নিখোঁজের দুই দিন পর বুড়িগঙ্গায় মিলল জাবি শিক্ষার্থী দ্বীপের মরদেহ
মেলবোর্ন,১৫ জুন- দুই দিন ধরে নিখোঁজ থাকার পর বুড়িগঙ্গা নদী থেকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করেছে নৌ-পুলিশ। এ ঘটনায় পরিবার, সহপাঠী ও বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে…
মেলবোর্ন, ১৪ জুন- রাশিয়ায় একের পর এক মুসলিম ধর্মীয় নেতা, আলেম ও মুসলিম কমিউনিটির প্রতিনিধিদের গ্রেফতার ও জিজ্ঞাসাবাদের ঘটনায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মানবাধিকারকর্মী ও বিশ্লেষকদের একাংশের দাবি, এসব ঘটনা দেশটিতে ক্রমবর্ধমান ইসলামবিদ্বেষ, অভিবাসীবিরোধী মনোভাব এবং মুসলিম সম্প্রদায়ের ওপর রাজনৈতিক চাপের ইঙ্গিত বহন করছে। তবে রুশ কর্তৃপক্ষ বলছে, গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট আইনি অভিযোগ রয়েছে এবং এসব পদক্ষেপের সঙ্গে ধর্মীয় পরিচয়ের কোনো সম্পর্ক নেই।
গত মে মাসে রাশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে অন্তত আটজন মুসলিম আলেম ও কমিউনিটি নেতাকে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন কারেলিয়ার সাবেক মুফতি উইসাম বার্দভিল। রুশ সংবাদ সংস্থা তাসের তথ্য অনুযায়ী, শেরেমেতিয়েভো বিমানবন্দরে পুলিশের নির্দেশ অমান্যের অভিযোগে তাকে ১৫ দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
এ ছাড়া বার্দভিলের সহযোগী আখমাদ তাঙ্গিয়েভ, মর্দোভিয়ার মুফতি রয়াল আসেনভ, সেন্ট পিটার্সবার্গভিত্তিক মুসলিম সংগঠনের সাবেক চেয়ারম্যান মুহাম্মদ খেনি এবং আরও কয়েকজন মুসলিম নেতাকে বিভিন্ন অভিযোগে আটক করা হয়েছে বলে স্থানীয় ও স্বাধীন সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে।
রুশ তদন্ত সংস্থার সূত্র উদ্ধৃত করে কিছু সংবাদমাধ্যম দাবি করেছে, কয়েকজন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে নিষিদ্ধ ঘোষিত মুসলিম ব্রাদারহুডের সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগ আনা হয়েছে। রাশিয়া ২০০৩ সালে মুসলিম ব্রাদারহুডকে সন্ত্রাসী ও চরমপন্থি সংগঠন হিসেবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে।
তবে সমালোচকদের মতে, অভিযোগগুলোর প্রকৃতি এবং গ্রেফতারের ধারাবাহিকতা মুসলিম ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর বাড়তি নজরদারি ও চাপের ইঙ্গিত দেয়। বিশেষ করে রাশিয়ার মুসলিমদের প্রধান সংগঠন স্পিরিচুয়াল বোর্ড অব মুসলিমস (ডিইউএম) ঘিরে বিতর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে।
সম্প্রতি ডিইউএম-এর প্রথম উপপ্রধান দামির মুখেতদিনভকে একটি ঐতিহাসিক চিত্রকর্ম প্রদর্শনের কারণে সমালোচনার মুখে পড়তে হয়। চিত্রকর্মটিতে ১২২৩ সালের কালকা যুদ্ধের দৃশ্য তুলে ধরা হয়েছিল। কট্টর জাতীয়তাবাদী গোষ্ঠীগুলো এটিকে ‘রাশিয়াবিরোধী’ বলে আখ্যা দেয় এবং ডিইউএম-এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তোলে।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের শাসনামলে রুশ জাতীয় পরিচয়ের যে নতুন বয়ান গড়ে উঠেছে, সেখানে অর্থোডক্স খ্রিস্টান ঐতিহ্যকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ফলে মুসলিম ও অন্যান্য জাতিগত সংখ্যালঘুদের সাংস্কৃতিক পরিচয়ের পরিসর সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এদিকে রাশিয়ার পার্লামেন্টে আবাসিক ভবনে ধর্মীয় সমাবেশ ও জামাতে নামাজের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের একটি বিতর্কিত বিল নিয়েও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। ডিইউএম প্রধান মুফতি রাভিল গাইনুতদিন এ বিলের বিরুদ্ধে সরাসরি প্রেসিডেন্ট পুতিনের কাছে আবেদন জানিয়েছেন। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, নতুন আইন মুসলিমদের ধর্মীয় স্বাধীনতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে এবং সামাজিক বিভাজন বাড়াতে পারে।
পর্যবেক্ষকদের একাংশ মনে করছেন, বিলটির বিরুদ্ধে গাইনুতদিনের প্রকাশ্য অবস্থানের পরপরই মুসলিম আলেমদের বিরুদ্ধে অভিযানের ঘটনা কাকতালীয় নয়। যদিও এ বিষয়ে রুশ সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।
বর্তমানে রাশিয়ায় প্রায় দুই কোটির বেশি মুসলিম বাস করেন, যা ইউরোপের সবচেয়ে বড় মুসলিম জনগোষ্ঠীগুলোর একটি। দীর্ঘদিন ধরে ক্রেমলিন মুসলিম সম্প্রদায়ের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা করলেও ইউক্রেন যুদ্ধের পর দেশটিতে অভিবাসীবিরোধী ও ইসলামবিদ্বেষী বক্তব্য আরও দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন গবেষকরা।
ফলে সাম্প্রতিক গ্রেফতারগুলো শুধুমাত্র আইনি পদক্ষেপ নাকি মুসলিম সম্প্রদায়ের ওপর ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক ও সামাজিক চাপের অংশ, তা নিয়ে রাশিয়ার ভেতরে এবং আন্তর্জাতিক মহলে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে।
সূত্র : বিবিসি বাংলা
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au