ইসরায়েলে প্রাণঘাতী হান্টাভাইরাস শনাক্ত , ছবি : সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ৮ মে- ইসরায়েলে বিরল ও প্রাণঘাতী হান্টাভাইরাসে আক্রান্ত এক রোগী শনাক্ত হওয়ায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। দেশটির স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আক্রান্ত ব্যক্তি কয়েক মাস আগে পূর্ব ইউরোপ সফরের সময় ভাইরাসটিতে সংক্রমিত হয়ে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) প্রকাশিত আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, জ্বর ও শারীরিক অসুস্থতার উপসর্গ দেখা দিলে ওই ব্যক্তি চিকিৎসা নেন। প্রথমে অ্যান্টিবডি পরীক্ষায় হান্টাভাইরাস সংক্রমণের ইঙ্গিত পাওয়া যায়। পরে পিসিআর পরীক্ষার মাধ্যমে ভাইরাসটির উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়।
ইসরায়েলের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রোগীর শারীরিক অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল রয়েছে। তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে নেওয়ার প্রয়োজন হয়নি এবং কঠোর আইসোলেশনেও রাখা হয়নি। তবে চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
কর্তৃপক্ষ বলছে, এটি ইসরায়েলে হান্টাভাইরাসের প্রথম ঘটনা নয়। প্রায় এক দশক আগে দক্ষিণ আমেরিকা সফর শেষে কয়েকজন ইসরায়েলির শরীরেও এই ভাইরাস শনাক্ত হয়েছিল। তবে এবার আক্রান্ত ব্যক্তি ইউরোপীয় ধরনের হান্টাভাইরাসে সংক্রমিত হয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা দক্ষিণ আমেরিকায় ছড়িয়ে পড়া অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ‘অ্যান্ডিজ’ স্ট্রেইন থেকে আলাদা।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও), যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (সিডিসি) এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সংস্থা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। সম্ভাব্য সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের শনাক্ত করতেও কাজ চলছে। যদিও বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, সাধারণ মানুষের জন্য এখনই বড় ধরনের ঝুঁকির আশঙ্কা কম।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হান্টাভাইরাস মূলত ইঁদুরজাতীয় প্রাণীর মাধ্যমে মানুষের শরীরে ছড়ায়। আক্রান্ত প্রাণীর মূত্র, লালা বা বিষ্ঠা শুকিয়ে বাতাসে ছড়িয়ে পড়লে সেই কণার মাধ্যমে সংক্রমণ ঘটতে পারে। শুরুতে সাধারণ জ্বর, ক্লান্তি ও শরীর ব্যথার মতো উপসর্গ দেখা দিলেও পরে তা মারাত্মক শ্বাসকষ্ট কিংবা কিডনি জটিলতায় রূপ নিতে পারে।
বর্তমানে এই ভাইরাসের নির্দিষ্ট কোনো চিকিৎসা নেই। তাই দ্রুত শনাক্তকরণ, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং ইঁদুরের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলাকেই সবচেয়ে কার্যকর প্রতিরোধ ব্যবস্থা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।