হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে দেশে আরও ১১ জনের মৃত্যু
মেলবোর্ন, ৭ এপ্রিল- দেশে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা আবারও বেড়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে হাম এবং হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ১১ জনের…
মেলবোর্ন, ৫ এপ্রিল: বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সরকারের পক্ষ থেকে আওয়ামী লীগ–এর ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞাকে স্থায়ী আইনে রূপ দেওয়ার সম্ভাবনা দেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর প্রশ্ন তুলছে। নিষিদ্ধ করার এই চিন্তা কেবল একটি দলকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নয়; বরং এটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি, ক্ষমতার ভারসাম্য এবং বহুদলীয় গণতন্ত্রের ভিত্তিকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করার প্রচেষ্টা।
২০২৪ সালের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সহিংসতা ও প্রাণহানির অভিযোগও তাদের যুক্তিকে শক্তিশালী করছে। ফলে বিএনপির কাছে এই নিষেধাজ্ঞা একটি রাজনৈতিক ‘সুরক্ষা ব্যবস্থা’ হিসেবে প্রতীয়মান হতে পারে।
আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের জন্মলগ্ন থেকে একটি কেন্দ্রীয় রাজনৈতিক শক্তি—স্বাধীনতা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ এবং পরবর্তী রাষ্ট্র গঠনে তাদের অবদান অস্বীকার করার উপায় নেই। এমন একটি দলকে পুরোপুরি রাজনৈতিক প্রক্রিয়া থেকে বাদ দেওয়া মানে দেশের একটি বড় জনগোষ্ঠীর রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বকে সংকুচিত করা। গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি হলো প্রতিযোগিতা, মতের বহুমাত্রিকতা এবং জনগণের স্বাধীন পছন্দের সুযোগ। সেই জায়গায় আইনের মাধ্যমে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী দলকে সরিয়ে দেওয়া গণতান্ত্রিক মানদণ্ডের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
তবে বিষয়টির অন্য দিকও রয়েছে। বিএনপির অনেক নেতা দাবি করছেন, আওয়ামী লীগ অতীতে একদলীয় আধিপত্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছে—বিশেষ করে ১৯৭০-এর দশকের বাকশাল অভিজ্ঞতা এবং সাম্প্রতিক সময়ে দীর্ঘমেয়াদি শাসনকালে রাজনৈতিক দমন-পীড়নের অভিযোগ সামনে এসেছে। ২০২৪ সালের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সহিংসতা ও প্রাণহানির অভিযোগও তাদের যুক্তিকে শক্তিশালী করছে। ফলে বিএনপির কাছে এই নিষেধাজ্ঞা একটি রাজনৈতিক ‘সুরক্ষা ব্যবস্থা’ হিসেবে প্রতীয়মান হতে পারে।
কিন্তু এখানেই মূল দ্বন্দ্ব। অতীতের ভুল বা অপরাধের বিচার কি রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে হওয়া উচিত, নাকি স্বাধীন বিচারব্যবস্থার মাধ্যমে? একটি দলকে আইনি কাঠামোর বাইরে ঠেলে দিলে তা সাময়িক স্বস্তি দিতে পারে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ও প্রতিহিংসার চক্রকে আরও গভীর করতে পারে।
এই প্রেক্ষাপটে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো রাজনৈতিক শূন্যতার প্রশ্ন। আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করা হলে সেই জায়গাটি কে পূরণ করবে? অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন, এতে জামায়াতে ইসলামী–এর মতো দলগুলোর জন্য রাজনৈতিক পরিসর বিস্তৃত হতে পারে। ফলে রাজনৈতিক ভারসাম্য এক ভিন্ন দিকে সরে যেতে পারে, যা দেশের নীতিনির্ধারণ ও সামাজিক গতিপথে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশ্বের অন্যান্য গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের উদাহরণ এখানে প্রাসঙ্গিক। ভারতে কংগ্রেস, যুক্তরাষ্ট্রে ডেমোক্র্যাট বা যুক্তরাজ্যে কনজারভেটিভ—এই বড় দলগুলোর অনুপস্থিতিতে গণতন্ত্র কল্পনা করা কঠিন। একইভাবে, বাংলাদেশের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগের মতো একটি ঐতিহাসিক দলকে সম্পূর্ণভাবে বাদ দিয়ে একটি কার্যকর গণতন্ত্র গড়ে তোলা কতটা সম্ভব, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।
সবশেষে বলা যায়, আওয়ামী লীগের ওপর নিষেধাজ্ঞা স্থায়ী করা বিএনপির জন্য স্বল্পমেয়াদে রাজনৈতিক সুবিধা বয়ে আনতে পারে। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে এটি গণতন্ত্রকে দুর্বল, একমুখী এবং ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলতে পারে। একটি পরিণত রাষ্ট্রের জন্য প্রয়োজন শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান, স্বাধীন বিচারব্যবস্থা এবং সহনশীল রাজনৈতিক সংস্কৃতি—যেখানে প্রতিদ্বন্দ্বীকে নির্মূল নয়, বরং প্রতিযোগিতার মাধ্যমে পরাজিত করা হয়।
মূল লেখক: সুবীর ভৌমিক: প্রবীণ বিবিসি সাংবাদিক ও লেখক; মিয়ানমারের শীর্ষ মিডিয়া গ্রুপ মিজিমার সাবেক সিনিয়র এডিটর
দ্যা ফেডারেল
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au