প্রমোদতরী এমভি হন্ডিয়াস। ছবি : সংগৃহীত
মেলবোর্ন,১০ মে- প্রাণঘাতী হান্টাভাইরাসে আক্রান্ত প্রমোদতরি এমভি হন্ডিয়াস স্পেনের ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জের টেনেরিফে পৌঁছেছে। জাহাজটিতে এখন পর্যন্ত তিনজনের মৃত্যু হয়েছে এবং আরও আটজন অসুস্থ হয়েছেন। পরিস্থিতি মোকাবিলায় যাত্রীদের ধাপে ধাপে সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি শুরু করেছে স্পেন সরকার।
রোববার ভোরে টেনেরিফের দক্ষিণাঞ্চলের গ্রানাডিলা বন্দরের কাছে নোঙর করে জাহাজটি। এতে মোট ১৪৬ জন যাত্রী ছিলেন। সংক্রমণ ঠেকাতে গত কয়েকদিন ধরে যাত্রী ও নাবিকদের নিজ নিজ কেবিনে অবস্থান করতে বলা হয়। বর্তমানে নতুন করে কারও মধ্যে উপসর্গ দেখা না গেলেও সবাইকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জের প্রেসিডেন্ট ফার্নান্দো ক্লাভিহো জানিয়েছেন, যাত্রীদের ছোট ছোট দলে ভাগ করে বিশেষ নৌকায় তীরে আনা হবে। পরে বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের জন্য আলাদা বিশেষ ফ্লাইটের ব্যবস্থা করা হবে যাতে তারা সাধারণ মানুষের সংস্পর্শে না আসেন।
যুক্তরাজ্যের ১৯ জন যাত্রী ও তিনজন ক্রুকে বিশেষ বিমানে মার্সিসাইডে নেওয়া হবে। সেখানে তাদের উইরালের অ্যারো পার্ক হাসপাতালে কোয়ারেন্টিনে রাখা হবে। এছাড়া জার্মানি, বেলজিয়াম, গ্রিসসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিকদেরও পৃথক বিমানে নিজ নিজ দেশে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।
স্পেনের স্বাস্থ্যমন্ত্রী মনিকা গার্সিয়া জানিয়েছেন, স্প্যানিশ নাগরিকদের জন্য বিশেষ বিমান প্রস্তুত রাখা হয়েছে। তবে কিছু দেশের ফ্লাইট এখনো নিশ্চিত না হওয়ায় কয়েকজন যাত্রীকে আরও কিছুদিন জাহাজে থাকতে হতে পারে। সোমবার থেকে আবহাওয়া খারাপ হওয়ার আশঙ্কা থাকায় পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, হান্টাভাইরাস কোভিড-১৯ এর মতো দ্রুত সংক্রমণ ছড়ায় না। তবে উপসর্গ প্রকাশ পেতে কয়েকদিন থেকে আট সপ্তাহ পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। প্রথমে জ্বর, মাথাব্যথা ও শরীর ব্যথার মতো ফ্লুর উপসর্গ দেখা দিলেও গুরুতর ক্ষেত্রে এটি শ্বাসকষ্ট ও মৃত্যুর কারণ হতে পারে।
গত ১১ এপ্রিল প্রথম একজন ডাচ যাত্রী এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। পরে তার স্ত্রী এবং আরও এক জার্মান যাত্রীর মৃত্যুর পর জাহাজটিকে ঘিরে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ তৈরি হয়।