ক্যালিফোর্নিয়া ছাড়লেন মাস্ক
মেলবোর্ন, ১৪ জুন- বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নেয়ার হওয়ার পর আবারও আলোচনায় এসেছেন প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্ক। তবে এবার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে তার সম্পদ নয়, বরং ছয় বছর আগের একটি বিতর্কিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্ট, যা নিয়ে সমালোচকদের দাবি, ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যকে বিলিয়ন ডলারের অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে ফেলেছিল।
ঘটনার সূত্রপাত ২০২০ সালের মে মাসে। সে সময় ক্যালিফোর্নিয়া ফেডারেশন অব লেবার ইউনিয়নসের সভাপতি লোরেনা গনজালেজ ফ্লেচার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (তৎকালীন টুইটার) ইলন মাস্ককে উদ্দেশ করে একটি কটূক্তিমূলক তিন শব্দের বার্তা পোস্ট করেন।
এর একদিন পর ইলন মাস্ক সংক্ষিপ্ত জবাব দেন, “বার্তাটি পেয়েছি।”
পরবর্তীতে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই মন্তব্যই টেসলার সদরদপ্তর ক্যালিফোর্নিয়া থেকে টেক্সাসে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছিল। এমন একটি প্রতিবেদনের প্রতিক্রিয়ায় মাস্ক “একদম ঠিক” মন্তব্য করলে বিষয়টি নতুন মাত্রা পায়।
সমালোচকদের মতে, টেসলা, স্পেসএক্স এবং এক্সের মতো প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম টেক্সাসে স্থানান্তরের ফলে ক্যালিফোর্নিয়া বিপুল কর রাজস্ব, বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ হারিয়েছে।
বিনিয়োগ ব্যাংকার জন লে ফেভর এক্সে লিখেছেন, “একটি মাত্র টুইট ক্যালিফোর্নিয়ার শত শত বিলিয়ন ডলার কর রাজস্ব, বিনিয়োগ এবং চাকরির সুযোগ নষ্ট করেছে।”
আরেকজন মন্তব্য করেন, “এটি সম্ভবত ক্যালিফোর্নিয়ার ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যয়বহুল টুইট।”
সম্প্রতি স্পেসএক্সের রেকর্ড গড়া শেয়ারবাজারে আত্মপ্রকাশের (আইপিও) পর ইলন মাস্কের সম্পদের পরিমাণ এক ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যায়। এর ফলে তিনি বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নেয়ার হিসেবে ইতিহাস গড়েন।
তবে ক্যালিফোর্নিয়া ছাড়ার পেছনে শুধু ওই টুইটই নয়, আরও বেশ কয়েকটি কারণ ছিল বলে জানিয়েছেন মাস্ক। তার দাবি, অঙ্গরাজ্যটি ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে আত্মতুষ্ট হয়ে পড়েছিল। এছাড়া করোনা মহামারির সময় টেসলার কারখানা পুনরায় চালু করা নিয়ে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে বিরোধ এবং লিঙ্গ পরিচয়সংক্রান্ত একটি ক্যালিফোর্নিয়া আইনের বিরুদ্ধেও তিনি প্রকাশ্যে অবস্থান নেন।
অন্যদিকে, ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম সম্প্রতি মাস্কের ট্রিলিয়নেয়ার হওয়া নিয়ে সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, “যখন সাধারণ মানুষ নিত্যপণ্যের দাম নিয়ে হিমশিম খাচ্ছে, তখন ইলন মাস্ক ট্রিলিয়নেয়ার হচ্ছেন। ধনীরা আরও ধনী হচ্ছে, আর সাধারণ মানুষ পিছিয়ে পড়ছে।”
গভর্নরের ওই মন্তব্যকে সমর্থন জানিয়ে লোরেনা গনজালেজ ফ্লেচারও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, “গ্যাভিন নিউসমের এই অবস্থান আমার ভালো লেগেছে। এখন আমাদের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে?”
বিশ্লেষকদের মতে, ইলন মাস্কের ক্যালিফোর্নিয়া ত্যাগ এবং তার ব্যবসায়িক সাম্রাজ্যের টেক্সাসমুখী হওয়া যুক্তরাষ্ট্রে ব্যবসা, রাজনীতি ও অর্থনীতির সম্পর্ক নিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। আর সেই বিতর্কে ছয় বছর আগের একটি সংক্ষিপ্ত টুইট আবারও আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে।