বৈভবের সঙ্গে ছবি তুলতে গুনতে হবে ১০০ রুপি!
মেলবোর্ন, ২৮ এপ্রিল- ভারতের তরুণ ক্রিকেটার বৈভব সূর্যবংশীকে ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে, যেখানে দাবি করা হয়েছে যে তাঁর সঙ্গে ছবি তুলতে হলে…
মেলবোর্ন, ২৮ এপ্রিল- মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রভাব মোকাবিলায় জ্বালানি নিরাপত্তা বাড়াতে ৮০০ মিলিয়ন ডলারের একটি বড় পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে অস্ট্রেলিয়ার বিরোধী জোট (কোয়ালিশন)। পরিকল্পনাটির মূল লক্ষ্য দেশের জ্বালানি মজুত উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি এবং নতুন সংরক্ষণ অবকাঠামো গড়ে তোলা।
এদিকে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ জানিয়েছেন, খুব শিগগিরই দেশে নতুন জ্বালানি চালান পৌঁছাবে। অতিরিক্ত ২০০ মিলিয়ন লিটার ডিজেল ইতোমধ্যে অস্ট্রেলিয়ার উদ্দেশ্যে পাঠানো হয়েছে বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন।
কোয়ালিশনের প্রস্তাব অনুযায়ী, দেশের ন্যূনতম জ্বালানি মজুত ৫০ শতাংশের বেশি বাড়ানো হবে এবং অন্তত ১ বিলিয়ন লিটার নতুন সংরক্ষণ সক্ষমতা তৈরি করা হবে। একই সঙ্গে নতুন ন্যূনতম মজুত নীতি চালুর মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি মজুত প্রায় ২৫ শতাংশ বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে, যেখানে ডিজেলের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
বিরোধীদলীয় নেতা অ্যাঙ্গাস টেইলর দ্রুত এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়ে বলেন, “জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেলে পুরো দেশ থেমে যাবে। পরিবহন ব্যবস্থা অচল হবে, বাজারে পণ্য সরবরাহ বন্ধ হবে এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে পড়বে।”
তিনি আরও বলেন, “এটি একটি বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা, যা দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে এবং অস্ট্রেলিয়াকে আরও স্বনির্ভর করে তুলবে।”
পরিকল্পনার অংশ হিসেবে মিনিমাম স্টকহোল্ডিং অবলিগেশন (এমএসও) ৬০ দিনে উন্নীত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, যা বর্তমানের তুলনায় জ্বালানি মজুত দ্বিগুণের বেশি বাড়াতে সহায়ক হবে। পাশাপাশি ‘অস্ট্রেলিয়ান ফুয়েল সিকিউরিটি ফ্যাসিলিটি’ নামে একটি তহবিল গঠন করে ১ বিলিয়ন লিটার নতুন স্থলভিত্তিক সংরক্ষণ সুবিধা নির্মাণের কথা বলা হয়েছে।
ন্যাশনালস দলের নেতা ম্যাট কানাভান বলেন, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে অস্ট্রেলিয়ার বিদেশি জ্বালানি সরবরাহের ওপর নির্ভরতা কমবে। তার ভাষায়, “ডিজেল সরবরাহ ব্যাহত হলে কৃষিকাজ বন্ধ হয়ে যাবে এবং গ্রামাঞ্চলে পণ্যের সংকট দেখা দেবে। তাই এই পরিকল্পনা সময়োপযোগী ও প্রয়োজনীয়।”
বর্তমান নীতির অধীনে জ্বালানি সরবরাহকারীদের নির্দিষ্ট পরিমাণ মজুত রাখতে হয়, যার খরচ শেষ পর্যন্ত ভোক্তাদের ওপর পড়ে। নতুন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে অতিরিক্ত সংরক্ষণ অবকাঠামো নির্মাণ ও জ্বালানি সংগ্রহে সরকারের আর্থিক সহায়তা থাকবে।
বিশ্লেষকদের ধারণা, এমএসও দ্বিগুণ করা হলে জ্বালানির খুচরা দামে প্রতি লিটারে প্রায় ১ সেন্ট পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে।
জ্বালানি ও নির্গমন হ্রাসবিষয়ক ছায়ামন্ত্রী ড্যান টিহান বলেন, “এই পরিকল্পনা জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা শক্তিশালী করবে এবং বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় একটি কার্যকর সুরক্ষা বলয় তৈরি করবে।”
কোয়ালিশনের দাবি, এখনই উদ্যোগ নেওয়া হলে ২০৩০ সালের মধ্যে অন্তত ৬০ দিনের জ্বালানি মজুত নিশ্চিত করা সম্ভব হবে, যা ভবিষ্যৎ বৈশ্বিক ঝুঁকি মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au