নিখোঁজের দুই দিন পর বুড়িগঙ্গায় মিলল জাবি শিক্ষার্থী দ্বীপের মরদেহ
মেলবোর্ন,১৫ জুন- দুই দিন ধরে নিখোঁজ থাকার পর বুড়িগঙ্গা নদী থেকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করেছে নৌ-পুলিশ। এ ঘটনায় পরিবার, সহপাঠী ও বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে…
মেলবোর্ন, ১৪ জুন – আওয়ামী লীগ মানে বাংলাদেশের জন্মসনদ। ৫২, ৬৯, ৭১-এই দল ছাড়া এদেশের ইতিহাস লেখা যায় না। কিন্তু ইতিহাসের দলও সময়ের কাছে দায়বদ্ধ। ২০২৪-এর ৫ আগস্টের পর দল দাঁড়াইছে এক কঠিন বাঁকে। বাঁচতে হলে সাজতে হবে। নতুন করে সাজাতে হবে।
সবচেয়ে বড় ভুল-জামাত-বিএনপির লোক কমিটিতে। টাকার বিনিময়ে আদর্শবিরোধী মানুষ ঢুকছে। দরজা খুলে দিলে শত্রু বন্ধু সাজে। ঝড়ের দিনে এরাই পিঠে ছুরি মারে। বটগাছের গোড়ায় ঘুণ ধরলে গাছ পড়ে যায়।
২০১২-এর পর দল পুনর্গঠন নাই। নেতা ব্যস্ত “মাই ম্যান” আর ব্যবসায়। কর্মী মানে ভোটের লোক। সালাম দিলে উত্তর নাই। ফল? শেকড় শুকায় গেছে। ওপরে পাতা সবুজ, গোড়ায় পানি নাই।
একই পরিবারে মন্ত্রী, এমপি, চেয়ারম্যান, মেয়র। নেতার ছেলে মানেই নেতা। এটা রাজনীতি না, কোম্পানি। রক্ত মুখ্য হলে মেধা মরে। ভারতের কংগ্রেস এই রোগেই শেষ।
দল বাঁচাতে হলে এখন সাংগঠনিক সার্জারি লাগবে। বিশ্বের টিকে থাকা দলগুলোর অভিজ্ঞতা আর আমাদের বাস্তবতা মিলিয়ে কিছু প্রস্তাবনা:
জাতির পিতার কন্যা শেখ হাসিনা ছাড়া আওয়ামী লীগ অতীব গুরুত্বপূর্ণ না। তিনি যতদিন বেঁচে আছেন, ততদিন দলের দায়িত্ব তাঁকেই পালন করতে হবে। তিনি দলের আত্মা, দিকনির্দেশনা।
কিন্তু দলের ভার একা বহন করা কঠিন। তাই একজন “কার্যকরী সভাপতি” করা যেতে পারে। যিনি দৈনন্দিন সাংগঠনিক কাজ দেখবেন, সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করবেন। নেত্রী থাকবেন নীতির জায়গায়, কৌশলের জায়গায়। যেমন চীনে শি জিনপিং আছেন, পাশে প্রধানমন্ত্রী আছেন। নেতৃত্বের ভার ভাগ হলে দলও হাঁপ ছেড়ে বাঁচবে।
এত বড় দলের মুখপাত্র একজন নাই। দলের জন্য ২ জন মুখপাত্র থাকলে ভালো হবে । একজন রাজনৈতিক বার্তা দিবেন, আরেকজন উন্নয়ন-সাফল্যের কথা বলবেন। যাতে মানুষ দলকে একমুখী না, বহুমুখী মনে করে। ভারতের বিজেপি, আমেরিকার ডেমোক্র্যাট—সবার একাধিক মুখপাত্র আছে। এতে বার্তা দ্রুত ছড়ায়, ভুল ব্যাখ্যা কমে।
দলের ভেতরের গণতন্ত্র মরে গেছে। কাউন্সিল মানে সিলেকশন। এটা চলবে না। গণতন্ত্র পরিবর্তন করে নতুন করে সাজাতে হবে।
কীভাবে? তৃণমূল থেকে ভোট। ইউনিয়ন-ওয়ার্ড থেকে নেতা উঠবে। প্যানেল ভোট হবে। যোগ্যরাই উঠে আসবে। চীনের কমিউনিস্ট পার্টি ৫ বছর পর কংগ্রেস করে, লক্ষ নেতা ভোট দেয়। আমরা পারবো না কেন? ভেতরে গণতন্ত্র না থাকলে বাইরে গণতন্ত্রের কথা মানায় না।
এত বড় রাজনৈতিক দল, অথচ কেন্দ্রীয় কমিটি মাত্র ৮১ সদস্য বিশিষ্ট । এতে প্রতিনিধিত্ব থাকে না। দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সংখ্যা ৩০০-এর অধিক করতে হবে।
সারাদেশের প্রতিটা অঞ্চল, পেশা, তরুণ, নারী—সবার প্রতিনিধি থাকবে। বড় কমিটি মানে বড় পরিবার। সবার কথা শোনা যাবে। সিদ্ধান্তে ভুল কম হবে।
একজন সাধারণ সম্পাদকের পক্ষে সারাদেশ সামলানো অসম্ভব। তাই দলের সাধারণ সম্পাদক দুইজন কার্যকরী করা যেতে পারে। একজন সাংগঠনিক কাজ, আরেকজন রাজনৈতিক যোগাযোগ দেখবেন। ভার দোভাগ হলে কাজের গতি বাড়বে। জবাবদিহিও বাড়বে।
নেতৃত্ব নির্বাচনে তৃণমূল থেকে জাতীয় পর্যন্ত আদর্শিক চেতনার সঠিক মানুষদের মূল্য দিতে হবে। সম্মান করতে হবে। যে জেলে গেছে, মার খাইছে, সংকটে দল ছাড়ে নাই—সে-ই নেতা হবে। নেতার ছেলে না, আদর্শের সন্তান নেতা হবে।
আওয়ামী লীগ টিকবে কাঠামো দিয়া, আদর্শ দিয়া, ত্যাগ দিয়া। টাকা দিয়া না, পরিবার দিয়া না।
শেখ হাসিনা আছেন—এটাই দলের সবচেয়ে বড় শক্তি। তাঁর নেতৃত্বে দলকে নতুন করে সাজান। কমিটি বড় করেন, মুখপাত্র বাড়ান, সাধারণ সম্পাদক দুইজন করেন, ভেতরে গণতন্ত্র ফিরান।
পোকা-মাকড় তাড়ান। আদর্শিক মানুষকে সামনে আনেন। শেকড়ে পানি দেন। গাছ আবার সবুজ হবে।
আওয়ামী লীগ বাঁচুক। বাংলাদেশ বাঁচুক। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাঁচুক।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au