আমিই তো ১০ হাজার কর্মী ছাঁটাই করব : একে আজাদ
মেলবোর্ন, ১০ জুন- দেশে ক্রমবর্ধমান উৎপাদন ব্যয়, শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য প্রতিযোগিতার চাপের কারণে বড় ধরনের জনবল সংকোচনের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন দেশের…
মেলবোর্ন, ১০ জুন- অস্ট্রেলিয়ার রাজনীতিতে নতুন জোট-সমীকরণের ইঙ্গিত দিয়েছেন দেশটির বিরোধী জোটের অন্যতম শীর্ষ নেতা অ্যাঙ্গাস টেলর। ক্ষমতাসীন লেবার সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরাতে প্রয়োজন হলে ওয়ান নেশন পার্টিসহ অন্যান্য রাজনৈতিক শক্তির সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন তিনি। তার এ বক্তব্যকে ভবিষ্যতে ডানপন্থী রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সম্ভাব্য সমঝোতা বা জোটের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
মঙ্গলবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অ্যাঙ্গাস টেলরের কাছে জানতে চাওয়া হয়, ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার লিবারেল নেতা ব্যাসিল জেম্পিলাস ওয়ান নেশন পার্টির সঙ্গে কাজ করার বিষয়ে ইতিবাচক মন্তব্য করার পর লিবারেল পার্টিও কি একই পথে হাঁটছে? জবাবে তিনি বলেন, বর্তমানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো অস্ট্রেলিয়ার জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধার করা।
অ্যাঙ্গাস টেলর বলেন, “আমি চাই অস্ট্রেলিয়ার জনগণ সরাসরি আমাদের ভোট দিক। তবে সেই সমর্থন ফিরে পেতে হলে জনগণের বিশ্বাস পুনর্গঠন করতে হবে। মানুষ এখন ক্ষুব্ধ এবং তাদের সেই ক্ষোভের কারণ রয়েছে।”
তিনি অভিযোগ করেন, প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজের নেতৃত্বাধীন লেবার সরকার নির্বাচনের আগে এক ধরনের প্রতিশ্রুতি দিলেও পরে ভিন্ন পথে হেঁটেছে। এর ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে হতাশা ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।
টেলর বলেন, “অস্ট্রেলিয়ার জনগণকে হতাশ করা হয়েছে। তাদের এক কথা বলা হয়েছিল, কিন্তু বাস্তবে হয়েছে অন্য কিছু। এ কারণেই মানুষ এখন পরিবর্তন চাইছে।”
ওয়ান নেশনের সঙ্গে সম্ভাব্য রাজনৈতিক সহযোগিতার বিষয়ে সরাসরি কোনো প্রতিশ্রুতি না দিলেও তিনি বলেন, “ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়া লিবারেল পার্টি তাদের নিজস্ব সিদ্ধান্ত নেবে। তবে আমি আগেও বলেছি, এই ব্যর্থ লেবার সরকারকে সরাতে আমরা যাদের সঙ্গে সম্ভব কাজ করব।”
তার এই বক্তব্যকে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন। কারণ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অভিবাসন, জীবনযাত্রার ব্যয়, জ্বালানি নীতি এবং জাতীয় নিরাপত্তা ইস্যুতে ওয়ান নেশনের জনপ্রিয়তা কিছু অঞ্চলে বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে আগামী নির্বাচনে ডানপন্থী ভোট একত্রিত করার কৌশল হিসেবে দলটির সঙ্গে সমঝোতার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।
অ্যাঙ্গাস টেলর স্বীকার করেন, সাম্প্রতিক জরিপগুলোতে বিরোধী জোটের জনপ্রিয়তা কমেছে। তবে এর জন্য তিনি লেবার সরকারের অর্থনৈতিক নীতিকে দায়ী করেন। তার মতে, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, আবাসন সংকট এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা জনগণের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে।
তিনি বলেন, “মানুষ এখন ব্যাট ঘোরাতে শুরু করেছে। তারা পরিবর্তন চায়। তবে সেই পরিবর্তনের জন্য আমাদেরও আরও ভালো করতে হবে এবং প্রতিদিন জনগণের সামনে আমাদের পরিকল্পনা তুলে ধরতে হবে।”
এদিকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি অ্যাবটও সম্প্রতি লিবারেল পার্টি ও ওয়ান নেশনের মধ্যে অগ্রাধিকারভিত্তিক ভোট বিনিময়ের পক্ষে মত দিয়েছেন। তার মন্তব্যের পর থেকেই অস্ট্রেলিয়ার রাজনৈতিক অঙ্গনে সম্ভাব্য ডানপন্থী ঐক্য নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আগামী ফেডারেল নির্বাচনকে সামনে রেখে লিবারেল পার্টি, ন্যাশনাল পার্টি এবং ওয়ান নেশনের মধ্যে সম্পর্ক নতুন মাত্রা পেতে পারে। যদিও এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক জোট বা সমঝোতার ঘোষণা আসেনি, তবে অ্যাঙ্গাস টেলরের বক্তব্য স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত দিচ্ছে যে ক্ষমতাসীন লেবার সরকারের বিরুদ্ধে বৃহত্তর রাজনৈতিক সমন্বয়ের পথ খোলা রাখা হচ্ছে।
এদিকে লেবার পার্টির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। তবে অস্ট্রেলিয়ার রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন জোট-সমীকরণ নিয়ে আলোচনা ইতোমধ্যে জোরালো হয়ে উঠেছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au