ভারতীয় অভিনেতা মনোজ যোশী ।ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ৮ জুন- বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ভারতের জনপ্রিয় অভিনেতা মনোজ যোশী। দেশটির বিভিন্ন এলাকায় হিন্দুদের ওপর হামলা ও সহিংসতার অভিযোগের প্রেক্ষাপটে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অনেক ঘটনার ব্যাপক আলোচনা হলেও বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগগুলো অনেক সময় যথাযথ গুরুত্ব পায় না।
ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এএনআইকে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় মনোজ যোশী বলেন, গাজা বা ফিলিস্তিনে কোনো ঘটনা ঘটলে বিশ্বজুড়ে মানুষ সরব হয়ে ওঠে। কিন্তু বাংলাদেশে কোনো হিন্দু নিহত হলে সে বিষয়ে খুব কম মানুষই প্রকাশ্যে কথা বলেন। বিষয়টি তাকে ব্যথিত করেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
অভিনেতার এই বক্তব্য আসে ময়মনসিংহে ২৭ বছর বয়সী দীপু চন্দ্র দাস হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট আলোচনার মধ্যে। গত ১৮ ডিসেম্বর একদল লোক তাকে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে পিটিয়ে হত্যা করে এবং পরে তার মরদেহে আগুন ধরিয়ে দেয় বলে অভিযোগ ওঠে। ঘটনাটি বাংলাদেশ ও ভারতের বিভিন্ন মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়ার জন্ম দেয়।
তবে পরবর্তীতে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ জানায়, দীপু চন্দ্র দাসের বিরুদ্ধে ধর্ম অবমাননার অভিযোগের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। অন্তর্বর্তী সরকারের শিক্ষা উপদেষ্টা সি আর আবরার নিহতের পরিবারের সঙ্গে দেখা করে সমবেদনা জানান এবং সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
এদিকে ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে ভারত-বাংলাদেশ কূটনৈতিক সম্পর্কেও কিছুটা উত্তেজনা দেখা দেয়। ভারত সরকার এক সপ্তাহের ব্যবধানে দ্বিতীয়বারের মতো বাংলাদেশি হাইকমিশনারকে তলব করে উদ্বেগ জানায়।
এরই মধ্যে আরেকটি ঘটনায় বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। দীপু চন্দ্র দাস হত্যার কয়েক দিনের মাথায় অমৃত মণ্ডল নামে আরেক হিন্দু ব্যক্তিকে চাঁদাবাজির অভিযোগকে কেন্দ্র করে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ ওঠে। দুটি ঘটনাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ। একই সঙ্গে এসব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা।