বন্ধের দুই দশক পর জেএমবি নেতার মাদ্রাসা আবার সক্রিয় করল কারা?
মেলবোর্ন, ১০ জুন- বাংলাদেশের নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জামাআ’তুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ (জেএমবি) এর প্রতিষ্ঠাতা শায়খ আব্দুর রহমানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি মাদ্রাসা প্রায় দুই দশক পর আবার…
মেলবোর্ন, ১০ জুন- পাবনায় নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনা ঘটেছে। পরে ওই কিশোরীর মরদেহ নদী থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনার জেরে উত্তেজিত জনতা অভিযুক্তদের বাড়িতে আগুন দেয়। এতে দগ্ধ হয়ে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন অন্তত ৭ জন।
স্থানীয়রা জানায়, গত বুধবার (৩ জুন) বিকেলে পাবনার ভাড়ারায় পদ্মা নদী থেকে পাবনার এক স্কুল শিক্ষার্থীর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরের দিন ৪ জুন তার মরদেহ দাফন করা হয়। দাফন শেষে উত্তেজিত জনতা আসামিদের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে ওই বাড়ির সিলিন্ডার বিস্ফোরণ হয়ে আশপাশের অন্তত ১০ জন দগ্ধ হন। তাদের উদ্ধার করে প্রথমে পাবনা জেনারেল হাসপাতাল ও পরে ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার সকালে দুইজনের মৃত্যু হয়। এর আগে সোমবার সন্ধ্যায় আরেকজন মারা যান। আহতদের মধ্যে আরও দুইজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
নিহতরা হলেন- পাবনা সদর উপজেলার ভাড়ারা ইউনিয়নের পূর্ব রাঘবপুর গ্রামের তজির উদ্দিন শেখের ছেলে সুমন শেখ, পার্শ্ববর্তী নতুনপাড়া এলাকার শকুর হোসেনের ছেলে সাইফুল ইসলাম সাব্বির এবং একই এলাকার মৃত ইউসুফ আলী ছেলে শফি ওরফে সাপু।
পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম জানান, ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার একজন এবং মঙ্গলবার দুইজনের মৃত্যু হয়। এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
এদিকে পাবনা সদর থানার ওসি (তদন্ত) মনিরুজ্জামান বলেন, গত মঙ্গলবার (২ জুন) ওই কিশোরীকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় কিশোরীর ভাই খালিদ হাসান বাদী হয়ে ৪ জুন মামলা করেন। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে।
পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রেজিনুর রহমান বলেন, গত ৩ জুন পাবনা সদর উপজেলার ভাড়ারা ইউনিয়নের বলরামপুর এলাকায় পদ্মা নদী থেকে বস্তাবন্দি ও হাত-বাঁধা অবস্থায় এক কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করে। এ হত্যাকাণ্ডে মূল অভিযুক্ত মো. নাঈম (২০) ও তার দুই সহযোগী মো. ইয়াসিন শেখ (২১) ও মো. তুহিন প্রামানিককে (১৮) গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এ সময় মরদেহ গুমে ব্যবহৃত সেই সাদা রঙের প্রাইভেটকারটিও জব্দ করে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, নাঈমের সঙ্গে ওই স্কুলছাত্রীর প্রেমের সম্পর্ক ছিল। গত ২ জুন ওই ছাত্রী প্রেমিক নাঈমের বাড়িতে বেড়াতে যায়। পরে নাঈম জোরপূর্বক মেয়েটিকে ধর্ষণ করে। পরে একপর্যায়ে তাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডার জেরে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে নাঈম।
জিজ্ঞাসাবাদে নাঈম পুলিশকে জানিয়েছে, ধর্ষণের পর ঘটনা ধামাচাপা দিতে নাঈম ধারালো অস্ত্র দিয়ে কিশোরীকে ভয়ভীতি দেখায়। এতে ওই স্কুলছাত্রী রাজি না হলে নাঈম তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে। পরে হত্যাকাণ্ড ধামাচাপা দিতে তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী ইয়াসিন ও তুহিনকে নিজের বাড়িতে ডেকে আনে। পরে তারা বাজার থেকে প্লাস্টিকের বস্তা কিনে এনে কিশোরীর হাত বেঁধে মরদেহ বস্তাবন্দি করে নদীতে ফেলে দেয়।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রেজিনুর রহমান আরও বলেন, এ ঘটনায় ৪ জুন কিশোরীর মরদেহ দাফনের পরে উত্তেজিত জনতা আসামিদের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে আসামিদের বাড়ির সিলিন্ডার বিস্ফোরণ হয়ে আশপাশের অন্তত ১০ জন দগ্ধ হন। তাদের মধ্যে তিনজন মারা গেছেন।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au