দুই মাসেও জ্বালানি তেলের সমস্যা হবে না: জ্বালানি মন্ত্রণালয়
মেলবোর্ন, ১৬ এপ্রিল- দেশে বিদ্যমান জ্বালানি তেলের মজুত দিয়ে আগামী দুই মাস পর্যন্ত কোনো সংকট তৈরি হবে না বলে আশ্বস্ত করেছে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়।…
মেলবোর্ন, ১৬ এপ্রিল- দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষা ও নানা জটিলতার পর বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক অনলাইন পেমেন্ট প্ল্যাটফর্ম PayPal চালুর বিষয়ে নতুন করে জোরালো উদ্যোগ নিয়েছে সরকার, যা ডিজিটাল অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলতে পারে।
জাতীয় সংসদে দেওয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানিয়েছেন, দেশে পেপ্যালের কার্যক্রম চালুর জন্য ইতোমধ্যে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো উন্নয়নে কাজ চলছে। তিনি বলেন, জ্বালানি ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের পাশাপাশি ডিজিটাল লেনদেন সহজ করতে আন্তর্জাতিক পেমেন্ট গেটওয়ে চালু করা এখন সময়ের দাবি।
বাংলাদেশে পেপ্যাল চালুর আলোচনা এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চললেও বাস্তবে তা কখনোই পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হয়নি। ২০১৭ সালে পেপ্যালের সহযোগী সেবা Xoom চালু হলেও সেটি কেবল রেমিট্যান্স পাঠানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল; ফ্রিল্যান্সার বা উদ্যোক্তাদের জন্য সরাসরি আন্তর্জাতিক পেমেন্ট গ্রহণের সুযোগ তৈরি হয়নি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পেপ্যাল চালু না হওয়ার পেছনে রয়েছে একাধিক কাঠামোগত সমস্যা। এর মধ্যে রয়েছে আর্থিক লেনদেন ব্যবস্থায় পূর্ণাঙ্গ সেটেলমেন্ট কাঠামোর অভাব, ২৪ ঘণ্টার নিরাপদ সাপোর্ট সিস্টেমের অনুপস্থিতি, এবং ব্যবহারকারীর পরিচয় যাচাইকরণ ব্যবস্থার দুর্বলতা। পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ নীতির কারণে অর্থপ্রবাহের স্বাধীনতা সীমিত থাকাও বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে পরিস্থিতিতে কিছু ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর পেপ্যালের আগ্রহের কথা জানিয়েছেন এবং উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল ঢাকায় এসে সরকার ও সংশ্লিষ্ট খাতের সঙ্গে বৈঠক করেছে। একই সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকীও বলেছেন, পেপ্যাল নীতিগতভাবে আগ্রহী, যদিও এটি সময়সাপেক্ষ প্রক্রিয়া।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান প্রেক্ষাপটে পেপ্যাল চালু হলে সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবেন ফ্রিল্যান্সার, ই-কমার্স উদ্যোক্তা এবং প্রবাসী আয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা। এতে আন্তর্জাতিক লেনদেন সহজ হবে, খরচ কমবে এবং বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়তে পারে। পাশাপাশি দেশের ডিজিটাল অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে।
তবে বাস্তবতা হচ্ছে, পেপ্যাল চালু করা শুধু রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের বিষয় নয়; এটি একটি জটিল প্রযুক্তিগত, আর্থিক ও আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের প্রক্রিয়া। তবুও সরকারের সাম্প্রতিক উদ্যোগ এবং নীতিগত অগ্রগতির কারণে বাংলাদেশে পেপ্যাল চালুর সম্ভাবনা এখন আগের যেকোনও সময়ের তুলনায় বেশি বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au