রামিসা হত্যা মামলার রায় আজ
মেলবোর্ন, ৭ জুন- রাজধানীর পল্লবীতে আলোচিত শিশু রামিসা আক্তার হত্যা মামলার বহুল প্রতীক্ষিত রায় আজ রোববার ঘোষণা করা হবে। ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের…
মেলবোর্ন, ৬ জুন- দক্ষিণ কোরিয়ার স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে ঘিরে ব্যালটপত্র সংকটের ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। ভোটগ্রহণে অনিয়ম ও ভোটাধিকার ক্ষুণ্ন হওয়ার অভিযোগ তুলে পুনর্নির্বাচনের দাবিতে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো বিক্ষোভ করেছেন হাজারো মানুষ।
শনিবার রাজধানী সিউলের এসকে অলিম্পিক হ্যান্ডবল স্টেডিয়ামের বাইরে কয়েক হাজার বিক্ষোভকারী জড়ো হয়ে নির্বাচনের ফল বাতিল এবং নতুন করে ভোটগ্রহণের দাবি জানান। স্থানীয় সংবাদ সংস্থা ইয়োনহাপের বরাত দিয়ে জানা গেছে, বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত প্রায় ১০ হাজার মানুষ সেখানে সমবেত হন। স্টেডিয়ামটিতেই গত বুধবার অনুষ্ঠিত স্থানীয় নির্বাচনের ভোট গণনা করা হয়েছিল।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, ব্যালটপত্রের ঘাটতির কারণে দেশের বিভিন্ন এলাকায় বহু ভোটার ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেননি। এ ঘটনায় জাতীয় নির্বাচন কমিশনের চেয়ারম্যান ইতোমধ্যে পদত্যাগ করেছেন। তবে বিক্ষোভকারীদের দাবি, শুধু পদত্যাগ নয়, পুরো নির্বাচনী প্রক্রিয়ার তদন্ত এবং পুনর্নির্বাচন আয়োজন করতে হবে।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, দেশের ১৪ হাজার ৩০০ ভোটকেন্দ্রের মধ্যে অন্তত ৫০টি কেন্দ্রে ব্যালটপত্র ফুরিয়ে যায়। এছাড়া প্রয়োজনীয় ব্যালট সরবরাহে বিলম্ব হওয়ায় আরও ২২টি কেন্দ্রে সাময়িকভাবে ভোটগ্রহণ স্থগিত রাখতে হয়। এতে বহু ভোটার ভোট দিতে না পেরে ফিরে যান।
এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সিউলের মেয়র ওহ সে-হুন। টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক বক্তব্যে তিনি বলেন, ব্যালটপত্রের সংকট কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং এটি নাগরিকদের সাংবিধানিক ভোটাধিকার লঙ্ঘনের শামিল। তিনি নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন এবং বিশেষ কৌঁসুলির মাধ্যমে স্বাধীন তদন্তের দাবি জানান।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া অনেকেই জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে ‘পুনর্নির্বাচন চাই’ স্লোগান দেন। স্থানীয় সম্প্রচারমাধ্যম ওয়াইটিএন ও ইয়োনহাপের সরাসরি সম্প্রচারে দেখা যায়, বিক্ষোভকারীদের মধ্যে বেশ কয়েকজন রক্ষণশীল রাজনৈতিক কর্মী ও জনপ্রিয় ইউটিউবারও উপস্থিত ছিলেন।
একপর্যায়ে কিছু বিক্ষোভকারী স্টেডিয়ামের প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান নিয়ে নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তাদের বের হতে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন। ইয়োনহাপ জানিয়েছে, শুক্রবার সকাল থেকে স্টেডিয়ামের ভেতরে অবস্থান করা কমিশনের কর্মকর্তারা শেষ পর্যন্ত শনিবার সেখান থেকে বের হতে সক্ষম হন।
তবে নির্বাচন কমিশন এখনো এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি। কমিশনের পক্ষ থেকে কর্মকর্তাদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া বা বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ সম্পর্কে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, ব্যালটপত্র সংকটের এই ঘটনা দক্ষিণ কোরিয়ার নির্বাচনী ব্যবস্থার ওপর জনআস্থার প্রশ্ন তুলেছে। পুনর্নির্বাচনের দাবিকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে এবং বিষয়টি দেশটির জাতীয় রাজনীতিতেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au