বাগেরহাটে হিন্দু পরিবারে ভাঙচুর–লুটপাট। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ৭ মে- বাংলাদেশের খুলনা বিভাগের বাগেরহাটের শরণখোলায় জমি সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিরোধকে কেন্দ্র করে এক হিন্দু পরিবারের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এতে পরিবারের অন্তত পাঁচজন নারী আহত হয়েছেন। ঘটনার পর ২৬ জনের নাম উল্লেখ করে থানায় মামলা হয়েছে এবং এ পর্যন্ত দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার (৪ মে) দুপুরে উপজেলার ধানসাগর ইউনিয়নের রতিয়া রাজাপুর গ্রামে এ হামলার ঘটনা ঘটে। স্থানীয় বাসিন্দা রবীন্দ্রনাথ ঢালী ও একই এলাকার সোবহান হাওলাদারের পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। ওই বিরোধকে কেন্দ্র করেই সংঘর্ষে রূপ নেয় পরিস্থিতি।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, সোবহান হাওলাদারের নেতৃত্বে ৫০ থেকে ৬০ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র দা, হাতুড়ি, শাবল ও লাঠিসোটা নিয়ে রবীন্দ্রনাথ ঢালীর বসতবাড়িতে হামলা চালায়। হামলাকারীরা ঘরের দরজা, জানালা, বেড়া ও টিনের ছাউনি ভেঙে ফেলে। একইসঙ্গে ঘরের ভেতরের আসবাবপত্র ভাঙচুর করে এবং মূল্যবান মালামাল, নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র লুট করে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
হামলার সময় পরিবারের নারী সদস্যরা বাধা দিতে গেলে তাদের ওপরও আঘাত করা হয়। এতে আহত হন রবীন্দ্রনাথ ঢালীর স্ত্রী সীমা রানী (৩৫), মা দুলালী রানী (৭০), নানি বেলকা রানী (৯০), খালা বিমলা রানী (৬০) ও লীলা রানী (৬৫)। আহতদের শরণখোলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

হামলার সময় পরিবারের নারী সদস্যরা বাধা দিতে গেলে তাদের ওপরও আঘাত করা হয়। ছবিঃ ভিডিও থেকে নেয়া
ভুক্তভোগী রবীন্দ্রনাথ ঢালী বলেন, তিনি ১৯৯৯ সালে নানার কাছ থেকে জমি কিনে সেখানে বসবাস করে আসছেন। তবে সাম্প্রতিক জরিপে জমির রেকর্ড নিয়ে জটিলতা দেখা দেয়। তার দাবি, প্রতিবেশী সোবহান হাওলাদার পক্ষ জমির কিছু অংশ নিজেদের বলে দাবি করে দীর্ঘদিন ধরে উচ্ছেদের চেষ্টা চালিয়ে আসছে। বিষয়টি আদালতেও বিচারাধীন রয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে বহিরাগত লোকজন নিয়ে এসে তাদের বাড়িঘর সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দিয়েছে।
অন্যদিকে, অভিযুক্ত সোবহান হাওলাদার ও তার ছেলে মিরাজ হাওলাদার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাদের দাবি, জমিটি তাদের ক্রয়কৃত সম্পত্তি এবং দীর্ঘদিন ধরে প্রতিপক্ষ জোরপূর্বক দখল করে রেখেছে। তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন তারা।
ঘটনার পরদিন মঙ্গলবার (৫ মে) রবীন্দ্রনাথ ঢালী ২৬ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও কয়েকজনকে আসামি করে শরণখোলা থানায় মামলা করেন। পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে দুইজনকে গ্রেপ্তার করে, যাদের পরে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন উত্তর রাজাপুর গ্রামের রাজু শিকদার এবং রাজৈর গ্রামের নাইম ইসলাম।
শরণখোলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামিনুল হক জানান, জমি সংক্রান্ত বিরোধ থেকেই এ ঘটনার সূত্রপাত। ঘটনাস্থল থেকে দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। ইতোমধ্যে দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ঘটনার পর বাগেরহাটের পুলিশ সুপার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।
এ ঘটনায় এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। তারা দ্রুত সব আসামির গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।