আসামের নতুন সরকারের শপথে থাকছেন মোদি, শাহ-রাজনাথসহ এনডিএর শীর্ষ নেতারা
মেলবোর্ন, ১১ মে- ভারতের আসামে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকারের নতুন মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানকে ঘিরে ব্যাপক প্রস্তুতি চলছে। এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দিতে…
মেলবোর্ন, ১১ মে- দীর্ঘদিনের যুদ্ধ ও অবরোধে গাজা উপত্যকার স্বাস্থ্যব্যবস্থা ভয়াবহ সংকটে পড়েছে। হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসাসেবা প্রায় ভেঙে পড়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটি (আইসিআরসি) বলছে, গাজার স্বাস্থ্যখাত এখন কার্যত চলমান সশস্ত্র সংঘাতের শিকার হয়ে উঠেছে।
রাফায় অবস্থানরত আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটির মুখপাত্র প্যাট গ্রিফিথস জানিয়েছেন, গাজার হাসপাতালগুলো আর স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে পারছে না। অনেক হাসপাতালের দেয়ালে গুলির চিহ্ন রয়েছে, আবার অনেক ভবন বিস্ফোরণের আঘাতে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা সীমিত সরঞ্জাম ও ভয়াবহ ঝুঁকির মধ্যে চিকিৎসাসেবা চালিয়ে যেতে বাধ্য হচ্ছেন।
তিনি বলেন, “গাজার স্বাস্থ্যব্যবস্থা এখন সশস্ত্র সংঘাতের বলিতে পরিণত হয়েছে। হাসপাতালগুলোতে কাজ করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে।”
প্যাট গ্রিফিথস জানান, গত বছরের অক্টোবরের পর ঘোষিত যুদ্ধবিরতির কারণে কিছু ক্ষেত্রে বড় ধরনের হতাহতের ঘটনা কিছুটা কমেছে। তবে পরিস্থিতি এখনো ভয়াবহ রয়ে গেছে। প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও প্রাণহানি, হামলা ও ধ্বংসযজ্ঞ ঘটছে।
তিনি একটি হৃদয়বিদারক ঘটনার কথাও তুলে ধরেন। এক সার্জনের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, গুরুতর মাথার আঘাতে আহত এক শিশুকে বাঁচানোর জন্য চিকিৎসকরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত শিশুটি সেই চিকিৎসকের হাতের ওপরই মারা যায়।
গ্রিফিথস বলেন, এ ধরনের ঘটনা চিকিৎসকদের মানসিকভাবে ভেঙে দিচ্ছে। প্রতিদিন মৃত্যুর মুখোমুখি হওয়া, আহত শিশুদের আর্তনাদ শোনা এবং সীমিত সুযোগের মধ্যে জীবন বাঁচানোর চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর গভীর মানসিক চাপ তৈরি করছে।
তিনি আরও বলেন, গাজার সাধারণ মানুষের জন্য প্রতিটি দিনই এখন মৃত্যু, ভয় এবং ধ্বংসের বাস্তবতা নিয়ে হাজির হচ্ছে। হাসপাতাল, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা মানবিক বিপর্যয়ের মধ্যেও কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন, কিন্তু প্রয়োজনের তুলনায় চিকিৎসা সরঞ্জাম, ওষুধ ও অবকাঠামো ভয়াবহভাবে অপ্রতুল।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ও ত্রাণ সংস্থাগুলো বারবার সতর্ক করে বলছে, দ্রুত কার্যকর মানবিক সহায়তা ও নিরাপদ চিকিৎসা পরিবেশ নিশ্চিত না করা গেলে গাজার স্বাস্থ্যব্যবস্থা পুরোপুরি ধসে পড়তে পারে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au