প্রাক্তন অধ্যাপক গোবর্ধন দাস(বামে), বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অশোক লাহিড়ী(ডানে)। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ২৫ এপ্রিল- ভারতের কেন্দ্রীয় নীতিনির্ধারণী প্রতিষ্ঠান নীতি আয়োগে বড় ধরনের রদবদল এনেছে নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন সরকার। এই পরিবর্তনের অংশ হিসেবে পশ্চিমবঙ্গের দুই পরিচিত বাঙালি ব্যক্তিত্বকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আনা হয়েছে, যা রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
বিজেপির বিদায়ী বিধায়ক এবং বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অশোক লাহিড়ীকে নীতি আয়োগের ভাইস চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনিক কাঠামোয় এই পদটিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে ধরা হয়, কারণ এটি সরাসরি কেন্দ্রীয় সরকারের অর্থনৈতিক নীতি প্রণয়ন ও উন্নয়ন পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত। ভাইস চেয়ারম্যান পদে থেকে তিনি প্রধানমন্ত্রী নেতৃত্বাধীন নীতি আয়োগের কার্যনির্বাহী ব্যবস্থাপনায় কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করবেন।
একই সময়ে আরও একজন বাঙালি বিজ্ঞানীকে নীতি আয়োগে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব মলিকুলার মেডিসিনের প্রাক্তন অধ্যাপক এবং বর্তমানে ভোপাল ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব সায়েন্সের পরিচালক গোবর্ধন দাসকে নীতি আয়োগের সদস্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
অশোক লাহিড়ী দীর্ঘদিন ধরে ভারতের অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারণের সঙ্গে যুক্ত। তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের অর্থনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করেছেন এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়েও তার অভিজ্ঞতা রয়েছে। এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকে নেতৃত্বস্থানীয় দায়িত্ব পালন করার পাশাপাশি তিনি বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। এছাড়া তিনি পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
রাজনৈতিকভাবে তিনি পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাট আসন থেকে বিজেপির প্রার্থী হিসেবে বিধানসভায় জয়ী হয়েছিলেন। তবে চলতি নির্বাচনে দল তাঁকে প্রার্থী না করার সিদ্ধান্ত নেয়। সেই প্রেক্ষাপটে এবার তাঁকে কেন্দ্রীয় সরকারের একটি শীর্ষ নীতিনির্ধারণী পদে দায়িত্ব দেওয়া হলো, যা রাজনৈতিক মহলে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
নীতি আয়োগের বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান পদে দায়িত্ব পালন করছিলেন সুমন বেরি। তাঁর স্থলাভিষিক্ত হলেন অশোক লাহিড়ী। নীতি আয়োগের কাঠামোয় ভাইস চেয়ারম্যান পদটি মন্ত্রিসভা পর্যায়ের মর্যাদাসম্পন্ন বলে বিবেচিত হয়। ফলে এই দায়িত্ব পাওয়ার মাধ্যমে তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের অর্থনৈতিক নীতি ও উন্নয়ন কৌশলে সরাসরি প্রভাব রাখার সুযোগ পাবেন।
অন্যদিকে, গোবর্ধন দাস গবেষণা ও শিক্ষা ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন একজন বিজ্ঞানী। স্বাস্থ্য ও জৈবপ্রযুক্তি গবেষণায় তাঁর অবদান রয়েছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, প্রশাসনিক ও প্রযুক্তিগত বিশেষজ্ঞদের নীতি আয়োগে অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমে কেন্দ্রীয় সরকার নীতিনির্ধারণ প্রক্রিয়াকে আরও গবেষণাভিত্তিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে চাইছে।
তবে রাজনৈতিক মহলে এই দুই বাঙালির নিয়োগকে ঘিরে বিভিন্ন ব্যাখ্যা উঠে এসেছে। অনেকেই মনে করছেন, নির্বাচনী রাজনীতিতে প্রার্থী না করলেও অভিজ্ঞ ও পরিচিত মুখদের কেন্দ্রীয় নীতিনির্ধারণী কাঠামোয় যুক্ত করার মাধ্যমে একটি ভিন্ন কৌশল অনুসরণ করছে কেন্দ্র।
সব মিলিয়ে, নীতি আয়োগে এই নিয়োগকে শুধু প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত হিসেবে নয়, বরং ভারতের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক নীতির ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনার অংশ হিসেবেও দেখা হচ্ছে।