জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ধর্ষণচেষ্টার বিচারের দাবিতে প্রক্টর কার্যালয়ে তালা। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ১৬ মে- জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে এক ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনার বিচারের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিমকে ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষণা করেছেন। একই সঙ্গে প্রক্টর কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে নতুন প্রশাসনিক ভবন অবরোধের কর্মসূচিও ঘোষণা করেছেন তাঁরা।
শনিবার সকাল পৌনে ১০টার দিকে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচি শেষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীরা এসব ঘোষণা দেন। পরে তাঁরা প্রক্টর কার্যালয়ের দুটি দরজার তালা ভেঙে নতুন তালা লাগিয়ে দেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ফজিলাতুন্নেছা হল সংসদের সাধারণ সম্পাদক ফারজানা তাবাসসুম। তিনি বলেন, গত ১২ মে বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘটিত ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার ঘটনার পরদিন নারী শিক্ষার্থীরা প্রশাসনের কাছে ছয় দফা দাবি উত্থাপন করেন। একই সঙ্গে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের জন্য ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম দেওয়া হয়। সময়সীমা শেষ হওয়ার পর বৃহস্পতিবার রাত দুইটা থেকে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করতে প্রশাসন ব্যর্থ হয়েছে। পাশাপাশি প্রশাসন ঘটনার তথ্য গোপন, বিভ্রান্তি সৃষ্টি এবং নিজেদের দায় এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছে। আন্দোলনকারীদের ভাষ্য, তাঁদের অন্যতম প্রধান দাবি ছিল ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে আসামি গ্রেপ্তার করতে না পারলে প্রক্টরিয়াল টিমের পদত্যাগ। কিন্তু সেই দাবি পূরণ হয়নি।
ফারজানা তাবাসসুম বলেন, ১৩ মে উপাচার্যের সামনে উত্থাপিত দাবিগুলো প্রশাসন মেনে নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিল এবং উপাচার্য স্বাক্ষরের মাধ্যমে তা স্বীকারও করেছিলেন। কিন্তু পরে প্রশাসন প্রকাশ্যে সেই অবস্থান অস্বীকার করে। তিনি এটিকে ‘প্রশাসনিক অসততা’ ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ‘বেইমানি’ বলে উল্লেখ করেন।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, একজন উপাচার্যের দায়িত্ব শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, সত্য প্রকাশ করা এবং ন্যায়বিচারের পক্ষে দাঁড়ানো। কিন্তু প্রশাসন বরং নিজেদের ব্যর্থতা আড়াল করতেই ব্যস্ত থেকেছে।
আন্দোলনকারীরা আরও জানান, উপাচার্যের বাসভবনের সামনে সারা রাত অবস্থান কর্মসূচিতে কয়েকজন নারী শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েন। তবুও তাঁরা কর্মসূচি চালিয়ে যান। তবে সকাল পর্যন্ত প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি। বরং আন্দোলনকারীদের দাবি, তাঁরা টালবাহানা, দায় এড়ানোর চেষ্টা ও অসংবেদনশীল আচরণের মুখোমুখি হয়েছেন।
তাঁদের অভিযোগ, ভোর পর্যন্ত প্রক্টর আন্দোলনকারীদের সামনে আসেননি। পরে উপাচার্যের বাসভবন থেকে বের হয়ে তিনি আন্দোলনরত নারী শিক্ষার্থীদের ‘ষড়যন্ত্রকারী’ বলে মন্তব্য করেন। শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, এই বক্তব্য দায়িত্বজ্ঞানহীন এবং আন্দোলনকে হেয় করার অপচেষ্টা।
দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আগামীকাল রোববার থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন প্রশাসনিক ভবন অবরোধ করে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
এর আগে শুক্রবার রাত দুইটার দিকে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান নেন নারী শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের দেওয়া ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটামের মধ্যে আসামি গ্রেপ্তার না হওয়ায় প্রক্টর ও প্রক্টরিয়াল টিমের পদত্যাগ দাবিতে তাঁরা আন্দোলনে নামেন। সারা রাত অবস্থানের পর শনিবার সকালে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করে হলের দিকে ফিরে যান আন্দোলনকারীরা।