স্পেনে বৈধ হওয়ার পথে বাংলাদেশিসহ প্রায় ৫ লাখ অভিবাসী
মেলবোর্ন, ১৫ এপ্রিল- ইউরোপজুড়ে যখন অভিবাসনবিরোধী মনোভাব ক্রমেই তীব্র হচ্ছে, ঠিক সেই সময় ভিন্নধর্মী সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনায় এসেছে স্পেন সরকার। দেশটিতে অবস্থান করা নথিহীন অভিবাসীদের…
মেলবোর্ন, ১৫ এপ্রিল- কানাডা, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, জাপানসহ ১০টি দেশ লেবাননে চলমান সংঘাত দ্রুত বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী বাহিনীর সদস্যদের হত্যার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে।
মঙ্গলবার প্রকাশিত এক যৌথ বিবৃতিতে দেশগুলো লেবাননের ক্রমবর্ধমান মানবিক সংকট এবং বাস্তুচ্যুত মানুষের পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে। বিবৃতিতে সরাসরি ইসরায়েল বা ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর নাম উল্লেখ করা হয়নি। যৌথ বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারী দেশগুলো হলো কানাডা, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, জাপান, ব্রাজিল, কলম্বিয়া, ইন্দোনেশিয়া, জর্ডান, সিয়েরা লিওন ও সুইজারল্যান্ড।
চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ইসরায়েল গত মার্চ মাসের শুরুতে লেবাননে বিমান হামলা আরও তীব্র করে তোলে। এর আগে ২ মার্চ হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। এই ঘটনার কয়েক দিন পরই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে ইরানকে কেন্দ্র করে যুদ্ধ পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করে।
এরপর ইসরায়েল লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে স্থল অভিযানও বিস্তৃত করে এবং শত শত গ্রাম খালি করার নির্দেশ দেয়। লেবাননের সরকারি সূত্র অনুযায়ী, এই হামলায় এখন পর্যন্ত দুই হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন এবং প্রায় ১২ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
অন্যদিকে হিজবুল্লাহর পাল্টা হামলায় ইসরায়েলের সীমান্তবর্তী শহরগুলো এবং কিছু বড় শহরও লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। ইসরায়েলি পক্ষের দাবি অনুযায়ী, ২ মার্চের পর থেকে অন্তত দুই বেসামরিক নাগরিক এবং ১৩ জন সেনা নিহত হয়েছেন।
যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী ও মানবিক সহায়তা কর্মীদের ওপর যে হামলা হয়েছে, তা কঠোরভাবে নিন্দনীয় এবং এটি তাদের নিরাপত্তার ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
দেশগুলো আরও জানায়, যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে যে যুদ্ধবিরতি হয়েছে, তারা সেটিকে স্বাগত জানায় এবং লেবাননে চলমান সংঘাত দ্রুত বন্ধ করার আহ্বান জানায়।
এদিকে, ওয়াশিংটনে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় দীর্ঘ প্রায় তিন দশক পর সরাসরি বৈঠকে বসেছে ইসরায়েল ও লেবানন। তবে এই উচ্চপর্যায়ের আলোচনাকে ঘিরে শুরু থেকেই অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, কারণ লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ এই উদ্যোগকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে এবং একে ‘অর্থহীন’ বলে অভিহিত করেছে।

ওয়াশিংটনে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় দীর্ঘ প্রায় তিন দশক পর সরাসরি বৈঠকে বসেছে ইসরায়েল ও লেবানন। ছবিঃ সংগৃহীত
মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনের পররাষ্ট্র দপ্তরের সদর দপ্তরে স্থানীয় সময় সকাল ১১টায় এই বৈঠক শুরু হয়। ১৯৯৩ সালের পর এই প্রথম দুই দেশের মধ্যে এ ধরনের সরাসরি কূটনৈতিক যোগাযোগ হলো, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র এই বৈঠককে ‘খোলামেলা, সরাসরি ও উচ্চপর্যায়ের’ আলোচনা হিসেবে উল্লেখ করেছে।
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে সামরিক হামলা চালায়। এর জবাবে ইরান ইসরায়েল ও উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটিতে পাল্টা হামলা করে। এই সংঘাতে ব্যাপক প্রাণহানি ও বাস্তুচ্যুতির ঘটনা ঘটে। যদিও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দুই সপ্তাহের একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে, যার মেয়াদ এখনো কিছুদিন বাকি।
ইরান বলছে, লেবাননে চলমান যুদ্ধকে বৃহত্তর শান্তিচুক্তির অংশ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। তবে ইসরায়েল লেবাননে যুদ্ধবিরতির বিষয়টি আলোচনায় আনতে অস্বীকৃতি জানিয়ে হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করার দাবি তুলেছে।
সূত্রঃ রয়টার্স
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au