বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ৬ আগষ্ট- বাংলাদেশ ছাড়তে বাধ্য হলেও দেশের মানুষের কাছ থেকে কখনো বিচ্ছিন্ন হননি বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, গত দুই বছর ধরে তিনি প্রিয় বাংলাদেশকে কষ্ট পেতে দেখেছেন এবং বর্তমান পরিস্থিতি সেই বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবি নয়, যে বাংলাদেশ স্বাধীনতার জন্য ১৯৭১ সালে ৩০ লাখ মানুষ জীবন উৎসর্গ করেছিলেন।
বুধবার (৫ আগস্ট) ভারতের নয়াদিল্লিতে ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব অব সাউথ এশিয়ার আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেন শেখ হাসিনা। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশ ছাড়ার পর এটি ছিল গণমাধ্যমের সামনে তাঁর প্রথম আনুষ্ঠানিক বক্তব্য। বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বারবার আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, পরিবারের সদস্য ও মুক্তিযুদ্ধে নিহতদের স্মরণ করেন।
শেখ হাসিনা বলেন, “গত দুই বছর ধরে আমি আমার প্রিয় বাংলাদেশকে কষ্ট পেতে দেখেছি। এটি সেই বাংলাদেশ নয়, যে বাংলাদেশের জন্য ১৯৭১ সালে ৩০ লাখ মানুষ জীবন দিয়েছেন।”
তিনি দাবি করেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ঘটনাপ্রবাহকে শান্তিপূর্ণ ছাত্র আন্দোলন হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। তাঁর ভাষ্য, শুরু থেকেই সরকার সংলাপ, আইনি প্রক্রিয়া ও ধৈর্যের মাধ্যমে পরিস্থিতি সমাধানের চেষ্টা করেছিল। তবে সংস্কারের দাবির আড়ালে সংঘবদ্ধ কিছু গোষ্ঠী ছাত্রদের আন্দোলনকে সহিংস রাজনৈতিক কর্মসূচিতে পরিণত করে এবং শেষ পর্যন্ত তা তাঁর পদত্যাগের এক দফা দাবিতে রূপ নেয়।
শেখ হাসিনা বলেন, “জুলাই ও আগস্ট ২০২৪ সম্পর্কে সত্য কথাটি বলতে চাই। এটি কোনো শান্তিপূর্ণ ছাত্র আন্দোলন ছিল না। পর্দার আড়ালে সংগঠিত গোষ্ঠীগুলো ছাত্রদের দাবিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করেছে।”
বাংলাদেশে কবে ফিরবেন, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “সময় এলে আমি নিজেই সব জানাব।”
নিজের বিরুদ্ধে দেওয়া মৃত্যুদণ্ড ও একাধিক মামলার প্রসঙ্গ তুলে শেখ হাসিনা বলেন, মৃত্যুদণ্ড, মিথ্যা মামলা কিংবা সাজানো বিচার তাঁকে ভয় দেখাতে পারবে না। তাঁর দাবি, মৃত্যুদণ্ডের রায় একটি অবৈধ, অসাংবিধানিক ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রক্রিয়ার অংশ।
অনুষ্ঠানের আগে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় স্পষ্ট করে জানায়, এটি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের আয়োজন এবং এর সঙ্গে ভারত সরকারের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, এই অনুষ্ঠানে ব্যক্ত হওয়া কোনো বক্তব্য বা মতামতকে ভারত সরকার সমর্থন করে না।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনা দেশ ত্যাগ করে ভারতে আশ্রয় নেন। এরপর তাঁর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধসহ একাধিক মামলার বিচার শুরু হয়। তাঁর দল আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রমও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। চলতি বছরের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অংশ নিতে না পারায় দলটি নির্বাচনের বাইরে থাকে। বাংলাদেশের বর্তমান সরকার জানিয়েছে, শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী তাঁর বিরুদ্ধে বিচারিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।