লোডশেডিংয়ের প্রকৃত চিত্র আড়াল করছে সরকার
মেলবোর্ন, ২২ এপ্রিল- বাংলাদেশে গরম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশে বিদ্যুতের সংকট আরও তীব্র হয়ে উঠেছে, আর সেই সংকটের বাস্তব চিত্র ও সরকারি হিসাবে বড় ধরনের…
মেলবোর্ন, ২২ এপ্রিল- রাজধানীর তেজগাঁও থানায় বিস্ফোরক ও সহিংসতার মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া যুব মহিলা লীগ নেত্রী শিল্পী বেগম জামিন পেলেও আইনি কাগজপত্রের জটিলতায় এখনো কারামুক্ত হতে পারেননি। জামিনের আদেশ থাকলেও বিচারকের স্বাক্ষরসহ প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়ায় তার মুক্তি কার্যত আটকে আছে। এতে মঙ্গলবার রাত থেকে বুধবার সকাল পর্যন্ত তিনি দেড় মাস বয়সী শিশুসন্তানসহ কারাগারেই অবস্থান করেন। বুধবার দিনের যেকোনো সময় তার মুক্তি মিলতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
আদালত ও কারা সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পুনর্বিবেচনা আবেদনের শুনানি শেষে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান মানবিক বিবেচনায় পাঁচ হাজার টাকা মুচলেকায় পুলিশ প্রতিবেদন দাখিল পর্যন্ত তার জামিন মঞ্জুর করেন। তবে জামিন আদেশ হলেও তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত ও স্বাক্ষরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়ায় তাকে কারাগার থেকে মুক্ত করা সম্ভব হয়নি।
এর আগে একই দিন দুপুরে শিল্পী বেগমকে ঢাকার অতিরিক্ত মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসাইন মুহাম্মদ জোনাইদের আদালতে হাজির করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক শেখ নজরুল ইসলাম তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। অন্যদিকে তার আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন রাখি জামিনের আবেদন জানিয়ে বলেন, তার দেড় মাস বয়সী কন্যা সন্তান রয়েছে এবং সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের পর শারীরিকভাবে তিনি দুর্বল। যে কোনো শর্তে হলেও তাকে জামিন দেওয়ার অনুরোধ জানান তিনি।
শুনানি শেষে বিকেল তিনটার দিকে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। পরে বিকেলেই তাকে আদালত থেকে হাজতখানায় নেওয়া হয়। এ সময় তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন বলে উপস্থিতরা জানান। আদালত প্রাঙ্গণে দেড় মাস বয়সী শিশুকে কোলে নিয়ে তাকে দুধ খাওয়াতে দেখা যায়। পরে মা ও শিশুকে প্রিজন ভ্যানে করে কাশিমপুর কারাগারে পাঠানো হয়। সেখানে রাত কাটাতে হয় তাদের।
আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন রাখি দাবি করেন, মামলার ঘটনার সঙ্গে তার মক্কেলের সরাসরি সম্পৃক্ততা নেই। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে তাকে মামলায় জড়ানো হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। তার ভাষায়, ঘটনাস্থলের সঙ্গে আসামির কোনো সরাসরি সম্পর্ক নেই, বরং উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
মামলার নথি অনুযায়ী, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই ঢাকার চানখাঁরপুল এলাকায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী গুলিবিদ্ধ হন। পরবর্তীতে ২৩ জুলাই ওই শিক্ষার্থীর বাসায় হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট এবং বিস্ফোরণের অভিযোগ আনা হয়। অভিযোগে বলা হয়, শিল্পী বেগমের নির্দেশে একদল লোক দেশীয় অস্ত্র ও বোমা নিয়ে হামলায় অংশ নেয়। পরে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে তেজগাঁও থানায় মামলা দায়ের করা হয়।
এদিকে জামিন থাকা সত্ত্বেও মুক্তি না পাওয়ায় প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার ধীরগতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে আইনজীবী মহলে। তাদের মতে, আদালতের আদেশ কার্যকর করতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দ্রুত সম্পন্ন না হওয়ায় একজন জামিনপ্রাপ্ত আসামিকে দীর্ঘ সময় কারাগারে থাকতে হচ্ছে, যা মানবিক দিক থেকেও উদ্বেগজনক।
ঘটনাটি ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোচনা তৈরি হয়েছে। মামলার সময়কাল, গ্রেপ্তার এবং জামিন কার্যকর না হওয়ার প্রক্রিয়া নিয়ে বিভিন্ন মহল থেকে ভিন্ন ভিন্ন প্রতিক্রিয়া আসছে। তবে কারা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জামিনের আদেশের কাগজপত্র সম্পূর্ণভাবে হাতে পেলেই মুক্তির প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।
বর্তমানে শিল্পী বেগম ও তার শিশুসন্তান কাশিমপুর কারাগারে আছেন এবং আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরই তাদের মুক্তি নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au