হামে শিশু মৃত্যু: ড. ইউনূসসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন খারিজ
মেলবোর্ন, ৯ জুন- হামের টিকা আমদানিতে গাফিলতি ও বিলম্বের কারণে শিশু মৃত্যুর অভিযোগে সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূর জাহান বেগমসহ…
মেলবোর্ন, ২৩ এপ্রিল- লেবাননে যুদ্ধবিরতির মধ্যেও ইসরাইলি হামলায় এক নারী সাংবাদিকসহ মোট পাঁচজন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সূত্র। এ ঘটনায় আরও একজন সাংবাদিক গুরুতর আহত হয়েছেন এবং তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। নতুন করে এই হামলা ও পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় লেবানন-ইসরাইল সীমান্তে উত্তেজনা আরও বেড়েছে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার (২২ এপ্রিল) লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ড্রোন হামলা চালায় ইসরাইলি বাহিনী। হামলায় একটি গাড়িতে থাকা দুই বেসামরিক নাগরিক নিহত হন। ঘটনাস্থলে সংবাদ সংগ্রহ করতে যাওয়া দুই সাংবাদিকও হামলার শিকার হন। এর মধ্যে লেবাননের আল-আখবার পত্রিকার নারী সাংবাদিক আমাল খলিল নিহত হন। অপর এক সাংবাদিক জয়নাব ফারাজ গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা জানায়, দক্ষিণাঞ্চলের আত-তাইরি শহরে দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকরা এই হামলার শিকার হন। পরে আহত সাংবাদিককে উদ্ধার করতে গেলে আরও হামলা হয়, যার ফলে উদ্ধার কার্যক্রমও ব্যাহত হয়। লেবানন রেড ক্রস পরে আহত সাংবাদিককে তিবনিন হাসপাতালে নিয়ে যায়।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় প্রশাসনের দাবি অনুযায়ী, ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া আমাল খলিলকে উদ্ধারের সময়ও এলাকায় নতুন করে হামলা চালানো হয়। এতে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে পড়ে। ঘটনাটিকে যুদ্ধবিরতির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
লেবাননের তথ্যমন্ত্রী পল মোরকোস সাংবাদিকদের ওপর হামলার কঠোর নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, গণমাধ্যমকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সংবাদ সংগ্রহের স্বাধীনতা বজায় রাখা জরুরি। তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।
অন্যদিকে হামলার জবাবে বুধবারই পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানায় হিজবুল্লাহ। সংগঠনটি দাবি করেছে, দক্ষিণ লেবাননের কানতারা এলাকায় ইসরাইলি সেনাদের লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে এবং ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার দিকেও রকেট নিক্ষেপ করা হয়েছে। তবে এসব হামলায় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
এদিকে লেবাননের পরিস্থিতি অবনতির আশঙ্কায় বৈরুতের মার্কিন দূতাবাস নিজ নাগরিকদের দ্রুত দেশটি ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে। এক নিরাপত্তা বার্তায় বলা হয়, যত দ্রুত সম্ভব বাণিজ্যিক ফ্লাইট ব্যবহার করে লেবানন ত্যাগ করতে হবে।
এই সংঘাত নতুন নয়। বিভিন্ন সময়ের সামরিক উত্তেজনার পর সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। তবে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার পরও উভয় পক্ষ একে অপরকে চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ করছে।
লেবাননের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সংঘাতে এখন পর্যন্ত দুই হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে শিশু ও স্বাস্থ্যকর্মীও রয়েছেন। বাস্তুচ্যুত হয়েছেন লাখো মানুষ। অন্যদিকে ইসরাইল দাবি করেছে, হিজবুল্লাহর হামলায় তাদেরও সামরিক ও বেসামরিক হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।
জাতিসংঘের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই সংকটের কোনো সামরিক সমাধান নেই। কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমেই স্থায়ী শান্তি সম্ভব বলে সংস্থাটি আবারও আহ্বান জানিয়েছে।
লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে এখনো উত্তেজনা বিরাজ করছে। সীমান্ত এলাকায় ইসরাইলি নজরদারি ও ড্রোনের উপস্থিতিতে স্থানীয় বাসিন্দারা চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রয়েছেন বলে জানা গেছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au