ইরানে উদ্ধার অভিযানে ফেলে আসা বিধ্বস্ত মার্কিন বিমান। ছবিঃ রয়টার্স
মেলবোর্ন, ৭ এপ্রিল- নিখোঁজ ক্রুদের উদ্ধারে ইরানে পরিচালিত যুক্তরাষ্ট্রের এক সাহসী উদ্ধার অভিযানের পর ফেলে আসা একটি মার্কিন সামরিক বিমানের ধ্বংসাবশেষ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। নতুনভাবে প্রকাশিত ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, ইরানে একটি সাহসী যুক্তরাষ্ট্রের উদ্ধার অভিযান শেষে ফেলে আসা মার্কিন সামরিক বিমান বিধ্বস্ত অবস্থায় রয়েছে।
সোমবার চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত চায়না মিডিয়া গ্রুপ (সিএমজি) দ্বারা রেকর্ড করা এই ফুটেজে ইরানের ইসফাহান প্রদেশের দক্ষিণাঞ্চলে বিধ্বস্ত বিমানের ধ্বংসাবশেষ দেখা যাচ্ছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিমানটি যুক্তরাষ্ট্রের একটি এয়ারম্যানকে উদ্ধারের জন্য চালানো অভিযানকালে ব্যবহৃত হয়েছিল।
মঙ্গলবার জানা গেছে, এই এয়ারম্যান ছিল মার্কিন এফ-১৫ই যুদ্ধবিমানটির দুইজন ক্রু সদস্যের মধ্যে একজন। গত শুক্রবার দক্ষিণ ইরানে এক অভিযানের সময় বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। দুই ক্রু সদস্যই ইজেকশন পদ্ধতিতে বিমানের বাইরে বেরিয়ে নিরাপদে অবতরণ করেন।
বিমানটির পাইলটকে স্পেশাল ফোর্সের সদস্যরা শুক্রবার দিনের আলোতে অভিযান চালিয়ে উদ্ধার করে।
ইসলামিক রিপাবলিক নিউজ এজেন্সি (ইরনা) জানিয়েছে, ইরানের খাতাম আল-আনবিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্স ঘোষণা করেছে যে, এ উদ্ধারের সময় চারটি মার্কিন সামরিক বিমান – দুইটি সি-১৩০ হারকিউলেস ট্রান্সপোর্ট প্লেন এবং দুইটি ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টার – গুলি খেয়ে বিধ্বস্ত হয়েছে। ইরনার রিপোর্টে বলা হয়েছে, ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশন গার্ডস কোর (ইরজিসি), সেনাবাহিনী, স্বেচ্ছাসেবক বাসিজ এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার যৌথ অভিযানে বিমানগুলোকে নিশানা করা হয়।

চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত চায়না মিডিয়া গ্রুপ (সিএমজি) দ্বারা রেকর্ড করা এই ফুটেজে ইরানের ইসফাহান প্রদেশের দক্ষিণাঞ্চলে বিধ্বস্ত বিমানের ধ্বংসাবশেষ দেখা যাচ্ছে।
ইরানি সামরিক সূত্র বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র একটি পরিত্যক্ত বিমানবন্দরে উদ্ধার অভিযান চালানোর চেষ্টা করেছিল, কিন্তু ইরানি বাহিনী হস্তক্ষেপ করলে তা ব্যর্থ হয়।
তবে, মার্কিন সূত্র অনুযায়ী, শনিবার রাতে শত শত মার্কিন স্পেশাল ফোর্স ইরানে প্রবেশ করে এয়ারম্যানকে উদ্ধারের জন্য। অভিযানের সময় দুইটি সি-১৩০ ট্রান্সপোর্ট প্লেন কার্যক্ষমতা হারায়। এরপর যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী চারটি হেলিকপ্টার এবং দুইটি অকেজো প্লেন ধ্বংস করে যাতে সেগুলো দখল করা না যায়।
উদ্ধারের সময় এয়ারম্যানের ইজেকশনের আগে বলেছিলেন: “God is good” (ঈশ্বর মহান)। এ শব্দগুলো তার দৃঢ় ধর্মবিশ্বাসের প্রতিফলন বলে মনে করা হচ্ছে। আহত হলেও তিনি হাঁটতে সক্ষম ছিলেন এবং ২,১০০ মিটার উঁচু পাহাড়ের একটি খাঁজে লুকিয়ে থাকেন। তাকে উদ্ধারের সময় একটি পিস্তল, সিগন্যাল বীকন এবং নিরাপদ যোগাযোগ ডিভাইস সরবরাহ করা হয়েছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানান, আহত এয়ারম্যানকে উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি লিখেছেন, “আমরা আহত, কিন্তু সাহসী এফ-১৫ ক্রু সদস্যকে ইরানের পাহাড়ের গভীর অংশ থেকে উদ্ধার করেছি। ইরানি সামরিক বাহিনী আমাদের কাছাকাছি আসছিল। প্রথম অভিযানের পর, যা দিনের আলোতে পাইলটকে উদ্ধারে করা হয়েছিল, দ্বিতীয় অভিযানও সফল হয়েছে। সকলের সাহস ও দক্ষতার অসাধারণ প্রদর্শনী এটি।”
সূত্রঃ নিউজ.এইউ