২৪ বছরের অপেক্ষা ঘোচাতে মাঠে নামছে ব্রাজিল
মেলবোর্ন, ১৩ জুন- বিশ্বকাপের মঞ্চে ব্রাজিল মানেই ইতিহাস, ঐতিহ্য আর শিরোপার গৌরব। বিশ্বের একমাত্র দল হিসেবে প্রতিটি ফুটবল বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার কৃতিত্ব রয়েছে তাদের। পাঁচবার…
মেলবোর্ন, ১৩ জুন- বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সদস্য নাঈম হাসান চট্টগ্রামে পুলিশের হাতে মারধর ও হেনস্তার অভিযোগের ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরে জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, স্থানীয় মানুষের উপস্থিতি না থাকলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারত।
শনিবার বিকেলে চট্টগ্রাম নগরের বহদ্দারহাট এলাকার ফরিদাপাড়ায় নিজ বাসভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নাঈম হাসান বলেন, সিএনজি অটোরিকশায় তুলে নেওয়ার সময় তিনি চরম আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন।
নাঈম বলেন, “যখন সিএনজি অটোরিকশায় তুলে ফেলে, তখন খুব ভয় পেয়েছিলাম। সেখানে প্রায় ১০০ থেকে ১২০ জন সমর্থক ও স্থানীয় মানুষ জড়ো না হলে ঘটনাটি অন্য রকম হতে পারত। বিশেষ করে তাঁদের ধন্যবাদ জানাতে চাই। পুলিশ আমাকে খুলশী থানায় নিয়ে যাওয়ার পরও তারা থানায় এসে আমার পাশে ছিলেন। ফলে অন্য কিছু করার সুযোগ পায়নি।”
ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে যাতে আর কারও সঙ্গে এমন ঘটনা না ঘটে, সে বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি নিজেকে একজন সাধারণ জীবনযাপনকারী মানুষ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, পুলিশ চাইলে তাঁর সঙ্গে থাকা সবকিছু তল্লাশি করতে পারত। কিন্তু সিএনজিতে তোলার সময় তিনি বুঝতে পারেননি যে তাঁর গলা চেপে ধরা হবে।
নাঈম বলেন, “আমি ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। পরে থানায় গিয়ে আমার সঙ্গে থাকা একটি পিন পর্যন্ত তাদের দেখিয়েছি। আমার কাছে লুকানোর কিছু ছিল না।”
তিনি আরও জানান, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি তামিম ইকবালের হস্তক্ষেপের পর পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটে। নাঈমের ভাষ্য, “তামিম ইকবাল ভাই ফোন দেওয়ায় কাজ হয়েছে। তিনি যখন ওসি সাহেবের সঙ্গে কথা বলছিলেন, তখন আমি কথা বলতে চাইলে ওসি আমাকে আঙুল দেখিয়ে চুপ থাকতে বলেন।”
ঘটনার পর মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন জানিয়ে নাঈম বলেন, “আমি এখন কিছুটা একা থাকতে চাই।”
জানা গেছে, শুক্রবার রাতে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের খেলা শেষে ঢাকায় থেকে বিমানে চট্টগ্রামে ফেরেন নাঈম হাসান। বিমানবন্দর থেকে সিএনজি অটোরিকশায় বাসার উদ্দেশে রওনা হলে নগরের লালখান বাজার এলাকায় পুলিশ তাঁর অটোরিকশা থামায়। নাঈমের অভিযোগ, চালকের কাগজপত্র নেওয়ার পর তাঁকে গাড়ি থেকে নামিয়ে খুলশী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শফিকুল ইসলাম ও পুলিশের সোর্স সোহেল লাঠি ও পাইপ দিয়ে মারধর করেন। পরে একটি অটোরিকশায় করে তাঁকে খুলশী থানায় নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে আরও হেনস্তার শিকার হন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
পরে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপে তাঁকে থানা থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
ঘটনার পর চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) অভিযুক্ত দুই সদস্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে। সাময়িক বরখাস্ত হওয়া দুই পুলিশ সদস্য হলেন খুলশী থানার এসআই শফিকুল ইসলাম এবং কনস্টেবল মো. রাসেল চৌধুরী। শুক্রবার রাতেই তাঁদের খুলশী থানা থেকে প্রত্যাহার করে দামপাড়া পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়। একই ঘটনায় পুলিশের সোর্স সোহেলকেও আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সিএমপি।
এদিকে ঘটনার তদন্তে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। শনিবার দুপুরে নাঈম হাসানের বাসায় গিয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী। তিনি বলেন, তদন্তের ভিত্তিতে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au