বিদ্যুৎ সংকটের মধ্যে আদানির ইউনিট বন্ধ, বাড়ছে লোডশেডিংয়ের শঙ্কা। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ২৩ এপ্রিল- বাংলাদেশজুড়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ ও লোডশেডিং পরিস্থিতি যখন আগে থেকেই চাপের মধ্যে, তখন ভারতের ঝাড়খণ্ডে অবস্থিত আদানি পাওয়ারের একটি ইউনিটে বড় ধরনের কারিগরি ত্রুটি দেখা দেওয়ায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ত্রুটির কারণে কেন্দ্রটির ৮০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে গেছে, ফলে বিদ্যুৎ সরবরাহে ঘাটতি দেখা দেওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে।
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড এবং সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, মঙ্গলবার দিবাগত রাতে আকস্মিকভাবে ওই ইউনিটে কারিগরি সমস্যা দেখা দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে তাৎক্ষণিকভাবে ইউনিটটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ত্রুটি সারিয়ে ইউনিটটি পুনরায় চালু করতে অন্তত ৩ থেকে ৫ দিন সময় লাগতে পারে।
এর আগে আদানি পাওয়ার থেকে বাংলাদেশে নিয়মিতভাবে গড়ে প্রায় ১ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছিল। একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বর্তমানে সরবরাহ কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৭৫০ থেকে ৭৭০ মেগাওয়াটে। এই আকস্মিক ঘাটতি দেশের জাতীয় গ্রিডে অতিরিক্ত চাপ তৈরি করতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন।
ভারতের ঝাড়খণ্ডে নির্মিত এই আদানি বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বাংলাদেশ মোট ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি করে থাকে। কেন্দ্রটির প্রথম ইউনিট থেকে ৭৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হয় ২০২৩ সালের মার্চে এবং একই বছরের জুন মাসে দ্বিতীয় ইউনিট থেকে পূর্ণ উৎপাদন শুরু হয়।
বিদ্যুৎ খাতের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, শীতের তুলনায় গরম মৌসুমে চাহিদা বাড়ায় এমন যেকোনো বড় উৎপাদন বিঘ্ন দেশের বিদ্যুৎ ব্যবস্থাকে আরও চাপের মুখে ফেলতে পারে। আদানি কেন্দ্রের একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এখন বিকল্প উৎস থেকে ঘাটতি পূরণের চেষ্টা চলছে।
অন্যদিকে দেশে ইতোমধ্যেই বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং চলছে। এমন পরিস্থিতিতে বড় একটি আমদানি নির্ভর উৎসে উৎপাদন হ্রাস পাওয়ায় গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ আরও অনিয়মিত হয়ে পড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং ঘাটতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা চলছে।