বাংলাদেশ

বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র জ্বালানি চুক্তি

বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে যেভাবে কৌশলগত প্রভাব বিস্তার করছে যুক্তরাষ্ট্র

  • 1:21 pm - May 16, 2026
  • পঠিত হয়েছে:২৭ বার
১৪ মে ওয়াশিংটনে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি দপ্তরে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান এবং মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইটের মধ্যে “কৌশলগত জ্বালানি সহযোগিতা সমঝোতা স্মারক” সই হয়। ছবিঃ সংগৃহীত

মেলবোর্ন, ১৬ মে- বাংলাদেশের জ্বালানি খাত, বিশেষ করে প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহব্যবস্থার ওপর যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক দুই কোম্পানি শেভরন ও এক্সেলেরেট এনার্জির প্রভাব উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে বলে বিভিন্ন কূটনৈতিক ও জ্বালানি–সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। সাম্প্রতিক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক, সমঝোতা স্মারক সই এবং জ্বালানি সহযোগিতা সম্প্রসারণকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের নতুন মাত্রা তৈরি হয়েছে বলে পর্যবেক্ষকদের ধারণা।

গত ১২ ও ১৩ মে ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন পৃথকভাবে শেভরনের প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের লা রোসা এবং এক্সেলেরেট এনার্জির প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা স্টিভেন কোবোসের সঙ্গে বৈঠক করেন। এসব বৈঠকে বাংলাদেশের জ্বালানি সহযোগিতা, অবকাঠামো সম্প্রসারণ এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি সরবরাহ নিয়ে আলোচনা হয় বলে জানা গেছে।

এরপর ১৪ মে ওয়াশিংটনে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি দপ্তরে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান এবং মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইটের মধ্যে “কৌশলগত জ্বালানি সহযোগিতা সমঝোতা স্মারক” সই হয়। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের আগে বাংলাদেশের জ্বালানি মন্ত্রণালয়, আইন মন্ত্রণালয় এবং পেট্রোবাংলার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পূর্ণাঙ্গ মতামত বা যাচাই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি।

বাংলাদেশের মোট প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহের প্রায় ৬০ শতাংশ বর্তমানে শেভরনের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। পেট্রোবাংলার সঙ্গে উৎপাদন বণ্টন চুক্তির আওতায় প্রতিষ্ঠানটি সিলেটের বিবিয়ানা এবং ভোলার শাহবাজপুর গ্যাসক্ষেত্র পরিচালনা করছে।

অন্যদিকে, বর্তমানে বাংলাদেশে এলএনজি সরবরাহে প্রায় একচ্ছত্র অবস্থানে রয়েছে এক্সেলেরেট এনার্জি। মার্কিন রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেনের সঙ্গে বৈঠকের পর জানানো হয়, বাংলাদেশের বাড়তে থাকা জ্বালানি চাহিদা পূরণে অফশোর এলএনজি টার্মিনাল, পাইপলাইন ও জ্বালানি অবকাঠামো সম্প্রসারণে কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি।

গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের সহকারী বাণিজ্য প্রতিনিধি ব্রেন্ডান লিঞ্চও বাংলাদেশি সরকারি কর্মকর্তা, মার্কিন ব্যবসায়ী প্রতিনিধি, বাংলাদেশি কোম্পানি এবং শ্রম সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি বাস্তবায়নের মাধ্যমে বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সম্পর্ক জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে দুই দেশের বাজারে প্রবেশ সহজ করা, বিনিয়োগ বাধা কমানো এবং বাণিজ্যিক সুযোগ সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

বিশ্লেষকদের মতে, গত প্রায় দুই বছরে বাংলাদেশের বহুমাত্রিক জ্বালানি নিরাপত্তা কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। ধীরে ধীরে জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থা একমুখী হয়ে যুক্তরাষ্ট্রনির্ভর হয়ে উঠছে বলে তাদের আশঙ্কা। দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশে দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি কৌশল বাস্তবায়নের চেষ্টা করে আসছে বলেও উল্লেখ করা হয়।

১৯৮০–এর দশক থেকেই মার্কিন তেল ও গ্যাস কোম্পানিগুলো বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চালিয়ে আসছে। নব্বইয়ের দশকে স্কিমিটার, অক্সিডেন্টাল ও ইউনোকালের মতো মার্কিন কোম্পানি বাংলাদেশ থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে ভারতে গ্যাস রপ্তানির উদ্যোগ নেয়। সে সময় যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনও বাংলাদেশ সফর করে ওই উদ্যোগের পক্ষে অবস্থান নেন। তবে তখনকার বাংলাদেশ সরকার সেই প্রস্তাবে সম্মতি দেয়নি।

সাম্প্রতিক সমঝোতা স্মারককে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার জ্বালানি নিরাপত্তা এবং কৌশলগত সহযোগিতার ক্ষেত্রে “ঐতিহাসিক অগ্রগতি” হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে। এতে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীলতা এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে এই চুক্তি বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ স্বস্তি বয়ে আনবে।

চুক্তির আওতায় বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে তুলনামূলক সাশ্রয়ী মূল্যে এলএনজি, এলপিজি এবং অন্যান্য জ্বালানি পণ্য আমদানি করতে পারবে বলে দাবি করা হয়েছে। একই সঙ্গে তেল, গ্যাস, ভূতাপীয় শক্তি ও জৈব জ্বালানির মতো খাতে দুই দেশের মধ্যে প্রযুক্তি ও জ্ঞান বিনিময়ের সুযোগও তৈরি হবে।

তবে নির্ভরযোগ্য একাধিক সূত্রের দাবি, এই সমঝোতা স্মারকের পেছনে বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের সামুদ্রিক এলাকায় প্রভাব বিস্তারের কৌশলগত লক্ষ্যও রয়েছে। সূত্রগুলো বলছে, ভবিষ্যতে বঙ্গোপসাগরে তেল ও গ্যাস অনুসন্ধানে মার্কিন কোম্পানিগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এছাড়া ভূকম্পন ও ভূতাত্ত্বিক জরিপ কার্যক্রমেও পেট্রোবাংলার সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করবে মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলো।

ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান এই সমঝোতাকে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তা এবং যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

সূত্রঃ নর্থ ইস্ট নিউজ

এই শাখার আরও খবর

৪৫ দিন বাড়ল ইসরায়েল-লেবানন যুদ্ধবিরতির মেয়াদ

মেলবোর্ন, ১৬ মে- ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও ৪৫ দিন বাড়ানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে নিশ্চিত করেছে মার্কিন…

ভারতের ‘ভোজশালা প্রাঙ্গণকে’ মসজিদ নয়, মন্দির হিসেবেই স্বীকৃতি দিল হাইকোর্ট

মেলবোর্ন, ১৬ মে- ভারতের মধ্যপ্রদেশ রাজ্যের ধার জেলায় অবস্থিত ঐতিহাসিক ‘ভোজশালা’ প্রাঙ্গণকে ঘিরে বহু দশকের ধর্মীয় ও আইনি বিরোধে বড় ধরনের রায় দিয়েছেন মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট।…

গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি নবায়ন ঘিরে অনিশ্চয়তা, নতুন ফর্মুলা নিয়ে আপত্তি বাংলাদেশের

মেলবোর্ন, ১৬ মে- বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ শেষ হতে আর কয়েক মাস বাকি। আগামী ডিসেম্বরেই শেষ হচ্ছে ১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত…

লাইফ সাপোর্টে লড়াই শেষে নিভে গেল কারিনা কায়সারের জীবন

মেলবোর্ন, ১৬ মে- কয়েক দিন ধরে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে লড়াইয়ের পর না ফেরার দেশে পাড়ি জমালেন বাংলাদেশের জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও অভিনেত্রী কারিনা কায়সার। লিভার জটিলতায়…

মধ্যরাতে শাহ আলীর মাজারে হামলার অভিযোগ জামায়াত-শিবিরের বিরুদ্ধে

মেলবোর্ন, ১৬ মে- ঢাকার মিরপুরে ঐতিহাসিক শাহ আলী বোগদাদির মাজারে হামলার ঘটনা নিয়ে উত্তেজনা ও আলোচনা তৈরি হয়েছে। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে মাজার প্রাঙ্গণে জড়ো হওয়া…

যুক্তরাষ্ট্রের ওপর আস্থা নেই : ইরান

মেলবোর্ন, ১৬ মে- যুক্তরাষ্ট্রের ওপর ইরানের কোনো আস্থা নেই বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তবে ওয়াশিংটন আন্তরিকতা দেখালে তেহরান আলোচনায় বসতে প্রস্তুত বলেও…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au