মুম্বাইয়ে কালেমা পড়তে বলে দুই নিরাপত্তারক্ষীকে ছুরিকাঘাত, অভিযুক্ত গ্রেপ্তার। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ২৮ এপ্রিল- ভারতের মুম্বাই শহরের নয়া নগর এলাকায় দুই নিরাপত্তারক্ষীকে ধর্মীয় পরিচয় জানতে চেয়ে ছুরিকাঘাত করার অভিযোগে ৩১ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত জৈব জুবের আনসারি নামের ওই ব্যক্তি হামলার আগে নিরাপত্তারক্ষীদের ধর্ম সম্পর্কে জানতে চান এবং তাদের ‘কালেমা’ পাঠ করতে বলেন।
সোমবার ভোরে আনুমানিক রাত ৪টার দিকে ওখার্ড হাসপাতালের পেছনে একটি নির্মাণাধীন ভবনে ঘটনাটি ঘটে। সেখানে দায়িত্ব পালন করছিলেন দুই নিরাপত্তারক্ষী রাজকুমার মিশ্র এবং সুব্রত সেন। হঠাৎ করেই অভিযুক্ত ব্যক্তি সেখানে গিয়ে তাদের ধর্মীয় পরিচয় জানতে চান এবং পরে তাদের ওপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালান বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ওই হামলায় দুই নিরাপত্তারক্ষী গুরুতর আহত হন।
রাজকুমার মিশ্র আহত অবস্থাতেই নিজেই হাসপাতালে পৌঁছাতে সক্ষম হন। তবে সুব্রত সেনকে স্থানীয় ব্যক্তি নায়াব শেখ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসেন। প্রত্যক্ষদর্শী শেখ জানান, তিনি কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে রক্তাক্ত অবস্থায় নিরাপত্তারক্ষীকে একটি গার্ড রুমে লুকিয়ে থাকতে দেখেন। পরে তিনি তাকে থানায় নিয়ে যান এবং সেখান থেকে হাসপাতালে পাঠানো হয়।
পুলিশ জানায়, ঘটনার প্রায় ৯০ মিনিটের মধ্যেই অভিযুক্তকে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে নয়া নগর থানায় নিয়ে যাওয়া হয় এবং তার বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টাসহ দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে শত্রুতা উসকে দেওয়ার অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়।
পরবর্তীতে তাকে থানার হেফাজতে নেওয়া হয় এবং থানে আদালতে হাজির করা হলে ৪ মে পর্যন্ত পুলিশ হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।
ঘটনাটির তদন্তে স্থানীয় পুলিশ ও রাজ্য অ্যান্টি-টেরর স্কোয়াড যৌথভাবে কাজ করছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নাকি বৃহত্তর কোনো ষড়যন্ত্রের অংশ, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযুক্তের কাছ থেকে জব্দ করা মোবাইল ফোন ও ইলেকট্রনিক ডিভাইসও বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।
তদন্ত সূত্রে আরও জানা গেছে, তার ব্যক্তিগত নোট থেকে ‘আইএসআইএস’, ‘লোন উলফ’, ‘জিহাদ’ এবং ‘গাজা’ শব্দগুলো লেখা পাওয়া গেছে। এসব তথ্যকে গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
পুলিশ সূত্র আরও জানায়, অভিযুক্ত জৈব জুবের আনসারি কয়েক বছর যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করেছিলেন। তার পরিবারের কিছু সদস্য এখনো সেখানে থাকেন। তবে সেখানে তিনি চাকরি না পেয়ে ভারতে ফিরে আসেন বলে জানা গেছে। বর্তমানে তিনি মীরা রোড এলাকায় একাই বসবাস করতেন এবং অনলাইনে রসায়নের ক্লাস নিয়ে আয় করতেন।
কর্তৃপক্ষের ধারণা, তিনি অনলাইনে পাওয়া বিভিন্ন উগ্রবাদী কনটেন্টের মাধ্যমে প্রভাবিত হয়ে থাকতে পারেন। তবে তদন্তকারীরা এখনো তার প্রকৃত উদ্দেশ্য এবং কোনো সংগঠনের সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছেন।
এদিকে পুলিশ সাধারণ মানুষকে গুজব না ছড়ানোর এবং বিভ্রান্তিকর তথ্য থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উসকানিমূলক তথ্য ছড়ালে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।