নিখোঁজের দুই দিন পর বুড়িগঙ্গায় মিলল জাবি শিক্ষার্থী দ্বীপের মরদেহ
মেলবোর্ন,১৫ জুন- দুই দিন ধরে নিখোঁজ থাকার পর বুড়িগঙ্গা নদী থেকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করেছে নৌ-পুলিশ। এ ঘটনায় পরিবার, সহপাঠী ও বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে…
মেলবোর্ন, ১৪ জুন- বিশ্বের অন্যতম ধনী ব্যক্তি এবং প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্ক বিপুল সম্পদের মালিক হলেও তার বর্তমান জীবনযাপন অনেকের কাছেই বিস্ময়কর। ট্রিলিয়ন ডলার সম্পদের মালিক হওয়ার পরও তিনি কোনো বিলাসবহুল প্রাসাদে নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে মাত্র ৪০০ বর্গফুটের একটি ছোট ঘরে বসবাস করছেন। তার এই জীবনধারা আবারও আলোচনায় এসেছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মহাকাশ গবেষণা প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের শেয়ার বিক্রি ও ব্যবসায়িক সাফল্যের ফলে ইলন মাস্কের সম্পদের পরিমাণ নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। কিন্তু সম্পদের এই বিপুলতা তার ব্যক্তিগত জীবনযাপনে তেমন প্রভাব ফেলেনি।
বর্তমানে তিনি টেক্সাসের বোকা চিকায় স্পেসএক্সের ‘স্টারবেস’ রকেট উৎক্ষেপণ কেন্দ্রের কাছাকাছি একটি ছোট ভাড়াবাড়িতে থাকেন। ‘বক্সাবল’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের তৈরি প্রিফ্যাব্রিকেটেড এই ঘরটির আয়তন মাত্র ২০ ফুট বাই ২০ ফুট বা প্রায় ৪০০ বর্গফুট। ঘরটির বাজারমূল্য প্রায় ৫০ হাজার মার্কিন ডলার।
ছোট হলেও বাড়িটিতে রয়েছে প্রয়োজনীয় সব সুবিধা। একটি ছোট বসার ঘর, শোবার জায়গা, রান্নাঘর এবং সাধারণ বাথরুম নিয়ে সাজানো এই বাসস্থানে অত্যন্ত সাদামাটাভাবে জীবনযাপন করেন মাস্ক। জায়গা সাশ্রয়ের জন্য সেখানে ভাঁজ করে রাখা যায় এমন ‘মারফি বেড’ ব্যবহার করা হয়েছে। রান্নাঘরেও রয়েছে কেবল প্রয়োজনীয় কিছু সরঞ্জাম।
ইলন মাস্কের মা মে মাস্ক একবার এই বাড়ি পরিদর্শন করে জানিয়েছিলেন, সেখানে কোনো বিলাসবহুল আসবাবপত্র নেই। এমনকি অনেক সময় ফ্রিজেও খাবার মজুত থাকে না। পুরো পরিবেশই অত্যন্ত সাধারণ এবং কাজকেন্দ্রিক।
মাস্কের ঘনিষ্ঠরা জানান, দীর্ঘদিন ধরেই তিনি বিলাসবহুল জীবনধারার প্রতি অনাগ্রহী। অতীতে টেসলার উৎপাদন সংকটের সময় তিনি কারখানার ভেতরেই রাত কাটিয়েছেন। কাজের অগ্রগতির জন্য অনেক সময় অফিস বা কারখানার মেঝেতেও ঘুমিয়েছেন বলে জানা যায়।
যদিও মাস্কের নামে বা তার কোম্পানির মালিকানায় টেক্সাসের অস্টিন এলাকায় কয়েকটি বড় ও বিলাসবহুল বাড়ি রয়েছে, যেগুলোর সম্মিলিত মূল্য প্রায় ৩ কোটি ৫০ লাখ ডলার। এসব বাড়ির আয়তন ৬ হাজার থেকে ৯ হাজার বর্গফুট পর্যন্ত এবং সেখানে সুইমিং পুলসহ নানা আধুনিক সুবিধাও রয়েছে। তবে তিনি সেসব বাড়িতে নিয়মিত বসবাস না করে ছোট এই ঘরকেই নিজের প্রধান বাসস্থান হিসেবে বেছে নিয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, ইলন মাস্কের এই সিদ্ধান্ত তার ব্যক্তিত্ব ও কর্মদর্শনেরই প্রতিফলন। তিনি বরাবরই বলে আসছেন, ব্যক্তিগত বিলাসিতার চেয়ে প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন, মহাকাশ গবেষণা এবং মানবজাতির ভবিষ্যৎ উন্নয়ন তার কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
স্পেসএক্সের উচ্চাভিলাষী ‘স্টারশিপ’ প্রকল্পের কাজ সরাসরি পর্যবেক্ষণ ও দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুবিধার জন্যই তিনি রকেট উৎক্ষেপণ কেন্দ্রের কাছাকাছি এই ছোট ঘরে থাকছেন। বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তিদের একজন হয়েও সাদামাটা জীবনযাপনের এই উদাহরণ প্রযুক্তি জগতে এখনও ব্যতিক্রম হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।
সূত্র : এনডিটিভি
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au