বাংলা-ইতিহাসসহ ৬ বিষয়ের অনার্স বন্ধের কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি
মেলবোর্ন, ৯ জুন- বাংলা, ইতিহাস, দর্শনসহ কয়েকটি বিষয়ের অনার্স কোর্স বন্ধ হতে যাচ্ছে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে বিভ্রান্তি তৈরি হলেও এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত…
মেলবোর্ন, ৯ জুন- দেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার, যেখানে বাংলা, ইতিহাস ও দর্শনসহ কয়েকটি বিষয়ে অনার্স কোর্স বাতিলের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবিত নতুন মডেলে এসব বিষয় অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে নতুন কাঠামোতে আনার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে আইটি, কারিগরি শিক্ষা ও প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষতাভিত্তিক বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিয়ে পাঠ্যক্রমে বড় ধরনের সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার সিকিউরিটি, আউটসোর্সিং ও ফ্রিল্যান্সিংয়ের মতো আধুনিক দক্ষতা যুক্ত করা হবে। পাশাপাশি কলেজ পর্যায়ে ক্যারিয়ার সেন্টার স্থাপন এবং সাতটি বিদেশি ভাষা শেখানোর উদ্যোগও রয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বিষয়টি এখনো পর্যালোচনাধীন এবং সব অংশীজনের মতামতের ভিত্তিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন সম্প্রতি একাধিক অনুষ্ঠানে বলেন, সরকার এমন একটি শিক্ষা কাঠামো গড়ে তুলতে চায় যেখানে শুধু ডিগ্রি নয়, বরং বাস্তব দক্ষতাসম্পন্ন মানবসম্পদ তৈরি হবে। তাঁর মতে, বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় কর্মসংস্থানের সঙ্গে শিক্ষা খাতের সংযোগ দুর্বল, যার ফলে উচ্চশিক্ষিত বেকারত্ব বাড়ছে।
শিক্ষাবিদদের মতে, দেশের উচ্চশিক্ষায় দীর্ঘদিন ধরে দক্ষতা ও কর্মসংস্থানের ঘাটতি রয়েছে। সরকারি পরিসংখ্যানেও দেখা গেছে, গত এক দশকের বেশি সময়ে উচ্চশিক্ষিত বেকারত্ব উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। একই সঙ্গে দেশের বড় অংশের কর্মসংস্থান এখনো অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে নির্ভরশীল।
এদিকে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার কাঠামোতেও বড় পরিবর্তনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পরীক্ষা কেন্দ্র ব্যবস্থার চাপ কমাতে এবং দীর্ঘ পরীক্ষার সময়সূচি হ্রাস করতে বিষয় সংখ্যা ও কর্মদিবস কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড। এতে স্কুলগুলোতে স্বাভাবিক পাঠদান ব্যাহত হওয়া এবং শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপ কমানোর লক্ষ্য রয়েছে।
২০২৮ সাল থেকে নতুন শিক্ষাক্রম চালুর পরিকল্পনায় চারটি নতুন বিষয় যুক্ত করার কথা রয়েছে। এর মধ্যে চতুর্থ শ্রেণি থেকে ক্রীড়া ও সংস্কৃতি এবং ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ বিষয় অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি তৃতীয় ভাষা শিক্ষাকেও গুরুত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ও উচ্চশিক্ষাকে আরও দক্ষতা ও কর্মসংস্থানমুখী করতে সংস্কার কার্যক্রম হাতে নিয়েছে বলে জানিয়েছেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ। তাঁর মতে, দীর্ঘদিনের প্রচলিত শিক্ষা কাঠামো থেকে বেরিয়ে এসে বাস্তবমুখী দক্ষতা তৈরিই এখন মূল লক্ষ্য।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au