আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে বিদায়ের ঘোষণা বেটসের , ছবি : সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ২৫ এপ্রিল- দীর্ঘ দুই দশকের গৌরবময় ক্যারিয়ারের ইতি টানার ঘোষণা দিয়েছেন নিউজিল্যান্ড নারী ক্রিকেট দলের অন্যতম সেরা তারকা সুজি বেটস। আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নেবেন তিনি। ইতোমধ্যে নিজের এই সিদ্ধান্ত ক্রিকেট নিউজিল্যান্ড-কে আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছেন অভিজ্ঞ এই অলরাউন্ডার।
২০০৬ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেকের পর থেকে টানা প্রায় দুই দশক ধরে দেশের হয়ে মাঠে নেমেছেন বেটস। তিন ফরম্যাট মিলিয়ে ১০ হাজার ৬৮১ রান করে তিনি গড়ে তুলেছেন এক অনন্য রেকর্ড। ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি—দুই ফরম্যাটেই ১৮১টি করে ম্যাচ খেলেছেন, যা তার ধারাবাহিকতা ও ফিটনেসেরই প্রমাণ। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তার নামের পাশে রয়েছে ১৪টি সেঞ্চুরি।
অবসরের সিদ্ধান্ত জানাতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে বেটস বলেন, এত দীর্ঘ সময় ধরে জাতীয় দলের জার্সি পরতে পারা তার জন্য গর্বের। প্রতিটি দিন তিনি নিজেকে আরও ভালো ক্রিকেটার ও সতীর্থ হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করেছেন, যা তাকে সবসময় আনন্দ দিয়েছে। একই সঙ্গে ক্যারিয়ারের প্রতিটি মুহূর্তে পাশে থাকা সতীর্থ ও কোচদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন তিনি।
নিজের শেষ লক্ষ্য প্রসঙ্গে বেটস বলেন, যুক্তরাজ্যে অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বকাপে আরেকবার শিরোপা জয়ের স্বপ্ন দেখছেন তিনি। সেখানে তার অসংখ্য স্মৃতি রয়েছে, আর সেই স্মৃতিকে আরও সমৃদ্ধ করেই বিদায় নিতে চান এই তারকা ক্রিকেটার।
নারী আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে সর্বোচ্চ ৪ হাজার ৭১৭ রান এবং ওয়ানডেতে ৫ হাজার ৯৬৪ রান করা বেটস কেবল পরিসংখ্যানেই নয়, নেতৃত্বেও ছিলেন অনন্য। ২০১১ সাল থেকে প্রায় সাত বছর নিউজিল্যান্ড নারী দলের অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রথম নারী হিসেবে ৩৫০ ম্যাচ খেলার রেকর্ডও গড়েছেন বেটস। পাশাপাশি, সব ধরনের ক্রিকেট মিলিয়ে ২৫ হাজারের বেশি রান করার কৃতিত্বও তার ঝুলিতে।
ক্রিকেটের পাশাপাশি বাস্কেটবল খেলাতেও সমান দক্ষ ছিলেন বেটস। ২০০৮ সালের বেইজিং অলিম্পিকে নিউজিল্যান্ডের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন তিনি, যা তার বহুমুখী প্রতিভার আরেকটি প্রমাণ।
আসন্ন বিশ্বকাপের মধ্য দিয়েই শেষ হতে যাচ্ছে এক বর্ণাঢ্য অধ্যায়। তবে সুজি বেটস-এর অর্জন ও অবদান দীর্ঘদিন স্মরণে রাখবে ক্রিকেট বিশ্ব।