যুক্তরাষ্ট্রে সন্তানের ভরণপোষণ বকেয়া থাকলে বাবা-মায়ের পাসপোর্ট বাতিল
মেলবোর্ন, ৮ মে- সন্তানের ভরণপোষণের অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হলে এবার কঠোর পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, যেসব আমেরিকান নাগরিক দুই হাজার ৫০০…
মেলবোর্ন, ৮ মে- দীর্ঘ জল্পনার অবসান ঘটিয়ে পশ্চিমবঙ্গের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীর নাম ঘোষণা করেছে বিজেপি। শুক্রবার কলকাতার নিউ টাউনের বিশ্ববাংলা কনভেনশন সেন্টারে বিজেপির নবনির্বাচিত বিধায়কদের বৈঠকের পর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঘোষণা দেন। শনিবার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে নতুন সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
বিধায়কদলের বৈঠকে বিজেপির ২০৭ জন জয়ী প্রার্থীর উপস্থিতিতে শুভেন্দু অধিকারীকে সর্বসম্মতিক্রমে পরিষদীয় দলনেতা নির্বাচিত করা হয়। অমিত শাহ জানান, পরিষদীয় দলনেতা পদে আটটি প্রস্তাব জমা পড়লেও প্রতিটি প্রস্তাবেই ছিল একটিই নাম—শুভেন্দু অধিকারী। দ্বিতীয় কোনো নাম না আসায় তাকেই মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
বৈঠকে শাহ বলেন, “গঙ্গোত্রী থেকে গঙ্গাসাগর পর্যন্ত বিজেপির সরকার প্রতিষ্ঠিত হলো। শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জন্মভূমিতে এবার তার আদর্শের সরকার গঠিত হচ্ছে।”
এবারের বিধানসভা নির্বাচনে শুভেন্দু অধিকারী ছিলেন বিজেপির সবচেয়ে আলোচিত মুখ। তিনি একদিকে নিজের কেন্দ্র নন্দীগ্রামে জয় পেয়েছেন, অন্যদিকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ভবানীপুরে পরাজিত করে রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় চমক সৃষ্টি করেছেন। ভবানীপুরে প্রায় ১৫ হাজার ভোটের ব্যবধানে মমতাকে হারিয়ে মুখ্যমন্ত্রী পদে নিজের অবস্থান আরও শক্ত করেন তিনি।
২০২১ সালেও নন্দীগ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারিয়ে জাতীয় রাজনীতিতে আলোচনায় আসেন শুভেন্দু। এবার টানা দ্বিতীয়বারের মতো মুখ্যমন্ত্রীকে নির্বাচনে পরাজিত করায় বিজেপির ভেতরে তাকে মুখ্যমন্ত্রী করার দাবি আরও জোরালো হয়ে ওঠে।
শুক্রবারের বৈঠকে অমিত শাহর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন ওডিশার মুখ্যমন্ত্রী মোহন চরণ মাঝি, যিনি পশ্চিমবঙ্গের জন্য বিজেপির সহকারী পর্যবেক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বৈঠকের পর শুভেন্দু অধিকারী রাজ্যপাল আর এন রবির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সরকার গঠনের দাবি জানানোর প্রস্তুতি নেন।
এদিকে পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা এখনও থামেনি। তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে পরাজয় মেনে নেননি। তিনি অভিযোগ করেছেন, নির্বাচন কমিশনের সহযোগিতায় বিজেপি “ভোট লুট” করে জয় পেয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে রাজ্যে এক ধরনের সাংবিধানিক জটিলতাও তৈরি হয়।
বিধানসভার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর রাজ্যপাল নতুন সরকার গঠনের পথ তৈরি করলেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পদত্যাগ করেননি। ফলে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে নতুন সরকার শপথ নেওয়া পর্যন্ত প্রশাসনিক দায়িত্ব কার্যত রাজ্যপালের তত্ত্বাবধানে রয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে।
পশ্চিমবঙ্গের ২৯৪টি আসনের মধ্যে ২৯৩টির ফল ইতোমধ্যে প্রকাশিত হয়েছে। এর মধ্যে বিজেপি ২০৭টি আসনে জয় পেয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেস পেয়েছে ৮০টি আসন এবং বাম-কংগ্রেসসহ অন্যান্য দল পেয়েছে ছয়টি আসন। একটি আসনে পুনর্নির্বাচন বাকি রয়েছে।
শনিবারের শপথ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। বিজেপির ঐতিহাসিক এই জয়ের পর কলকাতাজুড়ে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au