বাংলাদেশ

আইভীকে দেখতে যাওয়ার অভিযোগে সিটি করপোরেশনের কর্মচারী চাকরিচ্যুত

  • 5:46 pm - June 05, 2026
  • পঠিত হয়েছে:২১৩ বার
টরিক আহমেদ সিটি কর্পোরেশনের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী। ছবিঃ সংগৃহীত

মেলবোর্ন, ৫ জুন- নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াত আইভীর সঙ্গে দেখা করতে যাওয়ার অভিযোগে সিটি করপোরেশনের এক চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীকে চাকরি থেকে ছাঁটাই করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে সিটি করপোরেশন প্রশাসন দাবি করেছে, সাবেক মেয়রের সঙ্গে দেখা করার কারণে নয়, বরং কর্মস্থলে অনিয়ম ও দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে ওই কর্মচারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

চাকরিচ্যুত কর্মচারীর নাম টরিক আহমেদ। তিনি নারায়ণগঞ্জ নগরীর দেওভোগ এলাকার বাসিন্দা এবং সাবেক মেয়র আইভীর বাড়ির পাশের বাড়ির বাসিন্দা বলে জানা গেছে। টরিক স্থানীয় বাসিন্দা কামাল আহমেদের ছেলে এবং নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনে পিয়ন হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

টরিক আহমেদের অভিযোগ, বুধবার গভীর রাতে জামিনে মুক্ত হয়ে কারাগার থেকে নিজ বাসায় ফেরেন ডা. সেলিনা হায়াত আইভী। দীর্ঘদিন পর প্রতিবেশী হিসেবে এবং ব্যক্তিগত পরিচয়ের কারণে তিনি আইভীর সঙ্গে দেখা করতে তাঁর বাসায় যান। পরদিন বৃহস্পতিবার দুপুরে সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট শাখাওয়াত হোসেন খান তাঁকে ডেকে পাঠান।

টরিকের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রশাসক তাঁর কাছে জানতে চান কেন তিনি সাবেক মেয়রের বাসায় গিয়েছিলেন এবং বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি প্রকাশ হয়েছে। তিনি আইভীর বাসায় যাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করলে প্রশাসক তাঁকে সাবেক মেয়রের কাছ থেকেই বেতন নেওয়ার কথা বলে চাকরি থেকে ছাঁটাই করেন।

এ ঘটনায় স্থানীয়ভাবে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই বিষয়টিকে রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখছেন, যদিও প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ ধরনের অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট শাখাওয়াত হোসেন খান চাকরিচ্যুতির বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তবে তিনি বলেন, টরিক আহমেদকে সাবেক মেয়র আইভীর সঙ্গে দেখা করার কারণে চাকরি থেকে সরানো হয়নি।

প্রশাসকের দাবি, টরিক সিটি করপোরেশনের কর্মচারী হলেও তিনি একই সঙ্গে একটি ব্যাংকের এজেন্ট শাখায় কাজ করতেন। তিনি নিয়মিত সিটি করপোরেশনে হাজিরা দিয়ে অন্যত্র চলে যেতেন। দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের অভিযোগ ছিল। এসব কারণ বিবেচনায় তাঁর বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

এদিকে প্রায় এক মাস কারাবন্দি থাকার পর বুধবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে জামিনে মুক্ত হয়ে নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগে নিজ বাসভবনে ফেরেন সাবেক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াত আইভী। বাড়িতে ফেরার পর থেকেই আত্মীয়-স্বজন, রাজনৈতিক সহকর্মী, শুভানুধ্যায়ী ও পরিচিতজনেরা তাঁর সঙ্গে দেখা করতে আসছেন। অনেকে সরাসরি সাক্ষাৎ করছেন, আবার কেউ কেউ ফোনে শুভেচ্ছা ও সমর্থন জানাচ্ছেন।

বৃহস্পতিবার বিকেলে আইভীর বাসভবনে যান সাবেক নারী কাউন্সিলর মিনুয়ারা বেগম, শাওন অংকন, সাদিয়া সাউদ এবং সাবেক কাউন্সিলর ও মুক্তিযোদ্ধা অলিউর রহমানসহ কয়েকজন। তাঁদের সঙ্গে আলাপচারিতার একপর্যায়ে প্রায় এক বছর আগে মারা যাওয়া তাঁর ভাইয়ের স্মৃতি মনে করে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন আইভী। এক পর্যায়ে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন বলে উপস্থিত ব্যক্তিরা জানিয়েছেন।

গত ৯ মে ভোরে নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগ এলাকায় নিজ বাসভবন থেকে ডা. সেলিনা হায়াত আইভীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলন ঘিরে সংঘটিত বিভিন্ন ঘটনায় হত্যা, হত্যাচেষ্টা এবং বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের মোট ১২টি মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর সম্প্রতি তিনি জামিন লাভ করেন এবং কারামুক্ত হন।

অন্যদিকে আইভীর বাসভবনের সামনে নতুন করে সিসি ক্যামেরা স্থাপন নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয় সূত্র জানায়, আইভীর বাড়িতে ফেরার ঠিক আগে বাড়ির গেটসংলগ্ন একটি ল্যাম্পপোস্টে অত্যাধুনিক সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে নানা ধরনের আলোচনা শুরু হয়।

তবে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিষয়টি কোনো ব্যক্তিকে কেন্দ্র করে নয়। নারায়ণগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) তারেক আল মেহেদী বলেন, শহরের বিভিন্ন এলাকায় কিশোর গ্যাংসহ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধের অংশ হিসেবে নতুন সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হচ্ছে। সেই কর্মসূচির আওতায় সাবেক মেয়রের বাসার সামনের এলাকাতেও ক্যামেরা বসানো হয়েছে। ওই এলাকায় মোট চারটি সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সাবেক মেয়রের সঙ্গে সাধারণ মানুষ বা শুভানুধ্যায়ীরা দেখা করতে পারবেন। তবে তিনি কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছেন কি না, রাজনৈতিক সভা-সমাবেশ করছেন কি না, সে বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নজরদারি অব্যাহত রাখবে। কোনো ধরনের আইন লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, ডা. সেলিনা হায়াত আইভী নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের পরিচিত মুখ। তিনি ২০০৩ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর টানা তিনবার নির্বাচিত মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করে দেশের অন্যতম আলোচিত নারী জনপ্রতিনিধি হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। তাঁর সাম্প্রতিক কারামুক্তি এবং পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

এই শাখার আরও খবর

ব্যালন ডি’অর ২০২৬: মনোনয়ন প্রকাশ শুরু, সেরা হওয়ার দৌড়ে যারা

ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তিগত পুরস্কার ব্যালন ডি’অরের ২০২৬ সালের মনোনয়ন প্রকাশ শুরু হয়েছে। মূল পুরস্কারের পাশাপাশি সেরা গোলরক্ষক, সেরা তরুণ খেলোয়াড়, সেরা কোচ ও…

ঢাকা-কলকাতা মৈত্রী এক্সপ্রেস: শিগগিরই মিলছে চালুর নির্দিষ্ট তারিখ

ঢাকা-কলকাতা রুটে বন্ধ থাকা মৈত্রী এক্সপ্রেস ট্রেন পুনরায় চালুর বিষয়ে শিগগিরই সুখবর দেওয়া সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। ট্রেনটি কবে…

তিন ছাত্রকে বলাৎকার, মাদরাসা শিক্ষকের কক্ষে মিলল উত্তেজক ওষুধ

ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে তিন আবাসিক ছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগে একটি মাদরাসার প্রধান শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার আবুল বাশার (৩৩) উপজেলার দুধসর এলাকার দারুল উলুম মাদরাসার প্রধান…

বাড়ির সামনে হিন্দু স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা, সোনা-টাকা ছিনতাই

নওগাঁর মহাদেবপুরে দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফেরার পথে অলিফ চন্দ্র দত্ত (৪৫) নামে এক স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। এ সময় তাঁর সঙ্গে থাকা…

হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও বঙ্গবন্ধু: রাজনীতির এক অবিস্মরণীয় অধ্যায়

​বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে গণতন্ত্রের মানসপুত্র, ক্ষণজন্মা রাজনীতিবিদ হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী এমন এক ব্যক্তিত্ব, যার হাত ধরে এ অঞ্চলের বহু রাজনৈতিক নেতার বিকাশ ঘটেছিল। তাঁর রাজনৈতিক…

‘পুলিশ বলে, তুই বাচ্চা হারাইছিস তো আমি কী করব?’: নিখোঁজ সন্তানের অভিভাবক

রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) সংবাদ সম্মেলনে নিখোঁজ সন্তানের সন্ধান চেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা অভিভাবকরা। তাদের অভিযোগ, সন্তান নিখোঁজ হওয়ার…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au