‘আপনি তিন লাখ টাকা দেন’: চোরাই পণ্য জব্দের পর এসআই
মেলবোর্ন, ৭ মে- নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলায় চোরাই পথে আনা ভারতীয় প্রসাধনী জব্দ এবং দুই যুবক আটকের ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুলিশের এক উপপরিদর্শকের (এসআই) বিরুদ্ধে ঘুষ…
মেলবোর্ন, ৭ মে- পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির সরকার গঠনের শপথ অনুষ্ঠানের ঠিক আগে কলকাতার উপকণ্ঠ মধ্যমগ্রামে ভয়াবহ গুলিবর্ষণের ঘটনায় নিহত হয়েছেন বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর ঘনিষ্ঠ সহকারী চন্দ্রনাথ রথ। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন গাড়িচালক বুদ্ধদেব বেরা। ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। বিজেপি সরাসরি তৃণমূল কংগ্রেসের দিকে অভিযোগের আঙুল তুললেও তৃণমূল এই হত্যাকাণ্ডের সিবিআই তদন্ত দাবি করেছে।
বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে উত্তর ২৪ পরগনার দোহারিয়া এলাকায় হামলার ঘটনাটি ঘটে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বোর্ড লাগানো একটি সাদা স্করপিও গাড়িতে কলকাতা থেকে মধ্যমগ্রামের ফ্ল্যাটে ফিরছিলেন চন্দ্রনাথ রথ। গাড়িটি চালাচ্ছিলেন বুদ্ধদেব বেরা। পথে কয়েকটি মোটরসাইকেলে আসা সশস্ত্র দুর্বৃত্ত গাড়িটির পিছু নেয়।
এক পর্যায়ে দোহারিয়া এলাকায় পৌঁছালে হামলাকারীরা গাড়িটির গতি রোধ করে। এরপর খুব কাছ থেকে চন্দ্রনাথকে লক্ষ্য করে পরপর গুলি চালানো হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, চারটি মোটরসাইকেলে অন্তত আটজন হামলাকারী ছিল। তাদের সবার মাথায় হেলমেট ছিল এবং মোটরসাইকেলের নম্বরপ্লেটও ছিল না।
স্থানীয় একটি সূত্র জানায়, হামলাকারীদের একটি দল গাড়ির সামনে এসে স্করপিও থামাতে বাধ্য করে। এরপর পাশ থেকে গুলি চালানো হয়। অন্য একটি সূত্রের দাবি, মোটরসাইকেলের পাশাপাশি একটি সন্দেহজনক গাড়িও হামলায় ব্যবহৃত হয়েছিল। ওই গাড়িটি রাস্তা আটকে দেওয়ার পর হামলাকারীরা গুলি চালায়। পরে পুলিশ একটি সন্দেহভাজন গাড়ি জব্দ করলেও কাউকে আটক করতে পারেনি।
গুলিতে চন্দ্রনাথ রথ গুরুতর আহত হন। চালক বুদ্ধদেব বেরাও গুলিবিদ্ধ হন। দ্রুত তাদের স্থানীয় একটি নার্সিংহোমে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা চন্দ্রনাথকে মৃত ঘোষণা করেন। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, তার বুকের বাঁ পাশে দুটি গুলি লাগে। বুদ্ধদেবের বুক, পেট ও হাতে গুলি লেগেছে। পরে তাকে কলকাতার বাইপাস সংলগ্ন একটি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। রাতেই ঘটনাস্থলে পৌঁছান শুভেন্দু অধিকারী। তার সঙ্গে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, সুকান্ত মজুমদার, অর্জুন সিং, অগ্নিমিত্রা পালসহ দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত হন। বিজেপি কর্মী-সমর্থকেরা যশোর রোড অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন।
বিজেপি নেতারা অভিযোগ করেন, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির ঐতিহাসিক জয়ের পর পরিকল্পিতভাবে তাদের কর্মীদের ওপর হামলা চালানো হচ্ছে। রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেন, “বিরোধী দলনেতার ওপর অতীতে বহুবার হামলা হয়েছে। এবার তার ঘনিষ্ঠ সহকারীকে গুলি করে হত্যা করা হলো। এটি অত্যন্ত ভয়াবহ ঘটনা।”
তবে তৃণমূল কংগ্রেস এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। দলটির পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় বলা হয়, তারা এই হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে এবং আদালতের তত্ত্বাবধানে সিবিআই তদন্ত দাবি করছে। একইসঙ্গে তারা অভিযোগ করেছে, বিজেপি-সমর্থিত দুষ্কৃতীদের হাতেও তৃণমূলের কয়েকজন কর্মী নিহত হয়েছেন।
ঘটনার পরপরই তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। রাতেই ঘটনাস্থলে পৌঁছান রাজ্য পুলিশের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক সিদ্ধিনাথ গুপ্তা এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী সিআরপিএফের মহাপরিচালক জ্ঞানেন্দ্র প্রতাপ সিং। পুলিশ আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছে এবং হামলাকারীদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে কয়েকটি গুলির খোসা ও অবিস্ফোরিত গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, হামলায় অত্যাধুনিক গ্লক পিস্তল ব্যবহার করা হয়েছে। তদন্তকারীদের মতে, এ ধরনের অস্ত্র সাধারণ অপরাধীদের হাতে সচরাচর থাকে না। ফলে এটি পরিকল্পিত ‘সুপারি কিলিং’ হতে পারে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন, হামলার মূল লক্ষ্য শুধুই চন্দ্রনাথ ছিলেন, নাকি হামলাকারীরা ধারণা করেছিল ওই গাড়িতে শুভেন্দু অধিকারী থাকতে পারেন।
চন্দ্রনাথ রথ দীর্ঘদিন ধরে শুভেন্দু অধিকারীর ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে কাজ করছিলেন। তিনি ভারতীয় বিমানবাহিনীর সাবেক সদস্য ছিলেন। পরে সেনাবাহিনীর চাকরি ছেড়ে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন। বিজেপি সূত্রে জানা গেছে, ভবানীপুরসহ বিভিন্ন নির্বাচনী কেন্দ্রে শুভেন্দুর হয়ে কাজ করা অন্যতম ঘনিষ্ঠ সদস্য ছিলেন তিনি।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি বড় ধরনের জয় পেয়েছে। শুভেন্দু অধিকারী ভবানীপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করার পাশাপাশি নন্দীগ্রাম থেকেও জয়ী হন। আগামী শুক্রবার কলকাতায় বিজেপির গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে তাকে বিধানসভায় দলনেতা হিসেবে ঘোষণা করা হতে পারে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে। আর শনিবার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে পশ্চিমবঙ্গের প্রথম বিজেপি সরকারের শপথ অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি চলছে। এই পরিস্থিতিতে শপথের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে সংঘটিত এই হত্যাকাণ্ড রাজ্যের রাজনৈতিক উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au