নিখোঁজের দুই দিন পর বুড়িগঙ্গায় মিলল জাবি শিক্ষার্থী দ্বীপের মরদেহ
মেলবোর্ন,১৫ জুন- দুই দিন ধরে নিখোঁজ থাকার পর বুড়িগঙ্গা নদী থেকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করেছে নৌ-পুলিশ। এ ঘটনায় পরিবার, সহপাঠী ও বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে…
মেলবোর্ন,১৫ জুন- সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের গ্রেপ্তারের খবরে নতুন করে আলোচনায় এসেছে আন্তর্জাতিক প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া, ইন্টারপোলের রেড নোটিশ এবং বাংলাদেশে তাকে ফিরিয়ে আনার সম্ভাবনা। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলার ভিত্তিতে ইন্টারপোলের সহযোগিতায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
সরকারি সূত্র অনুযায়ী, গত ১২ জুন দুবাইয়ে বেনজীর আহমেদকে আটক করে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এর আগে দুদকের আবেদনের পর আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করলে বিষয়টি ইন্টারপোলে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি করা হয়।
ইন্টারপোলের নোটিশে বেনজীর আহমেদকে বিচার এড়াতে পলাতক হিসেবে উল্লেখ করা হয়। সেখানে তার বিরুদ্ধে অর্থ পাচার, জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগের কথা বলা হয়েছে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ১১ কোটি ৪২ লাখ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন এবং প্রায় ৯ কোটি ৪৪ লাখ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের মালিকানা ও ভোগদখলের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। তদন্তে অবৈধ অর্থ বিদেশে পাচারের সন্দেহও প্রকাশ করা হয়েছে।
পুলিশ সদরদপ্তরের সূত্রের দাবি, লন্ডন থেকে এশিয়ার একটি দেশের উদ্দেশে যাত্রাকালে দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ট্রানজিটে নামেন বেনজীর আহমেদ। বিমানবন্দরের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ফেস রিকগনিশন প্রযুক্তি তার পরিচয় শনাক্ত করে। পরে আন্তর্জাতিক অপরাধী ডেটাবেজে তথ্য মিলিয়ে তাকে আটক করা হয়। যদিও এ বিষয়ে দুবাই পুলিশ বা ইন্টারপোল এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি দেয়নি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রেড নোটিশ কোনো আন্তর্জাতিক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা নয়। এটি সদস্য রাষ্ট্রগুলোর কাছে কোনো পলাতক ব্যক্তিকে শনাক্ত ও সাময়িকভাবে আটকের অনুরোধ মাত্র। ফলে গ্রেপ্তার হওয়ার পরও তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য পৃথক প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আইন অনুযায়ী গ্রেপ্তারের ৩০ দিনের মধ্যে বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ আবেদন করতে হবে। এজন্য আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা, মামলার এজাহার, অভিযোগপত্র, তদন্ত প্রতিবেদন, অপরাধের বিবরণ এবং সংশ্লিষ্ট আইনি নথিপত্র ইউএই কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে।
এরপর আমিরাতের আদালত যাচাই করবে, বাংলাদেশে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে সেগুলো ইউএইর আইনেও অপরাধ হিসেবে গণ্য হয় কি না। আন্তর্জাতিক আইনে এই নীতিকে বলা হয় ‘ডুয়াল ক্রিমিন্যালিটি’।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, বেনজীর আহমেদকে ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থান তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী। কারণ তিনি ইতোমধ্যে ইউএইর হেফাজতে রয়েছেন এবং তার বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো রাজনৈতিক নয়; বরং দুর্নীতি, অবৈধ সম্পদ অর্জন ও অর্থ পাচারের মতো আর্থিক অপরাধসংক্রান্ত। এছাড়া তার বিরুদ্ধে আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ও মামলার নথিও রয়েছে।
তবে প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়ায় আইনি বাধাও আসতে পারে। বেনজীর আহমেদ চাইলে ইউএই আদালতে প্রত্যর্পণের বিরুদ্ধে আপত্তি জানাতে পারবেন। তার আইনজীবীরা মামলাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করতে পারেন কিংবা দেশে ন্যায়বিচার পাওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন তুলতে পারেন। ফলে আপিল ও বিচারিক প্রক্রিয়ার কারণে সময় দীর্ঘ হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে ২০১৪ সালে স্বাক্ষরিত প্রত্যর্পণ চুক্তি এই প্রক্রিয়াকে সহজ করেছে। এর আওতায় এর আগেও একাধিক পলাতক আসামিকে দুবাই থেকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। নরসিংদীর শিবপুর উপজেলা চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা হারুন অর রশিদ খান হত্যা মামলার দুই আসামি আরিফ সরকার ও মহসিন মিয়াকে সম্প্রতি একই প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর ধারণা, প্রয়োজনীয় নথিপত্র দ্রুত পাঠানো এবং কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত থাকলে বেনজীর আহমেদকে তিন থেকে ছয় মাসের মধ্যে দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হতে পারে। তবে দীর্ঘ আইনি লড়াই শুরু হলে পুরো প্রক্রিয়া এক থেকে দুই বছর বা তারও বেশি সময় নিতে পারে। এখন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আদালত ও প্রশাসনের ওপর।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au