আমিই তো ১০ হাজার কর্মী ছাঁটাই করব : একে আজাদ
মেলবোর্ন, ১০ জুন- দেশে ক্রমবর্ধমান উৎপাদন ব্যয়, শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য প্রতিযোগিতার চাপের কারণে বড় ধরনের জনবল সংকোচনের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন দেশের…
মেলবোর্ন, ১০ জুন- বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের ভূমি হারানো, দেশত্যাগ এবং অর্পিত সম্পত্তি আইন (ভেস্টেড প্রপার্টি অ্যাক্ট) ঘিরে পুরোনো বিতর্ক আবারও আলোচনায় এসেছে। সম্প্রতি প্রকাশিত এক বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, স্বাধীনতার পাঁচ দশক পরও সম্পত্তি পুনরুদ্ধার ও ক্ষতিগ্রস্ত সংখ্যালঘুদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে বিএনপির নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠনের পর সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে নতুন প্রত্যাশার সৃষ্টি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ও সমঅধিকার নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিলেও অর্পিত সম্পত্তি আইনসংক্রান্ত দীর্ঘদিনের সমস্যার বিষয়ে এখনো সুস্পষ্ট অবস্থান জানাননি বলে উল্লেখ করা হয়।
বিশ্লেষণে তুলে ধরা হয়, ১৯৫১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে হিন্দু জনসংখ্যা ছিল প্রায় ২২ শতাংশ। তবে ২০২২ সালের বাংলাদেশ জনশুমারিতে সেই হার কমে ৮ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আবুল বারকাতের গবেষণার উদ্ধৃতি দিয়ে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ১৯৬৪ থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে প্রায় ১ কোটি ১৩ লাখ হিন্দু বাংলাদেশ ছেড়ে চলে গেছেন। তার গবেষণা অনুযায়ী, প্রতিদিন গড়ে ৬৩২ জন হিন্দু দেশত্যাগ করেছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, পাকিস্তান আমলে প্রণীত ‘শত্রু সম্পত্তি আইন’ এবং স্বাধীনতার পর চালু থাকা ‘অর্পিত সম্পত্তি আইন’-এর কারণে বিপুল পরিমাণ হিন্দু মালিকানাধীন জমি ও সম্পত্তি সরকারের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। বিভিন্ন গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, ১৯৬৫ থেকে ২০০৬ সালের মধ্যে প্রায় ১২ লাখ হিন্দু পরিবার ২৬ লাখ একরের বেশি জমি হারিয়েছে। এ সময় বহু পরিবার ভূমিহীন হয়ে পড়ে এবং দেশত্যাগে বাধ্য হয় বলে দাবি করা হয়েছে।
আইনটির ইতিহাস তুলে ধরে প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশভাগের পর পূর্ব বাংলায় সাম্প্রদায়িক সহিংসতার প্রেক্ষাপটে হিন্দুদের ফেলে যাওয়া সম্পত্তি অধিগ্রহণের জন্য একাধিক আইন প্রণয়ন করা হয়। ১৯৬৫ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের পর ‘শত্রু সম্পত্তি আইন’ কার্যকর করা হয়, যা পরবর্তীতে স্বাধীন বাংলাদেশে ‘অর্পিত সম্পত্তি আইন’ হিসেবে বহাল থাকে। সমালোচকদের মতে, এই আইন বাস্তবে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সম্পত্তি দখলের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।
২০০১ সালে আওয়ামী লীগ সরকার অর্পিত সম্পত্তি ফেরত দেওয়ার লক্ষ্যে আইন পাস করলেও বাস্তবায়নে নানা জটিলতা দেখা দেয়। পরে বিএনপি সরকারের সময় সংশোধনের মাধ্যমে সম্পত্তি ফেরতের প্রক্রিয়া আরও ধীর হয়ে যায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ২০১১ সালে আওয়ামী লীগ সরকার নতুন সংশোধনী আনলেও অধিকাংশ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার এখনো তাদের সম্পত্তি ফেরত পায়নি বলে দাবি করা হয়।
মানবাধিকারকর্মী ও গবেষকদের মতে, প্রশাসনিক জটিলতা, দীর্ঘসূত্রতা, আদালতের মামলা, স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের বাধা এবং দুর্নীতির কারণে সম্পত্তি পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া কার্যকরভাবে এগোয়নি। অনেক ক্ষেত্রে আদালতের রায় পাওয়ার পরও জমি ফেরত মেলেনি বলে অভিযোগ রয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, সংখ্যালঘুদের সম্পত্তি পুনরুদ্ধার, ভূমি দখল প্রতিরোধ এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি ও গণতান্ত্রিক অঙ্গীকারের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে। নতুন সরকারের জন্য বিষয়টি একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au