সমীক্ষাকে ‘রাজনৈতিক চক্রান্ত’ বললেন মমতা, ভোটের ফল নিয়ে আত্মবিশ্বাসী তৃণমূল
মেলবোর্ন, ১ মে- পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচন শেষ হওয়ার পর বুথফেরত সমীক্ষা ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে রাজ্যজুড়ে। ভোট শেষ হওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন…
মেলবোর্ন, ১ মে- দীর্ঘ সময় ধরে দেশে ফেরা নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকা বাংলাদেশ জাতীয় দলের তারকা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান অবশেষে নিজেই সম্ভাব্য সময়সীমার ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, চলতি বছরের শেষ নাগাদ সব জটিলতার সমাধান হয়ে যাবে এবং তিনি দেশে ফিরতে পারবেন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে দেশে আসতে পারেননি সাবেক এই সংসদ সদস্য। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা, যার মধ্যে হত্যা মামলাও রয়েছে, সেই প্রেক্ষাপটেই তার দেশে ফেরা অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। গত জানুয়ারির শেষ দিকে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) তার মামলাগুলোর সুরাহা করে তাকে আবার দেশের ক্রিকেটে ফেরানোর উদ্যোগ নেয়। এ লক্ষ্যে তার আইনজীবীদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয় পরবর্তী পদক্ষেপের জন্য। তখন ধারণা করা হচ্ছিল, মার্চে পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ দিয়েই জাতীয় দলে ফিরতে পারেন তিনি। তবে সেই সম্ভাবনা শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হয়নি।
এরপর থেকে কয়েক দফা তার দেশে ফেরার গুঞ্জন শোনা গেলেও তা আর বাস্তবে রূপ নেয়নি। সাম্প্রতিক সময়ে নতুন বোর্ড গঠনের পর বিষয়টি আবার আলোচনায় আসে। এই প্রেক্ষাপটে ভারতের মুম্বাইয়ে এক অনুষ্ঠানে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে সাকিব নিজেই তার অবস্থান পরিষ্কার করেন।
তিনি বলেন, পরিস্থিতি এখনও পুরোপুরি অনুকূলে না এলেও তিনি আশাবাদী। তার ভাষায়, বছরের শেষের দিকে সব সমস্যার সমাধান হয়ে যেতে পারে। তিনি বলেন, দেশে ফেরা তার জন্য অনিবার্য, শুধু সময়টাই এখন প্রশ্ন। কীভাবে এবং কত দ্রুত সেটা সম্ভব হবে, তা নিশ্চিত করে বলতে না পারলেও তিনি ইতিবাচক থাকার কথাই জানান।
সাবেক এই অধিনায়ক আরও জানান, আগের বোর্ড তার ফেরার বিষয়ে আগ্রহ দেখালেও বাস্তবে তেমন কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তার মতে, শুধু আগ্রহ প্রকাশ আর বাস্তবায়নের মধ্যে বড় পার্থক্য রয়েছে। এখনও অনেকেই তাকে ফেরাতে চান বলে শুনলেও কার্যকর পদক্ষেপের অভাব নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেন তিনি।
বাংলাদেশের হয়ে সর্বশেষ ২০২৪ সালের অক্টোবরে ভারতের বিপক্ষে কানপুর টেস্টে খেলেছিলেন সাকিব। এরপর আর জাতীয় দলের জার্সিতে তাকে দেখা যায়নি। ৩৯ বছর বয়সী এই অলরাউন্ডার একাধিকবার জানিয়েছেন, দেশের মাটিতে পূর্ণাঙ্গ সিরিজ খেলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে বিদায় নিতে চান।
এদিকে তার দেশে ফেরা প্রসঙ্গে নতুন বোর্ড প্রধান তামিম ইকবাল-কেও প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়। তিনি বলেন, গত এক থেকে দুই বছর ধরে আলোচনায় শুধু একজন ক্রিকেটারকেই কেন্দ্র করে প্রশ্ন হচ্ছে, যা সঠিক নয়। তিনি সাবেক অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা ও নাঈমুর রহমান দুর্জয়-এর কথাও তুলে ধরে বলেন, তারাও একই ধরনের পরিস্থিতিতে আছেন, কিন্তু তাদের নিয়ে তেমন আলোচনা হচ্ছে না।
তামিম ইকবাল আরও বলেন, ক্রিকেট বোর্ডের দিক থেকে যেকোনো ধরনের ক্রিকেটিং সহায়তা দিতে তারা প্রস্তুত। তবে আইনি বিষয়গুলো সমাধান করেই সংশ্লিষ্টদের ফিরতে হবে। সরকারের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে নমনীয়তার ইঙ্গিত রয়েছে বলে জানান তিনি। তার মতে, যারা সমস্যার সমাধান করে ফিরতে পারবেন, তাদের সবাইকে উন্মুক্তভাবে স্বাগত জানানো হবে।
সব মিলিয়ে দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তার পর সাকিব আল হাসানের নিজস্ব বক্তব্য নতুন করে আশার সঞ্চার করেছে। এখন দেখার বিষয়, বছরের শেষ নাগাদ সত্যিই তিনি দেশে ফিরতে পারেন কি না এবং জাতীয় দলে আবারও মাঠে নামতে পারেন কি না।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au