নিখোঁজের দুই দিন পর বুড়িগঙ্গায় মিলল জাবি শিক্ষার্থী দ্বীপের মরদেহ
মেলবোর্ন,১৫ জুন- দুই দিন ধরে নিখোঁজ থাকার পর বুড়িগঙ্গা নদী থেকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করেছে নৌ-পুলিশ। এ ঘটনায় পরিবার, সহপাঠী ও বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে…
মেলবোর্ন, ১৪ জুন: ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর জমকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশ্বদরবারে বাংলাদেশের পরিচয় তুলে ধরে প্রশংসা কুড়িয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন ডিজে, সংগীত পরিচালক ও শিল্পী সঞ্জয় দেব। কানাডার টরন্টোর বিএমও স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই বৈশ্বিক আয়োজনে তাঁর উপস্থিতি এবং পারফরম্যান্স কোটি বাংলাদেশির জন্য গর্ব ও আবেগের এক অনন্য মুহূর্ত হয়ে উঠেছে।
স্থানীয় সময় শুক্রবার (১২ জুন) অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কানাডীয় শিল্পী নোরা ফাতেহি এবং ফরাসি হিপহপ তারকা ভেজেড্রিম-এর সঙ্গে ফিফার নতুন সংগীত ‘সির সির’ পরিবেশন করেন সঞ্জয় দেব। বিশ্বকাপের মতো মর্যাদাপূর্ণ মঞ্চে তাঁর প্রাণবন্ত পরিবেশনা দর্শকদের মুগ্ধ করলেও বাংলাদেশের মানুষের দৃষ্টি বিশেষভাবে আকর্ষণ করে তাঁর পোশাক।
মেরুন রঙের বিশেষ স্যুটে তিনি ধারণ করেছিলেন বাংলাদেশের জাতীয় পরিচয়ের নানা প্রতীক। জ্যাকেটজুড়ে ফুটে উঠেছিল সুন্দরবনের রয়েল বেঙ্গল টাইগার, জাতীয় ফুল শাপলা এবং বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকার নকশা। পারফরম্যান্সের সময় বারবার তিনি তাঁর পোশাকের এসব প্রতীকের দিকে ইঙ্গিত করে যেন বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের অস্তিত্ব ও সংস্কৃতিকে তুলে ধরেছেন। অনেকের কাছে এটি ছিল এক আবেগঘন বার্তা—“এটাই আমার বাংলাদেশ।”

বিশ্বকাপের মঞ্চে লাল-সবুজের গর্ব—পোশাকে রয়েল বেঙ্গল টাইগার, শাপলা ও বাংলাদেশের পতাকার নকশা তুলে ধরলেন সঞ্জয় দেব। ছবি: সংগৃহীত
কয়েক বছর আগেও বিশ্বকাপের উদ্বোধনী মঞ্চে বাংলাদেশের পতাকা, শাপলা কিংবা বেঙ্গল টাইগারের প্রতীক দেখা যাবে—এমন দৃশ্য অনেকের কাছেই কল্পনার মতো মনে হতো। কিন্তু ২০২৬ সালের বিশ্বকাপের উদ্বোধনী আয়োজনে সেই কল্পনাই বাস্তবে রূপ নেয় সঞ্জয় দেবের মাধ্যমে।
সঞ্জয় দেবের শিকড় বাংলাদেশের সিলেট অঞ্চলে। তাঁর জন্ম শ্রীমঙ্গল-এ। বাবা সন্তোষ দেব ও মা মিতা দেবের সঙ্গে প্রায় দুই দশক আগে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। সেখানেই সংগীতচর্চার মাধ্যমে নিজের শিল্পীসত্তাকে বিকশিত করেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি বাংলাদেশের বিভিন্ন শিল্পীর জন্য গান তৈরি করেছেন এবং বলিউডের সঙ্গীতাঙ্গনেও কাজ করেছেন।
দীর্ঘ পরিশ্রম, নিষ্ঠা ও প্রতিভার স্বীকৃতি হিসেবে এবার তিনি জায়গা করে নিয়েছেন বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রীড়া আসরের উদ্বোধনী মঞ্চে। তবে তাঁর অর্জনকে আরও অর্থবহ করেছে নিজের পোশাকের মাধ্যমে জন্মভূমি বাংলাদেশের পরিচয় বিশ্বদরবারে তুলে ধরার উদ্যোগ।
বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের একটি ৬৫ সেকেন্ডের ভিডিও ক্লিপ সঞ্জয় দেব তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করেন। ভিডিওটি প্রকাশের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ব্যাপক সাড়া ফেলে। মাত্র ১০ ঘণ্টায় ভিডিওটির ভিউ ছাড়িয়ে যায় ৬০ লাখ, রিঅ্যাকশন পড়ে প্রায় সাড়ে তিন লাখ। পাশাপাশি পোস্টটি প্রায় ১০ হাজার বার শেয়ার করা হয় এবং চার হাজারের বেশি মন্তব্য জমা পড়ে।
বিশ্বকাপের মঞ্চে সঞ্জয় দেবের এই উপস্থিতি শুধু একজন শিল্পীর ব্যক্তিগত সাফল্যের গল্প নয়; এটি বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের সংস্কৃতি, পরিচয় ও সম্ভাবনার এক উজ্জ্বল উপস্থাপনাও বটে। তাঁর এই অর্জন বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা বাংলাদেশিদের জন্য গর্বের এক নতুন অধ্যায় হয়ে থাকবে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au