মেলবোর্ন, ১২ এপ্রিল- ইউরোপের দেশ হাঙ্গেরি-তে আজ রোববার জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যেখানে প্রায় ৮০ লাখ ভোটার স্থিতিশীলতা নাকি পরিবর্তন-এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছেন। সর্বশেষ জরিপে দীর্ঘদিনের ক্ষমতাসীন প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর ওরবান পিছিয়ে পড়েছেন, আর এগিয়ে রয়েছেন তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী পিটার ম্যাগিয়ার।
জরিপ অনুযায়ী, ম্যাগিয়ারের নেতৃত্বাধীন তিসা দল ক্ষমতাসীন ফিদেজ পার্টির তুলনায় উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে এবং সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার সম্ভাবনাও বেশি। এতে করে এক দশকের বেশি সময় ধরে ক্ষমতায় থাকা ওরবানের জন্য বড় ধরনের রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে।
নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন পাওয়ার চেষ্টা করেও খুব একটা সুবিধা করতে পারেননি ওরবান। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স-এর বুদাপেস্ট সফর এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর প্রকাশ্য সমর্থনও ভোটারদের মনোভাব পরিবর্তনে কার্যকর হয়নি বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। বরং ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান উত্তেজনা এবং এর প্রভাবে মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষের অসন্তোষ বেড়েছে।
এই নির্বাচনকে ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও ব্যাপক আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে ওরবানের টানাপোড়েন, বিশেষ করে ইউক্রেন যুদ্ধ ইস্যুতে তাঁর অবস্থান, পশ্চিমা বিশ্বে সমালোচিত হয়েছে। অন্যদিকে মস্কোর সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্কও আলোচনায় রয়েছে।
নির্বাচনের আগে এক জনসভায় ওরবান ভোটারদের উদ্দেশে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত প্রচারণা চালানোর আহ্বান জানান। সেখানে তিনি বলেন, এই নির্বাচন তাঁর নেতৃত্ব এবং ভলোদিমির জেলেনস্কি-এর প্রভাবের মধ্যে এক ধরনের পছন্দ নির্ধারণ করবে।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে তাঁর প্রচারণার বক্তব্য ভোটারদের বড় একটি অংশকে সন্তুষ্ট করতে পারেনি। ফলে পরিবর্তনের প্রত্যাশায় অনেক ভোটার বিরোধী শিবিরের দিকে ঝুঁকছেন, যা নির্বাচনের ফলাফলে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।