যুবদল নেতার ভয়ে অফিসে যাচ্ছেন না উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা সুপ্রভা রাণী
পাবনার সুজানগর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সুপ্রভা রাণীকে কার্যালয়ে আড়াই ঘণ্টার বেশি সময় অবরুদ্ধ রেখে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা যুবদলের…
মেলবোর্ন, ১ মে- বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান চলাচল খাতে নতুন এক মাইলফলক স্থাপন করে যুক্তরাষ্ট্রের উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িং-এর কাছ থেকে ১৪টি নতুন উড়োজাহাজ কেনার চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষর করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। একসঙ্গে এতসংখ্যক উড়োজাহাজ ক্রয়ের ঘটনা দেশের ইতিহাসে এই প্রথম বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) রাতে রাজধানীর একটি হোটেলে আনুষ্ঠানিকভাবে এই চুক্তি সম্পন্ন হয়। অনুষ্ঠানে বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কাইজার সোহেল আহমেদ এবং বোয়িংয়ের ভাইস প্রেসিডেন্ট পল রিগি নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিতে সই করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, বিমানের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান রুমি এ. হোসেন এবং ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
চুক্তির আওতায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স মোট ১৪টি আধুনিক উড়োজাহাজ সংগ্রহ করবে। এর মধ্যে রয়েছে ৮টি বোয়িং ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার, ২টি বোয়িং ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার এবং ৪টি বোয়িং ৭৩৭-৮ ম্যাক্স। এই পুরো প্রকল্পের আর্থিক মূল্য ধরা হয়েছে প্রায় ৩৭০ কোটি মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩৭ হাজার কোটি টাকার সমপরিমাণ। এটি দেশের বেসামরিক বিমান চলাচল খাতে অন্যতম বৃহৎ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
চুক্তি অনুযায়ী, নতুন উড়োজাহাজগুলো ধাপে ধাপে সরবরাহ করা হবে। প্রথম উড়োজাহাজটি ২০৩১ সালের অক্টোবর মাসে হাতে পাওয়ার কথা রয়েছে এবং ২০৩৫ সালের মধ্যে পুরো বহর হস্তান্তর সম্পন্ন হবে। এই নতুন বহর যুক্ত হলে বিমানের দীর্ঘ দূরত্বের আন্তর্জাতিক রুট পরিচালনায় সক্ষমতা বাড়বে এবং আঞ্চলিক রুটগুলোও আরও আধুনিক ও কার্যকর হবে।
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বোয়িংয়ের ভাইস প্রেসিডেন্ট পল রিগি বলেন, এই চুক্তি দুই প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘদিনের অংশীদারিত্বকে আরও শক্তিশালী করবে। তিনি জানান, বোয়িং ৭৮৭-১০ উড়োজাহাজগুলো মূলত মধ্যপ্রাচ্যের রুটে এবং ৭৮৭-৯ উড়োজাহাজগুলো ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার দীর্ঘ দূরত্বের ফ্লাইটে ব্যবহার করা হবে। এছাড়া ৭৩৭-৮ ম্যাক্স উড়োজাহাজ যুক্ত হওয়ায় স্বল্প দূরত্বের রুটগুলোতেও আধুনিকতা আসবে। নতুন প্রজন্মের এই উড়োজাহাজগুলো প্রায় ২০ শতাংশ বেশি জ্বালানি সাশ্রয়ী হওয়ায় পরিচালন ব্যয় কমবে এবং যাত্রীদের জন্য আরামদায়ক ভ্রমণ নিশ্চিত করা যাবে।
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে উড়োজাহাজ কেনার বিষয়ে একটি প্রাথমিক সমঝোতা হয়েছিল, যা মূলত বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর কৌশলের অংশ ছিল। সেই সমঝোতার ধারাবাহিকতায় এবার চূড়ান্ত ক্রয়চুক্তি স্বাক্ষর করা হলো।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, এই চুক্তি শুধু একটি ক্রয়চুক্তি নয়, বরং বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কৌশলগত অংশীদারিত্বের প্রতিফলন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নতুন উড়োজাহাজ যুক্ত হলে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বৈশ্বিক সংযোগ ও প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা আরও বাড়বে।
বিমান সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই বড় বিনিয়োগ দেশের এভিয়েশন খাতকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে এবং আন্তর্জাতিক আকাশপথে বাংলাদেশের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au