গত বছরের ২১ জুলাই দুপুরে উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের একটি দ্বিতল ভবনে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ৭ মে- রাজধানীর উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়ে শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনায় অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মোহাম্মাদ ইউনূস, সাবেক আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল এবং বিমানবাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁনসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন করা হয়েছে। আলোচিত এ ঘটনায় অবহেলাজনিত মৃত্যু ও প্রতারণার অভিযোগ এনে বৃহস্পতিবার (৭ মে) ঢাকার একটি আদালতে আবেদন করেন নিহত শিক্ষার্থী উক্য ছাইং মার্মার বাবা উসাইমং মারমা।
ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলামের আদালতে সকালে মামলার আবেদনটি দাখিল করা হয়। পরে আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করেন এবং আদেশের জন্য আবেদনটি অপেক্ষমাণ রাখেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাদীপক্ষের আইনজীবী এ কে এম শরিফ উদ্দিন।
মামলার আবেদনে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দায়িত্বে অবহেলা, যথাযথ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থতা এবং ত্রুটিপূর্ণ ব্যবস্থাপনার কারণেই ভয়াবহ এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। এতে নিরীহ শিক্ষার্থীদের প্রাণহানি হয়েছে এবং অসংখ্য মানুষ আহত হয়েছেন।

ড. মুহাম্মদ ইউনূস, ছবিঃ সংগৃহীত
মামলায় আসামি করা অন্যদের মধ্যে রয়েছেন বিমানবাহিনীর এয়ার ভাইস মার্শাল মোর্শেদ মোহাম্মদ খায়ের উল আফসার, গ্রুপ ক্যাপ্টেন রিফাত আক্তার জিকু, মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ জিয়াউল আলম, উপদেষ্টা নূরনবী (অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল), প্রশাসনিক শাখার প্রিন্সিপাল মাসুদ আলম, স্কুল শাখার প্রিন্সিপাল রিফাত নবী, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান, উত্তরার ফিল্ড সুপারভাইজার, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব সিদ্দিক জুবায়ের, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব, অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক শিক্ষা উপদেষ্টা সি আর আবরার, সাবেক পরিবেশ উপদেষ্টা ডা. রেজওয়ানা হাসান এবং সাবেক প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
আবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে, দুর্ঘটনার ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও যথাযথ প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও জনবসতিপূর্ণ এলাকায় সামরিক উড্ডয়ন কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে নিরাপত্তা প্রটোকল কঠোরভাবে অনুসরণ করা হয়নি বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
গত বছরের ২১ জুলাই দুপুরে উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের একটি দ্বিতল ভবনে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়। আকস্মিক ওই দুর্ঘটনায় স্কুল ভবনের একটি অংশ ধসে পড়ে এবং আগুন ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনাস্থলেই বহু শিক্ষার্থী ও শিক্ষক আহত হন। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও কয়েকজনের মৃত্যু হয়। সব মিলিয়ে এ ঘটনায় ৩৬ জন নিহত এবং অন্তত ১২৪ জন আহত হন।
দুর্ঘটনার পর গঠিত তদন্ত কমিটি তাদের প্রতিবেদনে জানায়, যুদ্ধবিমানটির পাইলটের উড্ডয়নজনিত ত্রুটির কারণেই দুর্ঘটনাটি ঘটে। তবে নিহতদের পরিবারের দাবি, শুধু পাইলটের ভুল নয়, বরং সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার ব্যর্থতা এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত বিভিন্ন সংস্থার অবহেলার কারণেই এমন মর্মান্তিক প্রাণহানি ঘটেছে।
এ ঘটনায় আদালতে মামলার আবেদন ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। নিহত শিক্ষার্থীদের পরিবার এবং আহতদের স্বজনরা দীর্ঘদিন ধরে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ বিচার ও দায়ীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে আসছিলেন।