নিহর ইউপিডিএফ সদস্য মো. ইমন হোসেন। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ৭ মে- খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলায় প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (ইউপিডিএফ-গণতান্ত্রিক) সদস্য মো. ইমন হোসেনকে (২৫)। বৃহস্পতিবার (৭ মে) ভোরে উপজেলার ইসলামপুর এলাকায় একটি স’ মিলের সামনে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
নিহত ইমন হোসেন পানছড়ি উপজেলার মোহাম্মদপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং রুহুল আমিনের ছেলে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ভোর ৬টার দিকে ইসলামপুর এলাকায় একটি স’ মিলের সামনে অবস্থান করছিলেন ইমন। এ সময় অজ্ঞাতপরিচয় দুর্বৃত্তরা তাকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান তিনি। হামলার পরপরই দুর্বৃত্তরা দ্রুত এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়।
ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে খবর পেয়ে পানছড়ি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। ঘটনাস্থল ঘিরে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক) এর পানছড়ি উপজেলার সহকারী পরিচালক বিকাশ ত্রিপুরা দাবি করেছেন, এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। তার অভিযোগ, সকালে সাংগঠনিক কাজে বের হওয়ার সময় ইউপিডিএফ (প্রসীত) গ্রুপের সশস্ত্র সদস্যরা ইমন হোসেনকে গুলি করে হত্যা করেছে।
তবে এ অভিযোগের বিষয়ে ইউপিডিএফের প্রসীত গ্রুপের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও কারা এর সঙ্গে জড়িত, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়ে গেছে।
পানছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফেরদৌস ওয়াহিদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, গুলিতে নিহত হওয়ার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে এবং তদন্ত শুরু করেছে। তিনি জানান, নিহত ব্যক্তি কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন কি না এবং কারা হত্যাকাণ্ডে অংশ নিয়েছে, তা তদন্ত ছাড়া নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। তদন্ত শেষে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।
খাগড়াছড়ি ও পার্বত্য অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন আঞ্চলিক সংগঠনের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ও সহিংসতার ঘটনা ঘটছে। সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকটি হত্যাকাণ্ডের পর নতুন করে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে।