মেলবোর্ন, ৫ এপ্রিল- দেশজুড়ে হাম-এর প্রাদুর্ভাব আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। জ্বর, শ্বাসকষ্ট ও শরীরে লালচে র্যাশ নিয়ে প্রতিদিন শত শত শিশু হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে, ফলে অনেক হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে জায়গা সংকট দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে বিভিন্ন হাসপাতালে আলাদা আইসোলেশন ইউনিট চালু করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের ডিজিএইচএস-এর ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল সকাল ৮টা পর্যন্ত দেশে মোট ৬,৪৭৬ জন সম্ভাব্য হামে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৪,৬২৮ জন হাসপাতালে ভর্তি হন এবং চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ২,৬৫৪ জন।
একই সময়ে দেশে মোট ১১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ১৬ জনের মৃত্যু নিশ্চিতভাবে হামের কারণে হয়েছে, আর বাকি ৯৮ জন সম্ভাব্য হামজনিত জটিলতায় প্রাণ হারিয়েছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৭৮৭ জন সম্ভাব্য রোগী শনাক্ত হয়েছে, যাদের মধ্যে ৬০ জনের হাম নিশ্চিত হয়েছে এবং ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।
বিভাগভিত্তিক চিত্রে দেখা গেছে, আক্রান্তের দিক থেকে শীর্ষে রয়েছে ঢাকা বিভাগে ২,৭৬৯ জন। এরপর রাজশাহী বিভাগে ১,৩০৮, চট্টগ্রাম বিভাগে ৭৬৯, খুলনা বিভাগে ৬৩১, বরিশাল বিভাগে ৪০৫, সিলেট বিভাগে ৩০০, রংপুর বিভাগে ১৬৭ এবং ময়মনসিংহ বিভাগে ১২৭ জন রোগী শনাক্ত হয়েছেন।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)-এর ২৮ মার্চের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, দেশের ৫৬টি জেলায় ইতোমধ্যে হামের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে। এর মধ্যে কক্সবাজার, বরগুনা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, পাবনা ও নাটোর জেলাকে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। পাশাপাশি ঢাকা উত্তর, ময়মনসিংহ ও বরিশাল সিটি কর্পোরেশন এলাকাকে ‘হটস্পট’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।
সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আজ রোববার সকাল ৯টা থেকে ১৮টি উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ জেলার ৩০টি উপজেলা ও পৌরসভায় জরুরি মিজলস-রুবেলা (এমআর) টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে। এই কর্মসূচির আওতায় ৬ মাস থেকে ৫ বছরের কম বয়সী সব শিশুকে টিকা দেওয়া হবে, এমনকি যারা আগে টিকা নিয়েছে তারাও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জানিয়েছেন, ন্যাশনাল ইমিউনাইজেশন টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজরি গ্রুপ-এর সুপারিশে এই বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি টিকাকে সম্পূর্ণ নিরাপদ উল্লেখ করে গুজবে কান না দিতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান। সরকার আগামী ২১ মে’র মধ্যে পর্যায়ক্রমে সারাদেশে এই কর্মসূচি সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।
অভিভাবকদের পাঁচ বছরের কম বয়সী সব শিশুকে নিকটস্থ টিকাদান কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। তবে শিশু অসুস্থ থাকলে সুস্থ হওয়ার পর টিকা দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জটিলতা কমাতে আক্রান্ত শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুলও প্রদান করা হচ্ছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত টিকাদান কার্যক্রম বিস্তৃত করা গেলে এই সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে।