নরেন্দ্র মোদির সরকার কীভাবে ভারতকে একদলীয় ব্যবস্থার দিকে ঠেলে দিচ্ছে
মেলবোর্ন, ১৬ মে- ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে জয়ী হয়ে তৃতীয়বারের মতো ভারতের প্রধানমন্ত্রী হন নরেন্দ্র মোদি। তবে এই জয় আগের দুই নির্বাচনের মতো জাঁকজমকপূর্ণ ছিল…
মেলবোর্ন, ১৬ মে- ভারতের মধ্যপ্রদেশ রাজ্যের ধার জেলায় অবস্থিত ঐতিহাসিক ‘ভোজশালা’ প্রাঙ্গণকে ঘিরে বহু দশকের ধর্মীয় ও আইনি বিরোধে বড় ধরনের রায় দিয়েছেন মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট। শুক্রবার ঘোষিত এই রায়ে আদালত স্থাপনাটিকে মুসলিম সম্প্রদায়ের দাবি অনুযায়ী ‘কামাল মওলা মসজিদ’ নয়, বরং হিন্দু সম্প্রদায়ের দাবি অনুযায়ী ‘দেবী সরস্বতী বা বাগদেবীর মন্দির’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। আদালতের এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে ভারতজুড়ে নতুন করে বিতর্ক ও রাজনৈতিক আলোচনা শুরু হয়েছে।
মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টের ইন্দোর বেঞ্চের বিচারপতি বিজয় কুমার শুক্লা এবং বিচারপতি অলোক অবস্থির সমন্বয়ে গঠিত ডিভিশন বেঞ্চ দীর্ঘ শুনানি শেষে এই রায় ঘোষণা করেন। আদালত পাঁচটি মূল আবেদন এবং তিনটি ইন্টারভেনশন আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছায়। রায়ে আদালত হিন্দু সম্প্রদায়কে সেখানে পূজার অধিকার প্রদান করেছে এবং পুরো প্রাঙ্গণের প্রশাসনিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক তত্ত্বাবধান ভারতের প্রত্নতাত্ত্বিক জরিপ বিভাগ বা আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়া (এএসআই)-এর অধীনেই বহাল রাখার নির্দেশ দিয়েছে।
একই সঙ্গে আদালত মুসলিম পক্ষকে জানিয়েছে, তারা চাইলে ধার জেলায় মসজিদ নির্মাণের জন্য বিকল্প জমির আবেদন করতে পারে এবং রাজ্য সরকার আইন অনুযায়ী সেই আবেদন বিবেচনা করবে। রায় ঘোষণার পরপরই ধার, ইন্দোর এবং আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। প্রশাসন উভয় সম্প্রদায়ের প্রতি শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে।
রায়ে আদালত বলেছে, ভোজশালা চত্বর এবং সংশ্লিষ্ট বিতর্কিত এলাকা ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয়ভাবে ‘ভোজশালা ও দেবী সরস্বতীর মন্দির’ হিসেবে ধর্মীয় মর্যাদা বহন করে। আদালতের পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করা হয়, সময়ের ধারাবাহিকতায় এই স্থানে হিন্দুদের পূজা-অর্চনা কখনও সম্পূর্ণ বন্ধ হয়নি। আদালত আরও উল্লেখ করে, বিভিন্ন ঐতিহাসিক দলিল, শিলালিপি, সাহিত্য এবং প্রত্নতাত্ত্বিক তথ্য এই স্থাপনাটিকে সংস্কৃত শিক্ষার কেন্দ্র এবং দেবী সরস্বতীর মন্দির হিসেবে চিহ্নিত করে।
আদালত বলেছে, অযোধ্যা মামলায় ভারতের সুপ্রিম কোর্ট যে নীতিগত দৃষ্টিভঙ্গি অনুসরণ করেছিল, ভোজশালা মামলার ক্ষেত্রেও সেই একই নীতির আলোকে প্রত্নতাত্ত্বিক তথ্য, ঐতিহাসিক দলিল ও ধর্মীয় ব্যবহার বিবেচনা করা হয়েছে। বিচারপতিরা পর্যবেক্ষণে বলেন, তীর্থযাত্রীদের মৌলিক সুবিধা নিশ্চিত করা, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং মন্দিরের আদি ধর্মীয় বৈশিষ্ট্য সংরক্ষণ করা সাংবিধানিক দায়িত্বের অংশ।
আদালতের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ ছিল লন্ডনে সংরক্ষিত দেবী সরস্বতীর একটি প্রাচীন মূর্তি নিয়ে। আবেদনকারীরা দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছেন, এই মূর্তিটি ভোজশালা থেকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল এবং সেটিকে পুনরায় ভারতে ফিরিয়ে এনে ভোজশালায় স্থাপন করা উচিত। আদালত জানিয়েছে, এ বিষয়ে ভারত সরকারের কাছে একাধিক আবেদন করা হয়েছে এবং সরকার চাইলে সেই আবেদন বিবেচনা করতে পারে।

১৯১২ সালে তোলা ভোজশালার একটি ছবি।
এই রায়ের মাধ্যমে বহু পুরোনো একটি বিরোধ নতুন মোড় নিয়েছে। ধার জেলার এই ঐতিহাসিক স্থাপনাটি বহু বছর ধরে দুই সম্প্রদায়ের দাবির কেন্দ্রবিন্দু। হিন্দু সম্প্রদায় দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছে, এটি ছিল দেবী সরস্বতীর প্রাচীন মন্দির ও সংস্কৃত শিক্ষাকেন্দ্র। অন্যদিকে মুসলিম সম্প্রদায় এটিকে ‘কামাল মওলা মসজিদ’ হিসেবে ব্যবহার করে আসছে এবং দাবি করছে, শত শত বছর ধরে সেখানে নামাজ আদায় হয়ে আসছে।
১৯৩৫ সালে তৎকালীন ধার রাজ্য প্রশাসনের একটি আদেশের মাধ্যমে মুসলিম সম্প্রদায়কে সেখানে নামাজ আদায়ের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। পরে দীর্ঘ সময় ধরে প্রশাসনিকভাবে একটি সমঝোতা বজায় ছিল। বিশেষ করে ২০০৩ সাল থেকে চালু হওয়া ব্যবস্থায় প্রতি মঙ্গলবার হিন্দুদের পূজা এবং শুক্রবার মুসলিমদের নামাজ আদায়ের অনুমতি দেওয়া হয়। সপ্তাহের অন্যান্য দিন পর্যটকদের জন্য প্রাঙ্গণ উন্মুক্ত রাখা হতো।
তবে ২০২২ সালে বিরোধটি নতুন মাত্রা পায়। ‘হিন্দু ফ্রন্ট ফর জাস্টিস’সহ কয়েকটি সংগঠন হাইকোর্টে আবেদন করে দাবি জানায়, ভোজশালাকে আনুষ্ঠানিকভাবে মন্দির হিসেবে ঘোষণা করতে হবে এবং মুসলিমদের নামাজ আদায় বন্ধ করতে হবে। একই সঙ্গে হিন্দুদের নিয়মিত পূজার পূর্ণ অধিকার নিশ্চিত করারও দাবি জানানো হয়।
এই আবেদনের পর হাইকোর্ট এএসআইকে একটি বৈজ্ঞানিক জরিপ পরিচালনার নির্দেশ দেয়। ২০২৪ সালে এএসআই টানা ৯৮ দিন ধরে ভোজশালা কমপ্লেক্সের প্রত্নতাত্ত্বিক জরিপ চালায়। এই জরিপকে কেন্দ্র করেও দেশজুড়ে বিতর্ক শুরু হয়। মুসলিম সংগঠন ‘মাওলানা কামালউদ্দিন ওয়েলফেয়ার সোসাইটি’ সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করে জরিপ বন্ধের দাবি জানায়। তবে সুপ্রিম কোর্ট জরিপে স্থগিতাদেশ দেয়নি। যদিও আদালত নির্দেশ দিয়েছিল, জরিপ প্রতিবেদন প্রকাশ না করে তা সিলগালা অবস্থায় রাখতে হবে এবং চূড়ান্ত শুনানিতে সব আপত্তি বিবেচনা করতে হবে।
মামলার শুনানিতে হিন্দু পক্ষ আদালতের সামনে বিভিন্ন শিলালিপি, স্থাপত্য ধ্বংসাবশেষ, ঐতিহাসিক গেজেট, ধর্মীয় আচার এবং বসন্ত পঞ্চমীতে পূজার ঐতিহ্যের কথা তুলে ধরে। তাদের দাবি ছিল, ভোজশালার স্থাপত্যশৈলী মূলত মন্দিরভিত্তিক এবং পরবর্তীতে সেখানে মসজিদের কিছু কাঠামো সংযোজন করা হয়।
অন্যদিকে মুসলিম পক্ষ যুক্তি দেয়, কয়েকশ বছর ধরে এই স্থানটি কামাল মওলা মসজিদ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। তারা দাবি করে, ধর্মীয় চরিত্র নির্ধারণের ক্ষমতা দেওয়ানি আদালতের এবং এএসআইয়ের জরিপ সঠিকভাবে পরিচালিত হয়নি। মুসলিম পক্ষের আইনজীবীরা আদালতে বলেন, জরিপে তাদের দেওয়া তথ্য ও নথিপত্র যথাযথভাবে বিবেচনায় নেওয়া হয়নি।
মামলায় জৈন সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকেও আবেদন করা হয়। তাদের দাবি, স্থাপনাটির স্থাপত্যশৈলী রাজস্থানের দিলওয়ারা জৈন মন্দিরগুলোর সঙ্গে মিল রয়েছে এবং এটিকে জৈন ঐতিহ্যের অংশ হিসেবেও বিবেচনা করা উচিত।
আইনজীবীরা কি বলছেন
রায় ঘোষণার পর হিন্দু পক্ষের আইনজীবী মনীশ গুপ্তা বলেন, আদালত এএসআইয়ের রিপোর্ট, ঐতিহাসিক প্রমাণ এবং স্থাপত্য বিশ্লেষণের ভিত্তিতে তাদের পক্ষে রায় দিয়েছে। তিনি বলেন, এই রায় বহু বছরের আন্দোলন ও আইনি লড়াইয়ের ফল।
আদালতের সিদ্ধান্তের পর, হিন্দু পক্ষের আইনজীবী মনীশ গুপ্তা জানান যে, মাননীয় আদালতে টানা ২৪ দিন ধরে মামলাটির নিয়মিত শুনানি হয়েছে।
তিনি বলেন, “হিন্দু ও মুসলিম উভয় পক্ষই তাদের যুক্তি ও প্রমাণ উপস্থাপন করেছে। উভয় পক্ষের যুক্তি শোনার পর, আদালত ভারতীয় পুরাতত্ব সর্বক্ষণ বিভাগ (এএসআই)-এর প্রতিবেদন, ঐতিহাসিক গেজেটিয়ার, হিন্দু পক্ষের উপস্থাপিত প্রত্নতাত্ত্বিক প্রমাণ এবং ভবনটির গঠন সম্পর্কিত তথ্য বিবেচনা করে আমাদের পক্ষে রায় দিয়েছে।”
মনীশ গুপ্তা আরও বলেন, “আমরা আদালতের সামনে এ-ও যুক্তি দিয়েছি যে, ভবনটির গঠনে মন্দির ও মসজিদের বৈশিষ্ট্য প্রতিফলিত হয়েছে এবং এটি যে কীভাবে একটি মন্দিরের কাঠামো, তা দেখানোর জন্য আমরা প্রমাণও দিয়েছি।”
মুসলিম পক্ষের আইনজীবী আশহার ওয়ারসি বলেন, তারা এই সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট নন।
তিনি বলেন, “আদালত পূর্বে মসজিদ হিসেবে বিবেচিত স্থানটিকে মন্দির হিসেবে ঘোষণা করেছে। আমাদের বলা হয়েছে যে অন্যত্র জমি দেওয়া হবে। আমরা সম্পূর্ণ সিদ্ধান্তটি বিস্তারিতভাবে খতিয়ে দেখব এবং যদি আমাদের দাবিগুলো সন্তোষজনকভাবে সমাধান না করা হয়, তাহলে আমরা অবশ্যই সুপ্রিম কোর্টে যাব।”
আশহার ওয়ারসি আরও বলেন, “আদালত বর্তমানে এটিকে মন্দির হিসেবে ঘোষণা করেছে, তাই সেখানে প্রার্থনা করা হবে না। আদালত মূলত এএসআই রিপোর্টের উপর ভিত্তি করে তার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, কিন্তু আমরা এই রিপোর্টকেও চ্যালেঞ্জ করব। আমাদের যুক্তি হলো, জরিপটি ভুলভাবে পরিচালিত হয়েছিল এবং আমাদের তথ্যগুলো যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়নি।”
তিনি আরও বলেন, “আমাদের দাবি হলো, এই সম্পত্তিটি প্রায় ৭০০ বছর ধরে মুসলিম সম্প্রদায়ের মালিকানাধীন। এই দাবিটি আর্কাইভড রাষ্ট্রীয় গেজেট এবং এএসআই-এর আদেশের উপর ভিত্তি করে করা হয়েছে।”
অন্যদিকে মুসলিম পক্ষের আইনজীবী আশহার ওয়ারসি রায়ে হতাশা প্রকাশ করে জানান, তারা ভারতের সুপ্রিম কোর্টে আপিল করবেন। তিনি বলেন, আদালত পূর্বে মসজিদ হিসেবে স্বীকৃত একটি স্থানকে মন্দির হিসেবে ঘোষণা করেছে, যা তাদের মতে গ্রহণযোগ্য নয়। তার দাবি, এএসআইয়ের জরিপ ছিল ত্রুটিপূর্ণ এবং মুসলিম পক্ষের ঐতিহাসিক দাবিগুলো যথেষ্ট গুরুত্ব পায়নি।

ভোজশালাকে ঘিরে অতীতেও একাধিকবার সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে ২০১৩ ও ২০১৬ সালে বসন্ত পঞ্চমী এবং শুক্রবার একই দিনে পড়ায় এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। তখন দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে সংঘর্ষের আশঙ্কায় প্রশাসনকে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করতে হয়েছিল।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টের এই রায় শুধু একটি ঐতিহাসিক স্থাপনার ধর্মীয় পরিচয় নির্ধারণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এটি ভারতের সাম্প্রদায়িক রাজনীতি, ধর্মীয় পরিচয়, ঐতিহাসিক স্থাপনা এবং বিচারব্যবস্থার ভূমিকা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে অযোধ্যা মামলার পর ভোজশালা ইস্যুকে অনেকেই ভারতের ধর্মীয় রাজনীতির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে দেখছেন।
এদিকে রায়ের পর দেশটির বিভিন্ন রাজনৈতিক ও ধর্মীয় সংগঠন নিজেদের অবস্থান তুলে ধরতে শুরু করেছে। হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলো এই রায়কে ‘ঐতিহাসিক বিজয়’ হিসেবে উল্লেখ করছে। অন্যদিকে মুসলিম সংগঠনগুলো বলছে, তারা আইনি লড়াই চালিয়ে যাবে এবং সুপ্রিম কোর্টে ন্যায়বিচারের আশা করছে।
১৯৩৫ থেকে ২০২৬ – একটি টাইমলাইন
তৎকালীন ধার রাজ্য প্রশাসনের তরফে একটি ব্যবস্থা চালু করা হয়, যার মাধ্যমে মুসলিম সম্প্রদায়কে প্রাঙ্গণের ভেতরে নামাজ পড়ার অনুমতি দেওয়া হয়। বর্তমান শুনানিতে এই ব্যবস্থার বৈধতা নিয়েও বিতর্ক হয়েছিল।
ভোজশালা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিবাদের জেরে, প্রশাসন মঙ্গলবারে পূজা এবং শুক্রবারে নামাজের অনুমতি দিয়ে একটি ব্যবস্থা চালু করে।
তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী দিগ্বিজয় সিংয়ের আমলে, জনসাধারণের প্রবেশ সাময়িকভাবে সীমিত করা হয়েছিল এবং মঙ্গলবারের পূজাও নিষিদ্ধ করা হয়েছিল।
পরবর্তীতে, হিন্দু সম্প্রদায়কে বসন্ত পঞ্চমীতে এবং মুসলিম সম্প্রদায়কে শুক্রবারে নির্ধারিত সময়ে নামাজ আদায়ের অনুমতি দেওয়া হয়।
আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত প্রাঙ্গণে জনসাধারণের প্রবেশ নিষিদ্ধ করে।
মঙ্গলবারে পুনরায় পূজার অনুমতি দেওয়া হয়। এএসআই-এর বর্তমান ব্যবস্থা অনুযায়ী, হিন্দু সম্প্রদায়কে মঙ্গলবার ও বসন্ত পঞ্চমীতে পূজা করার এবং মুসলিম সম্প্রদায়কে শুক্রবারে নামাজ পড়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। কমপ্লেক্সটি পর্যটকদের জন্যও খুলে দেওয়া হয়েছিল।
বসন্ত পঞ্চমী ও শুক্রবার একই দিনে পড়ায় ধার-এ উত্তেজনা দেখা দেয়। পুলিশকে অতিরিক্ত নিরাপত্তা মোতায়েন করতে হয়েছিল।
বসন্ত পঞ্চমী শুক্রবারে হওয়ায় আবারও একই রকম পরিস্থিতি তৈরি হয়। এলাকায় উত্তেজনা বেড়ে যায় এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা আবারও বাড়ানো হয়।
হিন্দু ফ্রন্ট ফর জাস্টিস এবং অন্যান্য আবেদনকারীরা ভোজশালার ধর্মীয় প্রকৃতি নির্ধারণ এবং হিন্দু সম্প্রদায়কে পূর্ণাঙ্গ পূজার অধিকার প্রদানের দাবিতে হাইকোর্টে একটি আবেদন দাখিল করে।
হাইকোর্টের নির্দেশে, এএসআই ৯৮ দিন ধরে ভোজশালা কমপ্লেক্সের একটি বৈজ্ঞানিক সমীক্ষা পরিচালনা করে।
সুপ্রিম কোর্ট হিন্দু পক্ষকে বসন্ত পঞ্চমীতে সারা দিন ধরে পূজা করার অনুমতি দেয়। পরবর্তীকালে, হাইকোর্ট এপ্রিল ও মে মাসে ১৯৩৫ সালের আদেশ, এএসআই-এর সমীক্ষা প্রতিবেদন এবং ধর্মীয় দাবিগুলো নিয়ে ধারাবাহিক শুনানি করে। ১২ই মে শুনানি শেষ হওয়ার পর হাইকোর্ট তার সিদ্ধান্ত সংরক্ষিত রাখে।
ভোজশালাকে ঘিরে প্রশাসনিক ও সাম্প্রদায়িক উত্তেজনার একটি ইতিহাস রয়েছে। ২০০৩, ২০১৩ এবং ২০১৬ সালে, যখন বসন্ত পঞ্চমী এবং শুক্রবার একই দিনে পড়েছিল, তখন ধার-এ উত্তেজনা দেখা দেয়, যা দুই পক্ষের মধ্যে সহিংসতার রূপ নেয়।
ভোজশালা রায় এখন ভারতের সবচেয়ে আলোচিত ধর্মীয় ও আইনি ঘটনাগুলোর একটি হয়ে উঠেছে। এই রায়ের প্রভাব শুধু মধ্যপ্রদেশেই নয়, বরং দেশটির সামগ্রিক সাম্প্রদায়িক ও রাজনৈতিক পরিবেশেও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
সূত্রঃ বিবিসি বাংলা
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au