরণে পরিবর্তন এই নতুন বাস্তবতা তৈরি করেছে।

আসন্ন সাউথ অস্ট্রেলিয়া অঙ্গরাজ্যের নির্বাচনে এই প্রবণতার পরীক্ষা হতে পারে। যদিও লেবার পার্টি এগিয়ে রয়েছে, তবে ওয়ান নেশন সেখানে শক্তিশালী বিরোধী দল হিসেবে আবির্ভূত হতে পারে কি না, সেটিই বড় প্রশ্ন।

ফেডারেল পর্যায়ে দেখা যাচ্ছে, ওয়ান নেশন শুধু কোয়ালিশনের ভোটই টানছে না, বরং লেবার পার্টির সমর্থকদের মধ্য থেকেও সমর্থন পাচ্ছে। দলটির প্রভাব ঐতিহ্যগতভাবে কুইন্সল্যান্ড ও আঞ্চলিক এলাকায় বেশি থাকলেও এখন তা শহরতলি এলাকাতেও বিস্তৃত হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির চাপ বর্তমানে ভোটারদের প্রধান উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে। এর ফলে ক্ষমতাসীন লেবার পার্টি ভোটারদের ক্ষোভের মুখে পড়ছে। তবে এই ক্ষোভের ভোট সরাসরি বিরোধী কোয়ালিশনের কাছে না গিয়ে ওয়ান নেশনসহ অন্যান্য ছোট দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের দিকে যাচ্ছে, যা রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে দিচ্ছে।

তবে জরিপে সমর্থন বাড়লেও নির্বাচনে আসন জেতা ওয়ান নেশনের জন্য সহজ হবে না। নিম্নকক্ষে জয়ী হতে হলে একটি দলকে ৫০ শতাংশের বেশি সমর্থন পেতে হয়, যা ছোট দলগুলোর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। এজন্য তাদের অন্য দলগুলোর ভোটারদের পছন্দক্রমভিত্তিক সমর্থনও প্রয়োজন হয়।

অস্ট্রেলিয়ার ডানপন্থী দল ওয়ান নেশনের নেতা পলিন হ্যানসন। ছবিঃ সংগৃহীত

সিনেটে পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে সহজ, কারণ সেখানে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব ব্যবস্থায় কম ভোট পেলেও আসন পাওয়া সম্ভব। বর্তমান সমর্থনের ভিত্তিতে ওয়ান নেশন সিনেটে ভালো অবস্থান তৈরি করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

কোয়ালিশন ইতোমধ্যে ওয়ান নেশনের সঙ্গে সমঝোতার ইঙ্গিত দিলেও লেবার পার্টি এমন কোনো পদক্ষেপ নেবে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। পাশাপাশি অনেক ভোটার দলীয় নির্দেশনা মেনে পছন্দক্রম নির্ধারণ করবেন কি না, সেটিও একটি বড় প্রশ্ন।

বিশ্লেষকদের মতে, ওয়ান নেশনের উত্থান হয়তো তাদের সরাসরি ক্ষমতায় না আনলেও এটি কোয়ালিশনের জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। কারণ, ভোট বিভক্ত হয়ে গেলে কোয়ালিশনের পক্ষে সরকার গঠন কঠিন হয়ে উঠবে।

এদিকে কোয়ালিশনের অভ্যন্তরীণ দুর্বলতা এবং ডানপন্থী দলগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতা রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। ফলে একটি দুর্বল জনপ্রিয়তা থাকা সত্ত্বেও ক্ষমতাসীন সরকার নির্বাচনে এগিয়ে থাকতে পারে।

সব মিলিয়ে বিশ্লেষকদের ধারণা, অস্ট্রেলিয়ার রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা দুই দলভিত্তিক আধিপত্য এখন বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। ওয়ান নেশনের এই উত্থান যদি নির্বাচনের দিন পর্যন্ত অব্যাহত থাকে, তবে দেশটির রাজনৈতিক মানচিত্র স্থায়ীভাবে বদলে যেতে পারে।

সূত্রঃ ডেইলি মেইল

এই শাখার আরও খবর

গোপালগঞ্জে কনসার্টে শেখ হাসিনার পক্ষে স্লোগান, সন্ত্রাসবিরোধী আইনে আয়োজক গ্রেপ্তার

গোপালগঞ্জ পৌর পার্কে কনসার্ট আয়োজনের আগে পুলিশের অনুমতি না নেওয়া এবং অনুষ্ঠান চলাকালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে স্লোগান দেওয়ার ঘটনায় এফএনএফ কনভেনশন হল অ্যান্ড…

বেদখল হচ্ছে ঝিলংজা কেন্দ্রীয় মহাশ্মশানের জায়গা, ক্ষুব্ধ সনাতন ধর্মাবলম্বীরা

কক্সবাজার সদর উপজেলার ঝিলংজা কেন্দ্রীয় মহাশ্মশানের জায়গা দিন দিন সংকুচিত হয়ে আসছে বলে অভিযোগ উঠেছে। শ্মশানসংলগ্ন এলাকায় বসবাসকারীদের কেউ কেউ নিজেদের বসতি সম্প্রসারণের জন্য শ্মশানের…

শেখ হাসিনার দেশে ফেরার সময় সঙ্গে থাকতে পারেন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা

বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা দেশে ফেরার সময় তাঁর সঙ্গে একদল আন্তর্জাতিক স্বাধীন পর্যবেক্ষককে রাখার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বের…

ব্যালন ডি’অর ২০২৬: মনোনয়ন প্রকাশ শুরু, সেরা হওয়ার দৌড়ে যারা

ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তিগত পুরস্কার ব্যালন ডি’অরের ২০২৬ সালের মনোনয়ন প্রকাশ শুরু হয়েছে। মূল পুরস্কারের পাশাপাশি সেরা গোলরক্ষক, সেরা তরুণ খেলোয়াড়, সেরা কোচ ও…

ঢাকা-কলকাতা মৈত্রী এক্সপ্রেস: শিগগিরই মিলছে চালুর নির্দিষ্ট তারিখ

ঢাকা-কলকাতা রুটে বন্ধ থাকা মৈত্রী এক্সপ্রেস ট্রেন পুনরায় চালুর বিষয়ে শিগগিরই সুখবর দেওয়া সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। ট্রেনটি কবে…

তিন ছাত্রকে বলাৎকার, মাদরাসা শিক্ষকের কক্ষে মিলল উত্তেজক ওষুধ

ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে তিন আবাসিক ছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগে একটি মাদরাসার প্রধান শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার আবুল বাশার (৩৩) উপজেলার দুধসর এলাকার দারুল উলুম মাদরাসার প্রধান…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au