অবরোধের মধ্যেই হরমুজ প্রণালি পেরিয়ে গেলো রাশিয়ান নৌযান
মেলবোর্ন, ২৮ এপ্রিল- মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ও অবরোধ পরিস্থিতির মধ্যেই হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে রাশিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি বিলাসবহুল নৌযান ‘নর্ড’। ঘটনাটি নতুন করে আন্তর্জাতিক নজর…
মেলবোর্ন, ২৮ এপ্রিল- বাংলাদেশে আটক থাকা চার সাংবাদিকের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার এবং তাদের অবিলম্বে মুক্তির আহ্বান জানিয়েছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম অধিকার সংস্থা কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস (সিপিজে)। সংস্থাটি বলেছে, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে আনা এসব মামলা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হতে পারে এবং এটি সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করছে।
সম্প্রতি বাংলাদেশের আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আসাদুজ্জামানকে পাঠানো এক চিঠিতে সিপিজে এই আহ্বান জানায়। চিঠিতে বলা হয়, সাংবাদিক ফারজানা রুপা, শাকিল আহমেদ, মোজাম্মেল হক বাবু এবং শ্যামল দত্তের বিরুদ্ধে দায়ের করা অভিযোগ প্রত্যাহার করে তাদের মুক্তি নিশ্চিত করতে হবে।
সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, এই চার সাংবাদিককে ১৮ মাসেরও বেশি সময় ধরে হত্যা মামলায় আটক রাখা হয়েছে, যদিও এখনো তাদের বিরুদ্ধে কোনো বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি এবং আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্রও দাখিল করা হয়নি। প্রায় ৬০০ দিন ধরে চার্জশিট না দেওয়ার বিষয়টিকে আইনগত প্রক্রিয়ার গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করেছে সিপিজে।
চিঠিতে আরও বলা হয়, এসব মামলা আগের সরকারের সময়ে করা হয় এবং এগুলো মূলত সাংবাদিকদের পেশাগত কাজ ও রাজনৈতিক পরিচয়ের ধারণার সঙ্গে সম্পর্কিত বলে মনে হচ্ছে। সিপিজে দাবি করেছে, বর্তমান সরকার যে গণমাধ্যম স্বাধীনতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, এই ধরনের মামলা সেই অবস্থানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
সংস্থাটি আটক সাংবাদিকদের শারীরিক অবস্থার বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। এতে বলা হয়, ২০২৪ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর আটক হওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই সাংবাদিক শ্যামল দত্ত স্ট্রোক করেন, কিন্তু তার পরিবারকে তা তাৎক্ষণিকভাবে জানানো হয়নি।
অন্যদিকে, মোজাম্মেল হক বাবু ২০২৩ সালের শেষ দিকে প্রোস্টেট ক্যানসারের বড় ধরনের অস্ত্রোপচার করিয়েছিলেন। কিন্তু কারাবন্দি অবস্থায় তিনি প্রয়োজনীয় ফলোআপ চিকিৎসা পাচ্ছেন না, যার ফলে জটিলতা বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ফারজানা রুপাকে ২০২৪ সালের নভেম্বরে প্রায় দুই সপ্তাহ ‘কনডেম সেল’-এ রাখা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করা হয়েছে, যা সাধারণত মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দিদের জন্য ব্যবহৃত হয়।
সিপিজে চিঠিতে বলেছে, এই সাংবাদিকদের দ্রুত মুক্তি দিয়ে তাদের পরিবারে ফিরে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া উচিত। পাশাপাশি তাদের স্বাস্থ্যগত অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে তাৎক্ষণিক ও যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সংস্থাটি আরও মনে করে, এসব মামলার সমাধান বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তর ও গণমাধ্যম স্বাধীনতার বিষয়ে আন্তর্জাতিকভাবে একটি ইতিবাচক বার্তা দেবে।
একই সঙ্গে সিপিজে বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় বসার আগ্রহ প্রকাশ করেছে এবং চলতি বছরের শেষ দিকে ঢাকা সফরের সম্ভাবনার কথাও জানিয়েছে, যাতে গণমাধ্যম স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা বিষয়ে বিস্তৃত আলোচনা করা যায়।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au