নতুন করে টাকা ছাপানো শুরু করেছে সরকার: পিআরআই
মেলবোর্ন, ২৩ এপ্রিল- সরকার নতুন করে টাকা ছাপানো শুরু করেছে বলে মন্তব্য করেছেন গবেষণাপ্রতিষ্ঠান পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) মুখ্য অর্থনীতিবিদ আশিকুর রহমান। তিনি বলেন, মার্চ…
মেলবোর্ন, ২৩ এপ্রিল- দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের বিদ্যুৎ উৎপাদন হঠাৎ করেই পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। কয়লার সঙ্গে পাথর মিশে আসার কারণে বয়লার পাইপ ফেটে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এর ফলে দিনাজপুরসহ দেশের উত্তরের অন্তত আটটি জেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে।
বুধবার (২২ এপ্রিল) রাত ১০টা ১০ মিনিটের দিকে কেন্দ্রটির একমাত্র সচল ১২৫ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন ১ নম্বর ইউনিটটি বন্ধ হয়ে যায়। এর আগে থেকেই কেন্দ্রটির বাকি দুটি ইউনিট উৎপাদনের বাইরে ছিল। ফলে সর্বশেষ ইউনিটটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের তিনটি ইউনিটই এখন অচল হয়ে পড়েছে এবং পুরো কেন্দ্রের উৎপাদন কার্যক্রম স্থবির হয়ে গেছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে কেন্দ্রটির প্রধান প্রকৌশলী আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, কয়লার সঙ্গে পাথর চলে আসায় বয়লারের পাইপ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ফেটে যায়। এর ফলে নিরাপত্তাজনিত কারণে সঙ্গে সঙ্গে ইউনিটটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। তিনি বলেন, এই ধরনের ত্রুটি বিদ্যুৎ উৎপাদনে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করে, তাই দ্রুত বন্ধ করা ছাড়া কোনো বিকল্প ছিল না।
তিনি আরও জানান, ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামতের কাজ শুরু হয়েছে। পুরোপুরি মেরামত সম্পন্ন করে পুনরায় উৎপাদন চালু করতে আনুমানিক চার থেকে পাঁচ দিন সময় লাগতে পারে। তবে কাজের অগ্রগতির ওপর নির্ভর করে সময় কিছুটা বাড়তেও পারে।
বিদ্যুৎকেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের মোট তিনটি ইউনিট রয়েছে, যার সম্মিলিত উৎপাদন ক্ষমতা ৫২৫ মেগাওয়াট। এর মধ্যে প্রথম ও দ্বিতীয় ইউনিটের প্রতিটির ক্ষমতা ১২৫ মেগাওয়াট এবং তৃতীয় ইউনিটের ক্ষমতা ২৭৫ মেগাওয়াট।
কেন্দ্রটির ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন দ্বিতীয় ইউনিটটি ২০২০ সালের নভেম্বর মাস থেকে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। এছাড়া ২৭৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার তৃতীয় ইউনিটটি গত বছরের ১ নভেম্বর থেকে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে উৎপাদনের বাইরে আছে। ফলে দীর্ঘদিন ধরেই কেন্দ্রটির পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন সম্ভব হচ্ছিল না।
সর্বশেষ সচল ইউনিটটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এখন পুরো কেন্দ্রটি উৎপাদনহীন অবস্থায় রয়েছে, যা জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে উত্তরাঞ্চলের বিদ্যুৎ সরবরাহে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দিনাজপুরসহ আশপাশের জেলাগুলোতে লোডশেডিং বেড়েছে এবং অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহে অনিয়মিততা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে।
কর্তৃপক্ষ বলছে, দ্রুত মেরামত কাজ শেষ করে উৎপাদন স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে। তবে কেন্দ্রটির একাধিক ইউনিট দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে বিকল্প উৎসের ওপর নির্ভরতা বাড়াতে হচ্ছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au