হামে শিশু মৃত্যু: ড. ইউনূসসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন খারিজ
মেলবোর্ন, ৯ জুন- হামের টিকা আমদানিতে গাফিলতি ও বিলম্বের কারণে শিশু মৃত্যুর অভিযোগে সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূর জাহান বেগমসহ…
মেলবোর্ন, ৯ জুন- ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) বলেছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর গঠিত সরকারের প্রথম ১০০ দিনে সুশাসন, জবাবদিহি ও দুর্নীতিবিরোধী অঙ্গীকার বাস্তবায়নে স্পষ্ট অগ্রগতি দেখা যায়নি। বরং প্রশাসন ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে পুরোনো রাজনৈতিক চর্চার ধারাবাহিকতা এখনো বহাল রয়েছে।
শনিবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে টিআইবির কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে “ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর গঠিত সরকারের প্রথম ১০০ দিনের সুশাসন ও দুর্নীতিবিরোধী অঙ্গীকার বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণ” শীর্ষক প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়। প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন টিআইবির সিনিয়র রিসার্চ ফেলো মো. জুলকারনাইন ও রিসার্চ ফেলো রাজিয়া সুলতানা।
সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, কিছু ক্ষেত্রে নতুন ধরনের নেতৃত্বের ইঙ্গিত মিললেও তা থেকে একটি নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে উঠছে কি না, তা এখনো অনিশ্চিত। তাঁর মতে, অনেক ক্ষেত্রে আগের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক ধাঁচই অব্যাহত রয়েছে।
টিআইবি প্রতিবেদনে কিছু উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সংসদ সদস্যদের শুল্কমুক্ত গাড়ি ও প্লট সুবিধা বাতিল, প্রধানমন্ত্রীর ভিভিআইপি প্রটোকল সীমিত করা, মন্ত্রীদের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের প্রটোকল বন্ধ করা, পাচার হওয়া অর্থ ফেরাতে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে চুক্তি এবং মন্ত্রণালয়ভিত্তিক ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা।
তবে সংস্থাটি বলছে, দুর্নীতি দমন কমিশন, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন এবং তথ্য কমিশন পুনর্গঠনে কার্যকর অগ্রগতি হয়নি, যা সুশাসন ও জবাবদিহির ক্ষেত্রে বড় ধরনের শূন্যতা তৈরি করছে।
আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ৯৭টি আইনে রূপ দেওয়া হলেও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, মানবাধিকার সুরক্ষা ও দুর্নীতি দমন সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ বাতিল বা স্থগিত করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
প্রশাসনে নিয়োগ ও পদায়নে মেধার পরিবর্তে রাজনৈতিক বিবেচনার প্রভাব এখনো রয়েছে বলেও টিআইবি অভিযোগ করেছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনেও রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে ১৯ জন উপাচার্যকে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
দুর্নীতি দমন কমিশনের কার্যক্রম দীর্ঘদিন স্থবির থাকায় তা দুর্নীতিবাজদের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করছে বলে মন্তব্য করেন ড. ইফতেখারুজ্জামান। তিনি বলেন, এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে দুর্নীতি স্বাভাবিক বিষয় হিসেবে গ্রহণ করার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, বাজার নিয়ন্ত্রণ, মাদক ও চাঁদাবাজি নিয়েও রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পৃষ্ঠপোষকতার অভিযোগ রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। একই সঙ্গে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানে হামলার ঘটনাকে উদ্বেগজনক হিসেবে দেখা হয়েছে।
গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ১০০ দিনে ১৩০টি ঘটনায় ১৮৮ জন সাংবাদিক হয়রানির শিকার হয়েছেন, ১২ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে এবং ৭ জন গ্রেপ্তার হয়েছেন।
সবশেষে টিআইবি বলেছে, সরকারের প্রথম ১০০ দিনের কার্যক্রম একদিকে কিছু সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিলেও, সুশাসন ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র গঠনের স্পষ্ট রূপরেখার অভাব এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au