দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া থেকে ফেরা যাত্রীর শরীরে হাম, সতর্ক সিডনি। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ৮ মে- দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া সফর শেষে অস্ট্রেলিয়ায় ফিরে আসা এক যাত্রীর শরীরে হাম শনাক্ত হওয়ার পর সতর্কতা জারি করেছে কর্তৃপক্ষ। অস্ট্রেলিয়ার সিডনির দক্ষিণাঞ্চলীয় সাদারল্যান্ড শায়ার এলাকায় এ রোগ শনাক্ত হওয়ার ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
নিউ সাউথ ওয়েলস (এনএসডব্লিউ) স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, আক্রান্ত ব্যক্তি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া থেকে ফেরার পর পরীক্ষায় হাম পজিটিভ শনাক্ত হন। তবে আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি বুঝতে না পেরে তিনি সাদারল্যান্ড শায়ারের বিভিন্ন এলাকায় ঘোরাফেরা করেছেন। এ সময় তিনি একাধিক স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র, খাবারের দোকান, শপিং সেন্টার, খুচরা বিক্রয় প্রতিষ্ঠান এবং একটি গাড়ি মেরামত কারখানায় গিয়েছিলেন।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সম্ভাব্য সংস্পর্শে আসা স্থানগুলোর পূর্ণাঙ্গ তালিকা এনএসডব্লিউ হেলথের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়গুলোতে ওই স্থানগুলোতে যারা গিয়েছিলেন, তাদের হাম রোগের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
চলতি বছরে এখন পর্যন্ত নিউ সাউথ ওয়েলসে ৪৭টি হাম রোগের ঘটনা শনাক্ত হয়েছে। এতে সংক্রামক এই রোগ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বেড়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।
সাউথ ইস্টার্ন সিডনি লোকাল হেলথ ডিস্ট্রিক্টের জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. অ্যানথিয়া কাটেলারিস বলেন, নির্ধারিত সময়ে সম্ভাব্য সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের শরীরে লক্ষণ দেখা দিচ্ছে কি না, তা সতর্কভাবে পর্যবেক্ষণ করতে হবে।
তিনি বলেন, “যদি কারও শরীরে উপসর্গ দেখা দেয় এবং তিনি ওয়েবসাইটে উল্লেখ করা স্থানগুলোতে উপস্থিত থেকে থাকেন, তাহলে দ্রুত চিকিৎসক বা স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে যোগাযোগ করতে হবে। প্রয়োজনে জরুরি বিভাগেও যেতে হবে।”
ডা. কাটেলারিস আরও বলেন, হাসপাতালে বা ক্লিনিকে যাওয়ার আগে ফোন করে জানিয়ে দেওয়া উচিত যে তিনি হাম রোগের সংস্পর্শে এসে থাকতে পারেন। এতে অপেক্ষমাণ কক্ষে অন্য রোগীদের সংক্রমণের ঝুঁকি কমবে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম রোগের প্রাথমিক লক্ষণের মধ্যে রয়েছে জ্বর, চোখ লাল হয়ে যাওয়া বা জ্বালা, নাক দিয়ে পানি পড়া এবং কাশি। সাধারণত তিন থেকে চার দিন পর মাথা ও মুখ থেকে শুরু করে পুরো শরীরে লালচে দাগ বা ফুসকুড়ি ছড়িয়ে পড়ে।
সূত্রঃ news.com.au